প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সীমান্ত অঞ্চলে মাইন বিস্ফোরণের ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হওয়ার ঘটনায় উত্তর কোরিয়া জড়িত— এমন অভিযোগকে অস্বীকার করেছেন কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং। তিনি বুধবার দেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এক বিবৃতির মাধ্যমে এই দাবি জানান।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
কোরীয় যুদ্ধের পর ১৯৫৩ সালে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও দুই কোরিয়ার মধ্যে কোনো শান্তিচুক্তি হয়নি। ফলে, দুই দেশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটাতে পারেনি।
গত ২১ সেপ্টেম্বর, দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চল (ডিএমজেড)-এ মাইন বিস্ফোরণের ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা গুরুতর আহত হন। তাদের মধ্যে একজনের একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ডিএমজেজ হলো ১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতির পর দুই দেশের মধ্যে তৈরি করা ভারী অস্ত্রে সুরক্ষিত ও বিপজ্জনক সীমান্ত এলাকা।
দক্ষিণ কোরিয়া মঙ্গলবার দাবি করে যে, এই ঘটনা যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। তাদের বক্তব্য, বিস্ফোরণের জন্য উত্তর কোরিয়া দায়ী হওয়ায় তারা ধাপে ধাপে এর উপযুক্ত জবাব দেবে।
কিম ইয়ো জং দক্ষিণ কোরিয়ার এই অভিযোগকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ প্রকাশিত বিবৃতিতে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার আনুষ্ঠানিক নাম ‘রিপাবলিক অব কোরিয়া’ উল্লেখ করে বলেন, সিউলের এই অভিযোগ তাদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘উসকানিমূলক’ দাবি।
এর কিছুক্ষণ পর বুধবার জাতিসংঘ কমান্ড (ইউএনসি) জানায়, দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যৌথ তদন্তে সীমান্তের দক্ষিণ কোরীয় অংশে উত্তর কোরিয়ার তৈরি একটি সক্রিয় অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন শনাক্ত করা হয়েছে।
ইউএনসি বলেছে, তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে ১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক এই সামরিক কমান্ডের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিরতি চুক্তি তদারক করা এবং ডিএমজেডের দক্ষিণাংশের ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করা।
ডিএমজেজ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সামরিকীকৃত সীমান্তগুলোর একটি। সেখানে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা অতীতেও দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
২১ সেপ্টেম্বরের বিস্ফোরণের পর তদন্ত শেষে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাং শিন-চুল বলেন, তাদের হাতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে তিনি কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করেননি।
মন্ত্রী কাং বলেন, উত্তর কোরিয়া সীমান্তে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে এসব মাইন পুঁতে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর দাবি, সীমান্তে উত্তর কোরিয়ার এই দুর্গ নির্মাণ ও প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের সময় দেশটির সেনারা অতীতেও ভুল করে সামরিক সীমারেখা অতিক্রম করেছে।
কিন্তু কিম ইয়ো জং এই অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছেন। কেসিএনএ-তে প্রকাশিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়ে’ রাজনৈতিক ও সামরিক উসকানির অজুহাত তৈরি করছে।
তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়ার কোনো সেনা সীমান্ত অতিক্রম করেনি। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে উত্তর কোরিয়া ‘নিষ্ক্রিয় দর্শকের’ ভূমিকা পালন করবে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন