প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ার নতুন সরকার এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিরা গত মাসে তুরস্কে গোপন বৈঠক করেছেন। ছয়টি সূত্রের বরাতে সংস্থাটি জানায়, বৈঠকটি দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিরোধ সমাধানের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়। তবে তুরস্ক এবং সিরিয়া উভয়েই এ ধরনের বৈঠকের কথা সরাসরি অস্বীকার করেছে।
সূত্রগুলো দাবি করেছে, তুরস্কের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার উদ্যোগে সিরিয়ার গোয়েন্দা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে হিজবুল্লাহ প্রতিনিধিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৪ সালের শেষের দিকে বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটি দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম সরাসরি বৈঠক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈঠকে সিরিয়া হিজবুল্লাহকে আশ্বস্ত করে যে, তারা লেবাননে গোষ্ঠীটিকে নিরস্ত্র করতে সামরিক হস্তক্ষেপ করবে না। এর পরিবর্তে দামেস্ক সীমান্তপথে অস্ত্র পাচার বন্ধ এবং দক্ষিণ সিরিয়ায় হিজবুল্লাহর অবশিষ্ট গোপন তৎপরতা বন্ধে সহযোগিতা চায় বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে এসব বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
গৃহযুদ্ধের সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারকে সমর্থন করতে সিরিয়ায় যোদ্ধা পাঠিয়েছিল হিজবুল্লাহ। ২০২৪ সালের শেষের দিকে বিদ্রোহীদের অভিযানে আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দামেস্ক ও হিজবুল্লাহর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। নতুন সিরিয়ান সরকার হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সিরিয়ার ভূখণ্ড ব্যবহার করে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগও করেছে।
এদিকে গত বুধবার সিরিয়ার সরকার জানায়, দক্ষিণাঞ্চলে রকেট হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হিজবুল্লাহর একটি সেল আটক করা হয়েছে। তবে হিজবুল্লাহ এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, সিরিয়ার ভূখণ্ডে তাদের কোনো উপস্থিতি বা সামরিক কর্মকাণ্ড নেই।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তুরস্কের উদ্যোগে প্রায় দুই মাস আগে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে তুরস্ক আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের অধীন যোগাযোগ অধিদপ্তরের বিভ্রান্তি প্রতিরোধ কেন্দ্র এ প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, বৈঠকের তারিখ, স্থান, অংশগ্রহণকারী ও আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে প্রকাশিত তথ্যের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
সিরিয়ার তথ্য মন্ত্রণালয়ও বৈঠকের খবর অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘এসব দাবি মিথ্যা এবং এমন কোনো বৈঠক হয়নি।’ হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বৈঠকটি সত্যিই হয়েছিল কি না, তা নিয়ে এখনো পরস্পরবিরোধী দাবি রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন