প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে একের পর এক ড্রাগন ফলের বাগানে হাজার হাজার বৈদ্যুতিক এলইডি বাতি জ্বলে ওঠে। রাতভর এই বাতিগুলি জালিয়ে রাখার কাজ করছেন ড্রাগন ফলচাষিরা।
ড্রাগন ক্ষেতের মালিকদের বিশ্বাস, দীর্ঘ সময় আলো প্রদান করলে ফলন দ্রুত এবং বেশি হয়। তবে, বাগানে ব্যাপকভাবে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহারের ফলে বিদ্যুতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ওপর এর প্রভাব পড়ছে। ড্রাগন মূলত গ্রীষ্মকালীন ফল, এবং এই সময়ে উৎপাদন হওয়া ফলনের তুলনায় লাইটিং পদ্ধতিতে বেশি ফলন পাওয়া যায়। এর ফলে ড্রাগন ফল চাষীরা অধিক ফলনের পাশাপাশি ভালো বাজার মূল্যও পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন শপিংমল, মার্কেট ও দোকানসমূহ সকাল ১১ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। এছাড়া, সকল প্রকার আলোকিত বিলবোর্ড সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে বন্ধ করতে এবং সকল প্রকার আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চাষীদের লাইটিং পদ্ধতি ব্যবহার করে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচে ড্রাগন চাষ করতে দেখা যাচ্ছে। যদিও ড্রাগন দেশের প্রধান অর্থকারী ফসল নয়, তবুও চাষীরা নিজেদের অধিক মুনাফার জন্য লাইটিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহারের এই সময়ে ড্রাগন চাষীদের বৈদ্যুতিক আলোয় চাষাবাদ করার বিষয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। কালীগঞ্জ উপঝেলার কৃষি অফিস জানায়, কালীগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার ১ হাজার ৭৯১ জন কৃষক ৪৪৭ হেক্টর জমিতে বর্তমানে ড্রাগন ফল চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে ২৫১ জন ড্রাগন ফলচাষি তাদের বাগানে অধিক ফলন পেতে বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবহার করছেন।
কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ড্রাগন বাগানে সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে অসংখ্য বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালিয়ে রাখা হচ্ছে। ফলে রাতের সময় বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে বলে সচেতন মহলের অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ড্রাগন বাগানগুলোতে রাতভর বিপুল সংখ্যক বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালানোর ফলে এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং দেখা দিচ্ছে। দিন-রাত মিলিয়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের মধ্যে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ব্যাঘাত ঘটছে।
কালীগঞ্জ শিবনগর গ্রামের বাসিন্দা রহমত আলী অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে রাতে শিশু, বয়স্ক এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বেড়ে গেছে। গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। এদিকে, ড্রাগন চাষে রাতের বেলায় বৈদ্যুতিক আলো ব্যবহারের বৈজ্ঞানিক কার্যকারিতা, বিদ্যুৎ ব্যবহারের বৈধতা এবং এর কারণে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রকৃত প্রভাব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, বালিয়াডাঙ্গা, আজমতনগর, শিবনগর, চাচড়া সহ বিভিন্ন গ্রামের মাঠে অনেক ড্রাগন চাষী রাতভর তাদের বাগানে আলো জালিয়ে রাখছেন।
সাধারণ মানুষের দাবি, যেসব ড্রাগন বাগানে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। অবৈধ বা অরিয়মিত সংযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাগানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করারও দাবি জানিয়েছেন তারা। চাচাড়া গ্রামের ড্রাগন চাষি খলিলুর রহমান বলেন, ড্রাগন গরম কালের ফল হলেও লাইটিং পদ্ধতিতে চাষ হওয়ায় শীত মৌসুমে এ ফলটি পাওয়া যায়, এবং বাজার মূল্যও ভালো পাওয়া যায়। যার কারণে কৃষকরা শীত আসার আগেই এ পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ শুরু করেছেন। আমাদের এলাকার অনেকেই এখন লাইটিং পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ করছে। আমিও আমার এক বিঘা জমিতে লাইটিং করেছি শীতকালে চাষ করবো বলে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান মিয়া বলেন, ড্রাগন চাষীদের লাইটিং পদ্ধতিতে চাষের ব্যাপারে কৃষি অফিস থেকে কোনো নির্দেশনা প্রদান করা হয় না। যেসব চাষিরা এই পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ করছেন, তারা প্রত্যেকেই নিজেদের সিদ্ধান্তে করছেন।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এর কালীগঞ্জ উপজেলার আবাসিক প্রকৌশলী জয়দ্বীপ সরকার বলেন, সরকারি ভাবে বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহারের তালিকায় কৃষি খাতের বিষয়টি উল্লেখ নেই। তবে, ড্রাগন বাগানে রাতভর বৈদ্যুতিক আলো জ্বলার বিষয়ে কোনো অভিযোগ পেলে আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, ড্রাগন বাগানে রাতভর এলইডি লাইট জ্বালিয়ে রাখার কারণে বিদ্যুতের ঘাটতি হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারটি খোঁজখবর নিয়ে দেখব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন