প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি মন্তব্য করেছেন, অনলাইনে হুংকারের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণকে ভয় দেখানো সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, ৭২ সালে জনগণ একজনকে বিতাড়িত করেছিল এবং ২৪ সালে আরেকজনকে বিতাড়িত করেছে। বর্তমানে গুম ও খুনের বিচার করে জনগণ তাদের বিরুদ্ধে আবারও রুখে দাঁড়াবে।
বুধবার বিকালে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পৌর এলাকার ধান মহলে আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টার প্রতিবাদে জেলা উত্তর বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে তথ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে জেল, জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করে দেশের জনগণ তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে এবং ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে। যারা এই গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা মাঠে আছি। এ সময় আওয়ামী সন্ত্রাসের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা ১৭ বছর ধরে লুটপাট করেছে, তারা এখন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কাজ করছে এবং সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে। যারা বাংলাদেশের জনগণকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে, তারা আবার বাংলাদেশে ফিরে আসতে চায়। তারা ডিসেম্বরে ফেরত আসবে বলে দাবি করছে। আমি বলি, ডিসেম্বর নয়, বুকের পাঠা থাকলে এখনই দেশে ফিরে আসুন। বাংলাদেশের জনগণ বিচার করার অপেক্ষায় আছে। আমরা চাই, তারা দেশে এসে বিচারের আওতায় আসুক। যারা অসংখ্য মায়ের বুক খালি করেছে, তাদেরকে বিচারের আওতায় দেখতে চাই।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির যুগ্ন মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু দেশের শানিমশ, জননিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের প্রশ্নে কোনো দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলের নীরব থাকার সুযোগ নেই। যারা নিজেদের বিরোধী শক্তি হিসেবে দাবি করেন, তাদেরও সন্ত্রাস, নাশকতা ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে যখন বিএনপি রাজপথে প্রতিবাদ করছে, তখন অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর নীরবতা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। জনগণ জানতে চায়, নাশকতার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান কী? তারা কি প্রকাশ্যে এর প্রতিবাদ করবে, নাকি রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের কারণে নীরব থাকবে? আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশের রাজনীতি হবে জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের রাজনীতি। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে কেউ রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করলে জনগণ তার জবাব দেবে।
ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক একেএম এনায়েত উল্লাহ কালামের সভাপতিত্বে এবং ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা বিএনপির একমাত্র যুগ্ম আহবায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদারের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ, তারাকান্দা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম কাজল, সদস্য সচিব আনিসুর রহমান মানিক প্রমূখ।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উত্তর জেলা ও উপজেলার বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন