প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে। তিনি সরকারের অনুমতি পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ করবে বলে মন্তব্য করেছেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রদান করেন। বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব বাংলাদেশ পুলিশের। তিনি বলেন, "পুলিশ নাগরিকদের সেবক, শাসক নয়।" আইজিপি ঢাকার চকবাজারে একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, "যেখানে ক্রসফায়ার প্রয়োজন হয়, সরকার যদি এলাউ করে তাহলে আমরা সেটাই করব।" এ বক্তব্যকে তিনি চাকরিবিধি লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং তার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে দেশের নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা ছিল না, বাকস্বাধীনতা ছিল না। তিনি উল্লেখ করেন, "বিনাবিচারে মানুষ হত্যা করা হতো, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে নাগরিকদের তুলে নিয়ে হত্যা, ক্রসফায়ার ও গুম করত।" তিনি আইজিপির বক্তব্যকে সংবিধান ও আইনের শাসনের পরিপন্থী মনে করেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়ার আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির মধ্যে আইজিপির বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য ও অনভিপ্রেত। তার বক্তব্য দেশে ভয়ের সংস্কৃতিতে ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত দেয়। তিনি রাষ্ট্রকে নতুন সংকটের দিকে নিয়ে যাওয়ার চক্রান্তের নকশা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "রাষ্ট্রকে সংকটে ফেলার যে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে তা সরকারের এবং সরকার দলীয় বিভিন্ন স্তরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হচ্ছে।" আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চরম ব্যর্থতার পরিচয় হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, "দেশে বিএনপির সন্ত্রাসীদের দমন করতে না পারা, চাঁদাবাজি বন্ধ ও মাদক নির্মূল করতে না পারা।" নাগরিকদের জীবনযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন