প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে এমন কিছু নাম রয়েছে, যাদের প্রভাব সময় ও প্রজন্মের সীমা অতিক্রম করে আজও সমানভাবে অনুভূত হয়। তাদের মধ্যে একটি কিংবদন্তি হলেন মাইকেল জ্যাকসন। আজ, ২৫ জুন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কোটি ভক্ত স্মরণ করছেন পপসংগীতের এই অবিস্মরণীয় তারকাকে, কারণ এটি তার ১৭তম প্রয়াণবার্ষিকী।
১৯৫৮ সালের ২৯ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী মাইকেল জ্যাকসন সংগীত জগতে তার যাত্রা খুব অল্প বয়সেই শুরু করেন। পারিবারিক ব্যান্ড 'দ্য জ্যাকসন ৫' এর সদস্য হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পরে, তিনি একক শিল্পী হিসেবে বিশ্ব সংগীতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত হন।
১৯৬৪ সালে ভাইদের সঙ্গে ‘জ্যাকসন ৫’ ব্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে তার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল। শৈশব থেকেই তার মধ্যে দেখা গিয়েছিল বিশেষ এক ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভা। এরপর ১৯৭১ সাল থেকে তার একক পথচলা শুরু হয়েছিল এবং বিশেষ করে আশির দশকে তিনি বিশ্বসংগীতকে একাই শাসন করেছিলেন। এ কারণে তার নামের পাশে স্থায়ীভাবে জুড়ে গেছে ‘কিং অব পপ’ বা পপসম্রাট উপাধি।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারের মধ্যে তিনি বিশ্ববাসীকে ‘বিট ইট’, ‘বিলি জিন’, ‘থ্রিলার’, ‘আই জাস্ট কান্ট স্টপ লাভিং ইউ’, ‘ব্যাড’, ‘ম্যান ইন দ্য মিরর’, ‘ডার্টি ডায়ানা’, ‘দ্য ওয়ে ইউ মেক মি ফিল’, ‘ব্ল্যাক অর হোয়াইট’, ‘স্ক্রিম’, ‘হিল দ্য ওয়ার্ল্ড’, ‘ইউ আর নট অ্যালোন’, ‘আই উইল বি দেয়ার’, ‘ডেঞ্জারাস’ এবং ‘লাভ নেভার ফেল্ট সো গুড’-এর মত অসংখ্য কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন।
গানের পাশাপাশি, তার চোখ ধাঁধানো নৃত্যশৈলী, মঞ্চের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স এবং সিগনেচার ‘মুনওয়াক’ নাচ তাকে যুগের গণ্ডি অতিক্রম করে একটি চিরন্তন সাংস্কৃতিক আইকনে পরিণত করেছে। নতুন সিনেমাটিতে এই গান ও আইকনিক মিউজিক ভিডিওগুলোর পেছনের গল্পগুলোও নিখুঁতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
২০০৯ সালের ২৫ জুন মাত্র ৫০ বছর বয়সে পৃথিবীকে বিদায় জানান এই কিংবদন্তি শিল্পী। তবুও, তার মৃত্যু থামিয়ে দিতে পারেনি তার জনপ্রিয়তা। মৃত্যুের এক যুগেরও বেশি সময় পরও তার গান, নৃত্য এবং সৃজনশীলতা নতুন প্রজন্মকে মুগ্ধ করে চলেছে।
মাইকেলের রহস্যময় মৃত্যুর পর কোর্টে গড়ায় ঘটনাগুলো। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক কনরাড মারেকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছিল। আদালতের শুনানিতে জানা যায়, ঘুমের ওষুধ হিসেবে মাইকেলকে অতিরিক্ত মাত্রায় চেতনানাশক ‘প্রোপোফোল’ দেওয়া হয়েছিল, যা তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
২০১১ সালে অবহেলার কারণে অনিচ্ছাকৃত হত্যার দায়ে মারে দোষী সাব্যস্ত হন। যদিও মারে আদালতে নিজের দায় অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন, মাইকেল নিজেই এই অতিরিক্ত ওষুধ নিয়েছিলেন। কিন্তু আদালত মারের ওই যুক্তি গ্রহণ করেনি।
মাইকেল জ্যাকসন ছিলেন শুধু একজন গায়ক নন; তিনি ছিলেন একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নাম। তার সুর, কণ্ঠ এবং অসাধারণ মঞ্চ উপস্থিতি তাকে অমর করে রেখেছে কোটি মানুষের হৃদয়ে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন