প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের উত্তরপ্রদেশে এক যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তিনি ভুয়া পরিচয়ে একাধিক নারীকে বিয়ে করেছেন এবং প্রতারণা করেছেন। ওই যুবক, প্রকাশ ত্রিবেদী, প্রায় ২৫টি বিয়ের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছেন তার শ্বশুর ও বিজেপির বিধায়ক জ্ঞান তিওয়ারি। অভিযোগের তালিকায় বিধায়কের নিজের মেয়ের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত যুবক ও তার বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত যুবক প্রকাশ ত্রিবেদী উত্তরপ্রদেশের সেওতা বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক জ্ঞান তিওয়ারির জামাই। বিধায়কের অভিযোগ, প্রকাশ একটি বড় প্রতারণা চক্রের সাথে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন রাজ্যের নারীদের সঙ্গে ভুয়া পরিচয়ে যোগাযোগ করতেন। পরে তাদের বিয়ে করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিতেন। মহারাষ্ট্রসহ ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে তার এসব কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেছেন জ্ঞান তিওয়ারি।
জ্ঞান তিওয়ারির মেয়ে প্রজ্ঞার সঙ্গে প্রকাশের বিয়ে হয়েছিল ২০২৪ সালে। বিয়ের সময় প্রকাশের বাবা, অনুজ ত্রিবেদী, নিজেকে মুম্বাইয়ের একজন প্রতিষ্ঠিত রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন বিধায়ক।
তিনি দাবি করেন, বিয়ের আগে স্থানীয়ভাবে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছিল এবং এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছ থেকেও ইতিবাচক তথ্য সংগ্রহ করার পর মেয়ের সঙ্গে প্রকাশের বিয়ে দেওয়া হয়।
তবে বিয়ের প্রায় আড়াই বছর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশের বিষয়বস্তু সম্পর্কে নানা তথ্য পরিবারের কাছে আসতে শুরু করে। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু করেন।
বিধায়কের অভিযোগ, প্রকাশ বিভিন্ন নারীর সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়ে সম্পর্ক তৈরি করতেন এবং তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিতেন। তার প্রায় ২৫টি বিয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান জ্ঞান তিওয়ারি।
জামাইয়ের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ জানার পর, জ্ঞান তিওয়ারি তার পরিবারের সঙ্গে সকল ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেন, এবং মেয়েকে নিজের বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন।
এ ঘটনার পর তার মেয়ে প্রজ্ঞা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে বিধায়ক দাবি করেছেন। একই সঙ্গে এ ঘটনায় তার নিজস্ব সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।
এদিকে, প্রতারণার অভিযোগে প্রকাশ ত্রিবেদী ও তার বাবা অনুজ ত্রিবেদীকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, অনুজের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।
গত ৬ আগস্ট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি ভিডিও প্রকাশ করে জ্ঞান তিওয়ারি বিষয়টি সামনে আনেন। ভিডিওতে তার কন্যা প্রজ্ঞাকেও দেখা যায়।
ওই ভিডিওবার্তায় বিধায়ক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অনুজ ত্রিবেদীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রকাশ দোষী প্রমাণিত হলে তার ক্ষেত্রেও আইনের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন তিনি।
তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশের সঙ্গে কতজন নারী প্রতারিত হয়েছেন অথবা ২৫টি বিয়ের অভিযোগের সত্যতা কতটা— পুলিশ সেটি নিশ্চিত করেনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন