প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবিস্মরণীয় অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে আগামী ১৫ আগস্ট বিশেষ স্মরণসভা ও সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে সরকার। আগামী অনুষ্ঠানটি প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন।
রাজধানীর গুলশান ইয়ুথ ক্লাব মাঠে বিশেষ স্মরণসভা ও সম্মাননা অনুষ্ঠানটি হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। শনিবার (২৫ জুলাই) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন।
প্রতিমন্ত্রী জানালেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ছিল গণঅভ্যুত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। সেই সময়ে আন্দোলন দমনের নানা চেষ্টা চললেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাদের সেই আত্মত্যাগ ও ভূমিকার যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এখনও দেওয়া হয়নি। ঘাটতি পূরণ করতেই এই আয়োজনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে আহত, অঙ্গহানি ও দৃষ্টিশক্তি হারানো যোদ্ধাদেরও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি জানানো হবে।
ইশরাক হোসেন বলেন, আমরা চাই, আন্দোলনে যে-ই অংশ নিয়ে থাকুক, যে অবস্থান থেকেই অবদান রাখুক, প্রত্যেককে রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ সম্মান দেওয়া হোক। কারও অবদান যেন খাটো করে দেখা না হয়।
তিনি জানান, সংবাদ সম্মেলনে ১৬টি ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় ছাত্রশক্তি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছিলেন। এটি তিনি জুলাই-পরবর্তী সময়ের একটি "বৃহত্তর ঐক্যের" প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানটি শুধু স্মরণসভা নয়, ‘আগামী বাংলাদেশের ভাবনা’ নিয়েও আলোচনা হবে। জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে তরুণদের মতামত শুনতে সরকার আগ্রহী এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও তরুণদের বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে শুনবেন।
অনুষ্ঠান বিলম্বিত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ইশরাক বলেন, সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতির কারণে সরকারের সব মনোযোগ দুর্গত মানুষের সহায়তায় ছিল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই অনুষ্ঠানটি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১৫ আগস্টকে সম্ভাব্য নিরাপদ তারিখ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
আহত জুলাই যোদ্ধাদের বিষয়ে ইশরাক বলেন, গেজেটভুক্ত আহতদের ভাতা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক পরিচয়সহ বিভিন্ন কারণে যারা গেজেটভুক্ত হতে পারেননি, তাদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মন্ত্রণালয়ে পৃথক একাধিক ডেস্ক খোলা হবে। প্রতিটি আবেদন তদন্ত করে যোগ্যদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, এটি কোনো করুণা নয়, এটি তাদের প্রাপ্য। আহতদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, ফাউন্ডেশনের অর্জিত অভিজ্ঞতাকে সরকারের নবগঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরের কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে। এতে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের আরও কার্যকরভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন