০৭:০২ পি.এম
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে আরও সাত জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। এই আইনি প্রক্রিয়ায়, মোট ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে এই সাক্ষ্যগ্রহণের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত ৫ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান অভিযোগপত্র চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে জমা দিয়েছিলেন।
মামলার আসামিরা হচ্ছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ (৫৬), তার স্ত্রী ইউসিবিএল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান (৪৬), সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী (৪৬) ও রোকসানা জামান চৌধুরী (৫৬)। সাবেক পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন, বশির আহমেদ (৫৫), আফরোজা জামান (৪৮), সৈয়দ কামরুজ্জামান (৬১), মো. শাহ আলম (৬২), মো. জোনাইদ শফিক (৬৪), অপরূপ চৌধুরী (৬৫), তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামান (৬৬), ইউনুছ আহমদ (৭৯), হাজী আবু কালাম (৭৯), নুরুল ইসলাম চৌধুরী (৬২), সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর (৭৭) ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরী (৬৪)।
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সম্পত্তি দখল করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ব্যাংকটির সাবেক কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছে, মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ (৫১), আবদুল হামিদ চৌধুরী (৫০), আবদুর রউফ চৌধুরী, জিয়াউল করিম খান (৪৬), মীর মেসবাহ উদ্দীন হোসাইন (৬২) ও বজল আহমেদ বাবুল (৫৬)।
জাবেদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তাদের মধ্যে যাদের মামলায় আসামি করা হয়েছে, তারা হলেন, মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরী (৫১), মোহাম্মদ মিছবাহুল আলম (৫০), আব্দুল আজিজ (৩৯), মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (৫৪), মোহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী (৪৮), ইয়াছিনুর রহমান (৪৩), ইউছুফ চৌধুরী (৪৫) ও সাইফুল ইসলাম (৪৫)। অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, আরামিট গ্রুপের এজিএম উৎপল পাল (৫১), প্রদীপ কুমার বিশ্বাস (৫১), মো. জাহিদ (৪৫), মো. শহীদ (৪৯), মো. সুমন (৩৯), ইলিয়াস তালুকদার (৫০) ও ওসমান তালুকদার (৪৮)।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন বলেছেন, সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় আজ মঙ্গলবার আদালতে সাত জন সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়। আদালতে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং জেরা সম্পন্ন হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই মামলায় মোট ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১৩ জুলাই মামলার পরবর্তী সাক্ষীর জন্য আবারও দিন ধার্য করেছে আদালত।
মামলার অভিযোগপত্রে জানা গেছে, আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে নামসর্বস্ব ভিশন ট্রেডিং নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজিয়ে ইউসিবিএল থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। পরে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ তার কর্মচারীদের মাধ্যমে সেই টাকা উত্তোলন করে হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে সম্পত্তি কিনে নেন। ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: দেশের স্বার্থে কোনো ছাড় নয়: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী টুকু
আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ৫(২) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন অভিযোগপত্রে। ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই জাবেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১ এ এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার ৩১ আসামির মধ্যে দু’জন মারা যাওয়ায় তাদের বিচারিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে সুপারিশ করেছেন। এই দুইজন হলেন, ইউসিবিএল’র সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল এবং জাবেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী কাজী মোহাম্মদ দিলদার আলম। বাকি ২৯ জনের সঙ্গে তদন্তে পাওয়া সাত জনসহ মোট ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগপত্রের রূপরেখায় ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন