প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন সেবা প্রদান করার জন্য একটি একক ডিজিটাল আইডি চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-নির্ভর ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) গড়ে তুলে আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে এই ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের একটি উচ্চ পর্যায়ের সাইড ইভেন্টে এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জাতিসংঘের মহাসচিবের প্রযুক্তিবিষয়ক দূতের কার্যালয় ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। সেখানে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ডিপিআইয়ের উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন দেশের ডিজিটাল ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় নিয়ে আলোচনা করেন। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে প্যানেলে বাংলাদেশ একমাত্র দেশ হিসেবে অংশগ্রহণ করে।
আরো পড়ুন
হত্যা মামলায় সাবেক এমপি জাফর আলম কারাগারে
বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে রেহান আসাদ বলেন, "আমরা বিশ্বের সবচেয়ে ভালো ও নিরাপদ ডিপিআই এবং ডিজিটাল আইডি বাস্তবায়ন করতে চাই।" তিনি আরও বলেন, "বিভিন্ন দেশের সর্বোত্তম চর্চা ও অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ ডিজিটাল আইডি ও বৃহত্তর ডিপিআই অবকাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছে। এতে সময় লাগবে, কোনো শর্টকাট নেই। তবে আমরা আমাদের ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করছি।"
বাংলাদেশের ডিপিআই অবকাঠামো তৈরির অংশ হিসেবে এস্তোনিয়ার ‘এক্স-রোড’ মডেল নিয়েও কাজ করা হচ্ছে বলে জানান রেহান আসাদ। তিনি বলেন, "সরকারি বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে নিরাপদে তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে এক্স-রোডকে গুরুত্বপূর্ণ মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।"
আরো পড়ুন
সরকারি হাসপাতালের ১ কিমির মধ্যে ক্লিনিক নয়, চিকিৎসকের প্র্যাকটিসও বন্ধ
অনুষ্ঠানে সীমান্তপারের ডিজিটাল সেবা ও পরিচয় ব্যবস্থাকে কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি ডিপিআইয়ের সঙ্গে এআইয়ের সম্পর্ক এবং এসব অবকাঠামো নিরাপদে ব্যবহারে এআইয়ের সম্ভাব্য ভূমিকা উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের উদ্যোগ তুলে ধরে জানানো হয়, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে সীমান্তপারের ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে যৌথভাবে কাজ করছে। রুয়ান্ডা সরকারি সেবা গ্রহণ এবং পূর্ব আফ্রিকায় সীমান্তপারের পরিচয় যাচাইয়ে ডিজিটাল আইডি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নও পারস্পরিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিজিটাল আইডেন্টিটি ওয়ালেট চালুর দিকে এগোচ্ছে। এসব ওয়ালেটের মাধ্যমে নাগরিকরা নিরাপদে নিজেদের পরিচয় যাচাই এবং দেশের বাইরেও ডিজিটাল নথি ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করতে পারবেন।
আরো পড়ুন
পিএসজি-রিয়াল নয়, লিভারপুলের হতে পারতেন এমবাপ্পে
রেহান আসাদ বলেন, রুয়ান্ডার উদ্যোগের লক্ষ্যগুলোর একটি হলো জন্মনিবন্ধন বা বিভিন্ন সনদ সংগ্রহের মতো কাজে নাগরিকদের সরকারি দপ্তরে যাওয়ার প্রয়োজন কমানো। আঞ্চলিক ইন্টারঅপারেবিলিটির মাধ্যমে এক দেশের নাগরিক অন্য দেশেও নিজের ডিজিটাল পরিচয় ব্যবহার করতে পারবেন।
ডিপিআই ব্যবস্থায় নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও আস্থার বিষয়টিও অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পায়। জাতিসংঘের বৃহত্তর ডিপিআই সুরক্ষা উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বড় পরিসরে ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলার সময় নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও সুশাসনসংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবিলা করা।
রেহান আসাদ বলেন, "ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে সরকারি সেবাদানে ডিপিআই ও ডিজিটাল আইডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।" তিনি উল্লেখ করেন, "মূল বিষয় হলো, এটি শুধু বাংলাদেশ বা এশিয়া-প্যাসিফিকের বিষয় নয়। ভবিষ্যতে ডিপিআই ও ডিজিটাল আইডি সরকারি সেবার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।" বিভিন্ন দেশের ডিজিটাল ব্যবস্থা যাতে পরস্পরের সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে এবং একই সঙ্গে আস্থা ও নিরাপত্তা বজায় থাকে, সে জন্য দেশ ও অঞ্চলগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন