প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গহীন সুন্দরবনের একটি দর্শনার্থীর ক্যামেরায় বিরল প্রজাতির মাছ মুরাল ঈগল ধরা পড়েছে। এক সময় এই পাখিটি সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় দেখা যেত, তবে বর্তমানে এটি আর দেখা যায় না। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আবাসস্থল এবং খাদ্য সংকটের কারণে এটি লোকালয় থেকে হারিয়ে গেছে।
২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার, বন্ধুদের সাথে সুন্দরবন ভ্রমণে গিয়ে পাখিটি ক্যামেরাবন্দী করেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর আমিরুল ইসলাম কাগজী। তিনি বলেন, "আমার জন্মস্থান খুলনার পাইকগাছা উপজেলায়। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এলাকায় এসে বন্ধুদের নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে গিয়েছিলাম।"
তিনি আরও জানান, "সেখানে আমার ক্যামেরায় ধরা পড়ে পাখিটি। পাখিটির নাম মাছমুরাল ঈগল (Osprey) যার বৈজ্ঞানিক নাম Pandion Haliaetus।"
বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ। জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ সুন্দরবনে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির সমাহার রয়েছে। সূত্রভেদে এই সংখ্যার কিছুটা তারতম্য দেখা যায়। তবে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক হিসাব অনুযায়ী সুন্দরবনে ২৭০ থেকে ৩২০ প্রজাতির পাখি রয়েছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা ও বোটানিক্যাল সার্ভার অনুযায়ী (যেমন ভারতের জুলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া বা জেডএসআই-এর তথ্যমতে পুরো সুন্দরবন অঞ্চলে) এই সংখ্যা ৪২৮ থেকে ৪৩০ প্রজাতির কাছাকাছি রয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় স্থায়ী পাখি ছাড়াও শীতকালে আসা অসংখ্য পরিযায়ী বা অতিথি পাখিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, "ঈগল পরিচিত পাখি গুলোর মধ্যে অন্যতম। এক সময় সুন্দরবন উপকূলীয় লোকালয়ে প্রচুর ঈগল পাখি দেখা যেত। কালের বিবর্তনে ঈগল পাখি হারিয়ে যেতে বসেছে। লোকালয়ের বিপন্ন প্রজাতির পাখিদের মধ্যে ঈগল অন্যতম।"
তিনি আরও বলেন, "নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা ঈগল পাখি শুধুমাত্র বইয়ের পাতায় দেখে। বাস্তবে দেখতে পাইনা। খাদ্যাভাব এবং নিরাপদ আবাসস্থল সংকটের কারণে ঈগল লোকালয় থেকে হারিয়ে গেছে। ঈগল সহ বিপন্ন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বাস্তবসম্মত সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন