ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিয়ের জন্য পাত্র খুঁজতে গুগল ফর্ম বেছে নিলেন ৩৬ বছরের এরিন প্যাটারসন


বিয়ের জন্য পাত্র খুঁজতে গুগল ফর্ম বেছে নিলেন ৩৬ বছরের এরিন প্যাটারসন

জীবনসঙ্গী খুঁজতে এক অভিনব পন্থা গ্রহণ করেছেন ৩৬ বছর বয়সী আমেরিকার এক নারী। তিনি ‘হাজব্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন’ নামক একটি গুগল ফর্ম তৈরি করেছেন পাত্র খুঁজে বের করার জন্য। তার এই উদ্যোগ ইতিমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে—সংগ্রহ হয়েছে ২৪১টি আবেদনপত্র এবং ১,০০০ থেকে ১,৫০০টি সরাসরি বার্তা এসেছে তার কাছে। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ পায়।

নর্থ ক্যারোলিনার শার্লট শহরের বাসিন্দা এরিন প্যাটারসন দীর্ঘদিন ধরে উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খুঁজছিলেন। ডেটিং অ্যাপ এবং পরিচিতদের মাধ্যমে নানাভাবে চেষ্টা করেও তিনি মনের মতো মানুষের সন্ধান পাননি। অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সঙ্গীকে পেতে তিনি এক অভিনব পথ বেছে নিয়েছেন।

ফর্মটিতে নাম, বয়স ও ফোন নম্বরের পাশাপাশি সম্ভাব্য পাত্রদের জন্য বেশ কিছু প্রশ্ন রাখা হয়েছে। যেমন—পাত্রের পেশা কী, দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কেমন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী, বিয়ে ও পরিবার নিয়ে তার চিন্তাভাবনা এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর প্রত্যাশা কী? এমনকি কোনো একটি বিষয় নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা চালিয়ে যেতে হলে সেটি কি হতে পারে, এমন বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কেবল বাহ্যিক রূপ বা পেশাগত পরিচয় নয়, সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীর ব্যক্তিত্ব, জীবনযাত্রার ধরন ও ভবিষ্যৎ ভাবনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করাই ছিল এই ফর্মটির প্রধান উদ্দেশ্য।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

জীবনসঙ্গী বেছে নিতে নিজের পছন্দের বিষয়টি ফর্মে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এরিন। পাত্রকে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী, অবিবাহিত এবং বয়স ২৮ থেকে ৪৭ বছরের মধ্যে হতে হবে। তিনি এমন কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে চান, যিনি বিয়ে করে সংসার ও সন্তান নিয়ে থাকতে আগ্রহী। এছাড়া ফর্মে তিনি উল্লেখ করেন, কফি বা ডিনার ডেটে গল্পগুজব করতে পারেন—এমন একজন সুদর্শন, বুদ্ধিমান, দয়ালু, বিশ্বস্ত ও উদার পুরুষের সঙ্গই তার পছন্দ। তবে সবকিছুর শেষে যে তার মূল লক্ষ্য বিয়ে, সেটাও পরিষ্কার করে দিয়েছেন তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এরিনের ‘হাজব্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন’ প্রকাশ্যে আসার পর নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। অনেকেই তার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও বিষয়টি নিয়ে রসিকতায় মেতেছেন অনেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভিন্ন ভূমিকায় ইতালির মুখোমুখি হওয়ার আগে ‘ঢুস’ নিয়ে কী বললেন জিদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৫ পি.এম


ভিন্ন ভূমিকায় ইতালির মুখোমুখি হওয়ার আগে ‘ঢুস’ নিয়ে কী বললেন জিদান

২০০৬ বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ এলেই যে দৃশ্যটি সবার চোখের সামনে ভাসে, সেটি হলো জিনেদিন জিদানের ‘ঢুস’। বার্লিনের ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ে ইতালির ডিফেন্ডার মার্কো মাতেরাজ্জির কথায় উত্তেজিত হয়ে ফ্রান্সের কিংবদন্তি জিদান ‘ঢুস’ মারেন।

শাস্তি হিসেবে লাল কার্ড দেখে মাথা নিচু করে মাঠ থেকে বের হওয়ার সময় জিদানের পাশে ছিল বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটি। অনেকের বিশ্বাস, ওইদিন যদি জিদান এমনটি না করতেন, তাহলে ফ্রান্স চ্যাম্পিয়নও হতে পারতো। আজ রাতে আবার ইতালির মুখোমুখি হচ্ছেন ফ্রান্সের এই কিংবদন্তি, তবে এবার তিনি খেলোয়াড় হিসেবে নন, কোচ হিসেবে।

ইতালির বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে সেই ‘ঢুস’ কাণ্ড আবার সামনে এসেছে। ২০ বছর আগের ওই ঘটনার জন্য জিদানের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। ম্যাচের পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে ৫৪ বছর বয়সী কোচ বলেছেন, "ছবিগুলো সব সময় সেই ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়, সেগুলো বারবার দেখানো হয়। সৌভাগ্যবশত আমার ক্যারিয়ারে শুধু এটাই ঘটেনি, কিছু সুন্দর মুহূর্তের স্মৃতিও রয়েছে। তবে এগুলো অনুশোচনা নয়, আমার ক্যারিয়ারের অংশ। যা ঘটেছে, সে জন্য গর্বিত নই। তবে সব সময় শুধু ভালো কাজ করতে পারবেন না আপনি। সবার জীবনে কিছু সময় আসে, যখন এমন কিছু করে ফেলি, কিন্তু সেরা কাজ নয়। এখন সামনের দিনগুলোয় কী আছে, সেটাই আসল কথা।"

জিদান জানান, ওই ঘটনার পর কখনো মাতেরাজ্জির সঙ্গে কথা হয়নি। ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার বলেন, "না। একদমই না।"

সেই ফাইনাল ছিল ফ্রান্সের জার্সিতে জিদানের শেষ ম্যাচ। তিনি মনে করেন, এভাবেই মানুষ তার শেষ ম্যাচটিকে মনে রাখুক। খেলোয়াড় হিসেবে যেমন, কোচ হিসেবেও সেরাটা দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক মিডফিল্ডার বলেছেন, "হ্যা, তখন জানতাম না একদিন কোচ হব। তাই আমার কাছে সেটাই ছিল শেষ এবং আমি বলতে পারি সময়টা খুব খুব কঠিন ছিল। আমি ফ্রান্স দলের কোচ হিসেবে ফেরার জন্য প্রস্তুত, আমার যা কিছু আছে তার সবই উজাড় করে দিতে চাই।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইলন মাস্কের ইনস্টাগ্রামকে ‘মেয়েদের অ্যাপ’ মন্তব্যে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৭ পি.এম


ইলন মাস্কের ইনস্টাগ্রামকে ‘মেয়েদের অ্যাপ’ মন্তব্যে বিতর্ক

বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন এবং এক্স-এর মালিক ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামকে ‘মেয়েদের জন্য তৈরি অ্যাপ’ বলে মন্তব্য করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মাস্ক এক্সে একটি মন্তব্য করেন। তার এই মন্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়।

ঘটনাটি শুরু হয় যখন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গেইগার ক্যাপিটাল জানায়, তারা তাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ইনস্টাগ্রাম মূলত নারীকেন্দ্রিক একটি প্ল্যাটফর্ম এবং তাদের জন্য এর কোনো উপকারিতা নেই।

মাস্ক ওই পোস্টের জবাবে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন, ‘Instagram is for girls’ (ইনস্টাগ্রাম মেয়েদের জন্য)।

মাস্কের এই মন্তব্যের পর এক্স ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন মতামত দিতে শুরু করেন। কিছু ব্যবহারকারী তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে মজা করে বলেন, এক্স প্ল্যাটফর্মটি তুলনামূলকভাবে পুরুষদের জন্য বেশি উপযোগী।

অন্যদিকে, অনেক ব্যবহারকারী মাস্কের মন্তব্যের সমালোচনা করেন। তাদের মতে, ইনস্টাগ্রামকে কোনো নির্দিষ্ট লিঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক নয়। কারণ প্ল্যাটফর্মটি বিনোদন, ব্যবসা, সামাজিক সচেতনতা কার্যক্রম এবং ব্যক্তিগত মত প্রকাশসহ নানা কাজে ব্যবহৃত হয়।

একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ইনস্টাগ্রামে বিভিন্ন বয়স, পেশা ও সামাজিক গোষ্ঠীর মানুষের জন্য নানা ধরনের কনটেন্ট রয়েছে। সেখানে শরীর নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, অন্তর্ভুক্তি এবং বৈচিত্র্যের মতো বিষয়ও গুরুত্ব পায়।

আরেকজন ব্যঙ্গ করে লেখেন, সম্ভবত নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট খোলার পরই মাস্ক এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।

আগেও করেছেন একই ধরনের মন্তব্য

ইলন মাস্ক এর আগে ইনস্টাগ্রাম সম্পর্কে একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন। চলতি বছরের শুরুতে এক অনলাইন আলোচনায় তিনি অভিযোগ করেন, কিছু পুরুষ তাকে তাদের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলের লিংক পাঠান। সে সময়ও তিনি প্ল্যাটফর্মটিকে মূলত নারীদের সঙ্গে বেশি সম্পৃক্ত বলে উল্লেখ করেছিলেন।

তার সর্বশেষ মন্তব্য আবারও এক্স ও ইনস্টাগ্রামের ভিন্ন সংস্কৃতি এবং ব্যবহারকারী গোষ্ঠী নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জাকারবার্গের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপট

বিশ্লেষকদের মতে, মাস্কের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন মাস্ক ও মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে।

২০২৩ সালের জুলাইয়ে মেটা ইনস্টাগ্রামের সঙ্গে যুক্ত টেক্সটভিত্তিক সামাজিক মাধ্যম থ্রেডস চালু করে, যা এক্সের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হয়। এরপর থেকেই মাস্ক ও জাকারবার্গের মধ্যে প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ একাধিকবার আলোচনায় এসেছে।

শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতেও প্রতিযোগিতায় রয়েছে দুই পক্ষ। মাস্কের এক্সএআই এবং মেটা—উভয় প্রতিষ্ঠানই নিজস্ব এআই মডেল ও প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গয়নার বাইরে স্বর্ণের ব্যবহার: খাদ্য, মহাকাশ ও চিকিৎসা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৮ পি.এম


গয়নার বাইরে স্বর্ণের ব্যবহার: খাদ্য, মহাকাশ ও চিকিৎসা

স্বর্ণের নাম শুনলেই প্রথমে গয়নার কথা মনে আসে। হাজার হাজার বছর ধরে অলংকার তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে এই মূল্যবান ধাতু। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে এটি বিশ্বজুড়ে কদর পায়। এ কারণে অনেকেই স্বর্ণের বার ও কয়েন সংগ্রহ করে রাখেন।

তবে গয়না তৈরির পাশাপাশি স্বর্ণের ব্যবহার রয়েছে নানা ক্ষেত্রে। স্মার্টফোন, কম্পিউটার, মহাকাশযান এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই ধাতুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এমনকি বিশেষ কিছু খাবার সাজাতেও ব্যবহার করা হয় খাওয়ার উপযোগী স্বর্ণ, যা ‘এডিবল গোল্ড’ নামে পরিচিত।

স্বর্ণের বহুমুখী ব্যবহারের পেছনে এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি সহজে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না, বিদ্যুৎ পরিবহন করতে সক্ষম এবং একে অত্যন্ত পাতলা পাত কিংবা সূক্ষ্ম তারে রূপ দেওয়া যায়।

চলুন, গয়নার বাইরেও স্বর্ণের বিভিন্ন ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত জানি।

খাবারেও ব্যবহার হয় স্বর্ণ

স্বর্ণ কেবল অলংকারে নয়, বিশেষ কিছু খাবারে ব্যবহৃত হয়। এসব খাবারে সাধারণত ২২ থেকে ২৪ ক্যারেট বিশুদ্ধ স্বর্ণের পাত ব্যবহার করা হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুশি, মিষ্টি, চকলেট, কেক, আইসক্রিমসহ বিলাসবহুল খাবার সাজাতে খাওয়ার উপযোগী স্বর্ণের পাত ব্যবহার করা হয়, যা ‘এডিবল গোল্ড লিফ’ নামে পরিচিত।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে খাবারে ব্যবহারের জন্য স্বর্ণ ‘ই১৭৫’ নামে অনুমোদিত খাদ্য সংযোজক হিসেবে পরিচিত।

তবে স্বর্ণ খেলে শরীরের বিশেষ কোনো উপকার হয় কিংবা পুষ্টি পাওয়া যায়, এমন কোনো প্রমাণ নেই। ধাতব স্বর্ণের দ্রাব্যতা খুব কম হওয়ায় এটি মানুষের পরিপাকতন্ত্রে সাধারণত শোষিত হয় না। মূলত খাবারের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং বিলাসিতার প্রকাশ হিসেবেই স্বর্ণ ব্যবহার করা হয়।

দামি হোটেল ও রেস্তোরাঁয় খাবার ও পানীয় আকর্ষণীয় করতে স্বর্ণের পাত, ছোট টুকরা কিংবা গুঁড়া ব্যবহার করা হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় মিষ্টি সাজাতে স্বর্ণ ও রুপার পাত ব্যবহারের দীর্ঘদিনের প্রচলন রয়েছে। এগুলো সাধারণত ‘ভারক’ বা ‘ওয়ার্ক’ নামে পরিচিত।

খাবারে স্বর্ণ ব্যবহারের স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়েও গবেষণা হয়েছে। ২০২৩ সালে ‘পার্টিকলস অ্যান্ড ফাইবার টক্সিকোলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, ‘ই১৭৫’ খাওয়ানোর পর ইঁদুরের যকৃৎ, প্লীহা কিংবা অন্ত্রে সরাসরি কোনো ক্ষতি শনাক্ত হয়নি। তবে অন্ত্রের জীবাণুর গঠন ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। মানুষের স্বাভাবিক গ্রহণমাত্রার চেয়ে বেশি স্বর্ণ খাওয়ানো স্ত্রী ইঁদুরের অন্ত্রে হালকা প্রদাহও দেখা গিয়েছিল।

মোবাইল, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন যন্ত্রে স্বর্ণের ব্যবহার রয়েছে। হাতের স্মার্টফোনের ভেতরেও স্বর্ণ রয়েছে, যদিও এর পরিমাণ খুবই সামান্য। কম্পিউটার, ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রের সার্কিট বোর্ড, সংযোগকারী, সুইচ ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সংযোগস্থলেও এই ধাতু ব্যবহার করা হয়।

এর প্রধান কারণ হলো, স্বর্ণ বিদ্যুৎ পরিবহনে কার্যকর এবং সহজে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। ফলে বৈদ্যুতিক সংযোগ দীর্ঘদিন সচল রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কম্পিউটার ও যোগাযোগের সরঞ্জামসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যে স্বর্ণের ব্যবহার থাকলেও একটি যন্ত্রে এর পরিমাণ সাধারণত খুব কম। তবে বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদিত হওয়ায় সব মিলিয়ে এই খাতে স্বর্ণের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য।

এ কারণে পুরোনো মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক বর্জ্য থেকে স্বর্ণ সংগ্রহ করে পুনরায় ব্যবহারের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এতে মূল্যবান ধাতুর অপচয় কমানোর পাশাপাশি ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও সহায়তা পাওয়া যায়।

মহাকাশেও কেন প্রয়োজন স্বর্ণ?

মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তিতে স্বর্ণের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য অনুযায়ী, স্বর্ণ আলো ও তাপ বিকিরণ প্রতিফলিত করতে সক্ষম এবং সহজে এর উজ্জ্বলতা নষ্ট হয় না। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে জেমস ওয়েব মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্রের আয়নায় স্বর্ণের অত্যন্ত পাতলা প্রলেপ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে অবলোহিত বা ইনফ্রারেড আলো প্রতিফলনে স্বর্ণ কার্যকর। এই আলো শনাক্ত করার মাধ্যমে জেমস ওয়েব মহাবিশ্বের দূরবর্তী নক্ষত্র, ছায়াপথ ও অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তু পর্যবেক্ষণ করে।

মহাকাশচারীদের হেলমেটেও স্বর্ণ ব্যবহার করা হয়। নাসার তথ্য অনুযায়ী, হেলমেটের সামনের স্বচ্ছ অংশে স্বর্ণের পাতলা প্রলেপ থাকে। এটি সূর্যের তীব্র আলো ও ক্ষতিকর বিকিরণ থেকে মহাকাশচারীদের সুরক্ষায় সহায়তা করে।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ পরিবহনের ক্ষমতা এবং ক্ষয় প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্যের কারণে মহাকাশযানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও বৈদ্যুতিক সংযোগেও স্বর্ণ ব্যবহার করা হয়।

রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসায় স্বর্ণের ব্যবহার নতুন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ‘গোল্ড সল্ট’ নামে পরিচিত স্বর্ণের কিছু যৌগ একসময় রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হতো। তবে বর্তমানে আরও কার্যকর ওষুধ সহজলভ্য হওয়ায় এ ক্ষেত্রে স্বর্ণের ব্যবহার অনেক কমেছে।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্বর্ণের নতুন ব্যবহার নিয়ে গবেষণা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, অতি ক্ষুদ্র স্বর্ণকণা বা ‘গোল্ড ন্যানোপার্টিকল’ ব্যবহার করে রোগ শনাক্ত করা, শরীরের নির্দিষ্ট স্থানে ওষুধ পৌঁছে দেওয়া এবং ক্যানসার নির্ণয় ও চিকিৎসার সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে। তবে এসব ব্যবহারের অনেকগুলো এখনো গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে।

কিছু রোগ নির্ণয়ের দ্রুত পরীক্ষার কিটেও স্বর্ণকণা ব্যবহার করা হয়। এসব কিটে ফলাফল বোঝাতে যে রঙিন রেখা দেখা যায়, তা তৈরিতে স্বর্ণের অতি ক্ষুদ্র কণা ভূমিকা রাখতে পারে।

দাঁতের চিকিৎসায়ও দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ ব্যবহার হয়ে আসছে। আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, সহজে ক্ষয় না হওয়া ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কারণে দাঁত মেরামত এবং পুনর্গঠনে স্বর্ণ ও এর সংকর ধাতু ব্যবহার করা হয়।

তবে স্বর্ণের উচ্চমূল্য এবং বিকল্প উপকরণের সহজলভ্যতার কারণে বর্তমানে দাঁতের চিকিৎসায় এর ব্যবহার আগের তুলনায় কমেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ মজুত রাখে কেন?

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার ও অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ স্বর্ণও রিজার্ভ হিসেবে সংরক্ষণ করে। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস।

একসময় অনেক দেশের মুদ্রাব্যবস্থা সরাসরি স্বর্ণের মজুতের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। বর্তমানে সেই ব্যবস্থা প্রচলিত না থাকলেও বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক সম্পদের একটি অংশ স্বর্ণ হিসেবে ধরে রাখে।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্বর্ণের মজুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। দেশটির মজুতের পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ১৩৩ টন, যা ৮১ লাখ ৩৩ হাজার কিলোগ্রামের বেশি।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ইতালি ও ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কাছে সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৬ হাজার ৪০০ টন স্বর্ণ ছিল। এসব দেশের বৈদেশিক রিজার্ভে স্বর্ণের অংশ ৭০ শতাংশেরও বেশি।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনও স্বর্ণের মজুত বাড়িয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে স্বর্ণ কিনেছে এবং বৈদেশিক রিজার্ভে এর পরিমাণ বাড়িয়েছে।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষে চীনের স্বর্ণের মজুত ছিল প্রায় ২ হাজার ২৭৯ টন। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটি আরও প্রায় ১৯ টন স্বর্ণ কেনে। এর আগে ২০২৩ সালেও চীন প্রায় ৮৮ টন স্বর্ণ কিনেছিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কাছে স্বর্ণের মজুত রাখার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বৈদেশিক সম্পদে বৈচিত্র্য আনা এবং দীর্ঘমেয়াদে সম্পদের মূল্য সংরক্ষণ করা। তবে স্বর্ণের দাম ওঠানামা করে বলে এর বাজারমূল্যও পরিবর্তিত হতে পারে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তারেক রহমান বাংলাদেশকে উন্নত ও নিরাপদ রাষ্ট্রে পরিণত করতে কাজ করছেন: মনিরুল হক চৌধুরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৮ পি.এম


তারেক রহমান বাংলাদেশকে উন্নত ও নিরাপদ রাষ্ট্রে পরিণত করতে কাজ করছেন:  মনিরুল হক চৌধুরী

কুমিল্লায় কারিগরি বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ফোরামের উদ্যোগে ২ থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপি কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী মেলা শুরু হয়েছে। এই মেলায় কুমিল্লা জেলার ৬৫টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ২৫টি স্টল অংশগ্রহণ করছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নগরীর টাউন হল মাঠে শুরু হওয়া মেলাটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।

তিনি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, "কুমিল্লায় কারিগরি বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপি কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী মেলার স্টলগুলো এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রজেক্ট দেখে আমি অভিভূত।"

মনিরুল হক চৌধুরী আরও বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার কারিগরি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে বাস্তবমুখী শিক্ষার দিকে ধাবিত করতে চায়। আগামী বছরের মাধ্যমিকেও কারিগরি সাবজেক্ট যুক্ত করেছে। যাতে আমাদের দেশের সন্তানেরা কর্মমুখী পড়াশোনা শেষ করে বিদেশ না গিয়ে বাংলাদেশে থাকতে চায়। সর্বোপরি কথা হলো বিএনপির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাসহ সকল ক্ষেত্রে সংস্কার করে একটি উন্নত নিরাপদ বাসযোগ্য বাংলাদেশ গঠনে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা সকলে সেই ভিশনের সারথী হয়ে কাজ করার জন্য নিজেদেরকে যোগ্য নাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে হবে।"

অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) সুলতানা রাজিয়া। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিসিএন শিক্ষা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড.তারিকুল ইসলাম চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক (উপ সচিব) কাজী ফারুক আহমেদ এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি আমিরুজ্জামান আমির। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী। ৩দিন ব্যাপী মেলাটি মোট ৬টি সেশনে অনুষ্ঠিত হবে।

উদ্বোধনী ও ১ম সেশনে "Inaugural Ceremony and Seminar on the Current state of Technical education in Bangladesh: challenges and the Way Forward" শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকরা জানান, দেশের শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দক্ষ কারিগরি জনশক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে কারিগরি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং এর সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতেই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

মেলায় কুমিল্লার ৬৫টি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের তৈরি প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প, উদ্ভাবনী মডেল ও ব্যবহারিক কাজ প্রদর্শন করছে। এসব প্রদর্শনীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি বর্তমান কর্মবাজারে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হবে। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষা অনুরাগী, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণকে মেলায় অংশগ্রহণ ও প্রদর্শনী পরিদর্শনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

মেলার প্রধান আকর্ষণী বিষয়গুলো হলো: শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প ও মডেল প্রদর্শনী, আধুনিক প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন দিক উপস্থাপন, ব্যবহারিক দক্ষতা প্রদর্শন, উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে ধারণা প্রদান, কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব ও সম্ভাবনা তুলে ধরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%