প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতে জাতীয় পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতি রোধ করতে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী সোমবার (২২ জুন) পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) একটি আদেশে ভারত সরকার টেলিগ্রামের বার্তা সম্পাদনার (এডিট) সুবিধাও অকার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে। সরকারের দাবি, আসন্ন জাতীয় শিক্ষার্থী পরীক্ষাগুলোকে কেন্দ্র করে প্রশ্নফাঁস ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহৃত হচ্ছিল।
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একটি কঠোর ধারা অনুসারে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই ধারার অধীনে সরকারের কাছে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার সীমিত করার ক্ষমতা রয়েছে, যা দেশের ‘সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা’ রক্ষায় সহায়ক।
তবে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, এই আইন অনেক ক্ষেত্রেই বাকস্বাধীনতা সীমিত করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়।
গত মাসে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ভারতের মেডিকেল কলেজে ভর্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি-কাম-এন্ট্রান্স টেস্ট (এনইইটি) বাতিল করা হয়েছিল। তদন্তে দেখা গিয়েছিল, পরীক্ষার প্রশ্ন আগেই ফাঁস হয়ে গিয়েছিল।
এ ঘটনাটি প্রকাশের পর দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন গড়ে ওঠে, যারা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে। সরকার আগামী রোববার (২১ জুন) পুনরায় এনইইটি পরীক্ষা আয়োজনের ঘোষণা করেছে।
ভারতের জাতীয় পরীক্ষণ সংস্থা (এনটিএ) এক বিবৃতিতে জানায়, রোববার পুনঃপরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রগুলো টেলিগ্রাম ব্যবহার করে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা ও প্রশ্নফাঁসের চেষ্টা করছিল। এ কারণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
ভারতে টেলিগ্রামের ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বর্তমানে দেশটি অ্যাপটির সবচেয়ে বড় ডাউনলোড বাজার হিসেবে পরিচিত। যদিও মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এখনও হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহার বেশি।
এদিকে, টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ ভারত সরকারের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, 'টেলিগ্রাম বন্ধ করেও প্রশ্নফাঁস ঠেকানো যায়নি, বরং এসব কার্যক্রম অন্য অ্যাপে চলে গেছে।' তিনি আরও জানিয়েছেন, 'এতে প্রশ্নফাঁসকারীরা নয়, বরং ভারতের ১৫ কোটিরও বেশি সাধারণ টেলিগ্রাম ব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।'
ভারত সরকার বলেছে, সাধারণ মানুষের অসুবিধা হওয়ার জন্য তারা ‘দুঃখিত’। তবে, সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট অপসারণের পূর্বের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় এটিকে 'শেষ বিকল্প' হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন