প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পদদলিত হয়ে নিহতের সংখ্যা ১৯ জনে পৌঁছেছে। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন নারী এবং একটি শিশু রয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৫ জন, যাদের মধ্যে আটজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক থানার সারদা পার্কের (চোরবাগান) দুর্গাপূজার মণ্ডপের প্রবেশপথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃষ্টির মধ্যেও বিপুলসংখ্যক মানুষ মণ্ডপে ভিড় করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পুলিশের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে মণ্ডপের বের হওয়ার পথে পদদলিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উদ্ধারকাজে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, দুর্যোগ মোকাবিলা দল এবং চিকিৎসকরা কাজ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কন্ট্রোল রুম থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দুর্ঘটনার পর দর্শনার্থীদের জন্য মণ্ডপটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় চোরবাগান দুর্গাপূজার আয়োজকদের কয়েকজনসহ ১২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।
এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, "মণ্ডপে ভিড় যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল কি না, তা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে খতিয়ে দেখা হবে।" আয়োজক কমিটি, পুলিশ, বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী কিংবা অন্য কেউ দায়ী হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। খবর এনডিটিভির
মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের বড় দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।
এছাড়া নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ লাখ রুপি আর্থিক সহায়তা এবং পরিবারের একজন সদস্যকে গ্রুপ ডি পদে সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেছেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, পদদলিত হওয়ার সময় অনেক মানুষ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী দুর্ঘটনার জন্য মণ্ডপের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সরু হওয়াকে দায়ী করেছেন।
তিনি বলেন, "প্রবেশপথটি খুব সরু ছিল। বের হওয়ার পথও সরু ছিল। ওই এলাকায় কোনো আলোর ব্যবস্থা ছিল না। আমার মেয়ে ও নাতনি হাসপাতালে ভর্তি।"
দুর্ঘটনার পর আয়োজকেরা মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেন এবং মণ্ডপের আলোও নিভিয়ে দেওয়া হয়।
পূজার আয়োজক বিকাশ দাস বার্তা সংস্থা আইএএনএসকে বলেন, "কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এই মুহূর্তে আমাদের মূল লক্ষ্য উদ্ধারকাজ পরিচালনা এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানো।" ঘটনাস্থলে পুলিশ, রাজ্য ফায়ার সার্ভিস এবং দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগের কর্মীরা কাজ করছেন।
ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়েই হতাহতদের মৃত্যু হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানান তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন