প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য বর্তমান সময়কে সবচেয়ে উপযুক্ত বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। পেজেশকিয়ানের দাবি, যুদ্ধ ও সংঘাতের পর ইরান এখন ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী এবং সংহত অবস্থানে রয়েছে। তাই আলোচনার মাধ্যমে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে এটাই ‘সবচেয়ে ভালো সময়’ বলে তিনি বিবেচনা করছেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের দ্বিতীয় সংবাদ সম্মেলনে পেজেশকিয়ান জানান, দেশে এখন সংহতি, শক্তি ও ঐক্য রয়েছে। পরিস্থিতি এমন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যখন মানুষ একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা বলছে, আমি বিশ্বাস করি এখনই সেরা সময়। কারণ দেশে সংহতি, শক্তি ও ঐক্য রয়েছে। আমার যতদূর জানা, এই যুদ্ধ ও সংঘাত থেকে ইরান বিজয়ী ও শক্তিশালী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।’
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ-এর বরাতে জানা যায়, পেজেশকিয়ান বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে ইরান তার অধিকার আদায় করতে সক্ষম হবে। দেশটি শুধু নিজের দেশ ও জনগণের অধিকার ছাড়া আর কিছুই চায়।
ইরানের প্রেসিডেন্ট প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করেন, শুধু যুদ্ধের মাধ্যমে কোনো বিরোধের সমাধান করা সম্ভব নয়। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে শান্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাঁর সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি এও বলেন, ‘শুধু যুদ্ধের মাধ্যমে সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব নয়। আমরা সমঝোতা স্মারকের বিধানের ভিত্তিতে শান্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।’
পেজেশকিয়ান মন্তব্য করেন, তবে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অবিশ্বাসের পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, ইরান ওই সমঝোতা স্মারককে নিজেদের কর্মপন্থার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত। কিন্তু তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তার সৃষ্ট অবিশ্বাসের পরিবেশ ত্যাগ করতে হবে এবং আবারো পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
তেহরানের দৃষ্টিতে ওয়াশিংটন এখনো অবিশ্বাস্য— এভাবে তিনি মন্তব্য করেন।
সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনার মাধ্যমে তার আরেক বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের কারণে তেহরানের দীর্ঘদিনের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
তিনি আবারও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ঔপনিবেশিক, অপরাধী এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইসলামী প্রজাতন্ত্রই থাকবে। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’
পেজেশকিয়ান অঙ্গীকার করেন, কূটনীতির কারণেই যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হয়েছে। তিনি বলেন, ইরান যে আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে, তার কারণেই যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বসতে এবং তেহরানের সঙ্গে চুক্তি ও সমঝোতায় পৌঁছাতে বাধ্য হয়েছে।
এদিকে সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের জন্য ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, ইরান ও ওমানের যৌথভাবে সম্মত পদ্ধতি অনুসরণ না করে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে বিকল্প নৌপরিবহণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, কথিত এসব লঙ্ঘন নিয়ে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে, তা সমঝোতা স্মারকের অধীনে প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরানের জন্য ‘মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে’ এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন