ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শশীভুষনে ইয়াবা সহ দক্ষিণ আইচার মাদক ব্যবসায়ী তমাল গ্রেফতার


শশীভুষনে ইয়াবা সহ দক্ষিণ আইচার মাদক ব্যবসায়ী তমাল গ্রেফতার

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানাধীর রসুলপুর ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডে, পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে ৬ পিচ ইয়াবা সহ তমাল জমাদ্দার নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে শশীভুষন থানা পুলিশ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানাযায়, শশীভূষণ থানায় কর্মরত এসআই (নিঃ) সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স সহ গত ১৬ আগষ্ট রবিবার রাতে গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিল ও মাদক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করার সময় রাত ১২ ঘটিকার সময় শশীভূষন থানাধীন রসুলপুর ইউনিয়ন ১ নম্বর ওয়ার্ডস্থ কলমীর মোড়ের পশ্চিম পাশে কাশেম সর্দারের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার উপর অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট ক্রয়-বিক্রির সময় মোঃ তমাল জমাদ্দার (৫৪), পিতা-মৃত আবুল হাসানাত জমাদ্দার, সাং-উত্তর চর কলমী ইউনিয়ন ১ নম্বর ওয়ার্ড, বাবুর হাট এলাকা, থানা-দক্ষিন আইচা, ৬ (ছয়) পিচ অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করেন।

গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ তমাল জমাদ্দার স্বীকার করেন যে, তিনি অন্য থানা এলাকা হতে মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট পাইকারী মূল্যে ক্রয় করে অত্র থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাদক সেবীদের নিকট অবৈধভাবে বিক্রয় করে আসছিলেন। এর আগেও এই মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় আরো ৪ টি মামলা রয়েছে বলে তিনি শিকার করেন।

আরও পড়ুন: রাজশাহী নগরীতে চোরাই ল্যাপটপ ও একডজন মোবাইল ফোন সহ গ্রেফতার ২

শশীভুষন থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফিরোজ আহমেদ ঘটনার সত্যতা শিকার করে বলেন, মাদককারবারি তমাল কে আটক করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। জনগণের স্বার্থে পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুদকের অভিযোগ পরিসমাপ্তি, বিআইডব্লিউটিএর দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সাইদুরের স্বস্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাহামুদ খান

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫৪ পি.এম


দুদকের অভিযোগ পরিসমাপ্তি, বিআইডব্লিউটিএর দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সাইদুরের স্বস্তি

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পুর) মো. সাইদুর রহমান এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রমাণিত না হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এটি পরিসমাপ্তি করেছে।

এ-সংক্রান্ত দুদকের একটি চিঠির তথ্য সাম্প্রতিক সময়ে সামনে আসার পর, সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের সত্যতা ও তথ্য যাচাই নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

দুদক প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-১) মো. কামরুজ্জামানের স্বাক্ষরিত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযোগটি অনুসন্ধানে প্রমাণিত না হওয়ায় চূড়ান্তভাবে পরিসমাপ্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে স্মারক নম্বর ০০.০১.০০০০.০০০.৫০১.০১.০০৩৭.১৭.১৫।

সাইদুর রহমান ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান চলছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অনুসন্ধানে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব থাকায় কমিশন বিষয়টি পরিসমাপ্তির সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।

ফলে, সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগগুলোকে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে গ্রহণ করার আগে বদল হওয়া দুদকের পারিশ্রমিকের সিদ্ধান্তটি বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিআইডব্লিউটিএর কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভাষ্য মতে, দীর্ঘ কর্মজীবনে প্রকৌশলী হিসেবে সাইদুর রহমান বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও কর্তৃত্বপূর্ণতা কারণে তিনি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পেয়েছেন বলেও তাঁদের দাবি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেটা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত হওয়া জরুরি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে শুধুমাত্র সংবাদ বা প্রচারের ভিত্তিতে কাউকে দায়ী করা উচিত নয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, কোন প্রকল্প বা সিদ্ধান্তে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে ওই সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রকৃত দায়িত্ব ও ক্ষমতার পরিধিও খোঁজ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

বিআইডব্লিউটিএর একটি সূত্র দাবি করেছে, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে দায়িত্ব পালন করার সময় সাইদুর রহমান বিভিন্ন অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান অভিব্যক্তি করেছেন। এই কারণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

যা জানতে চাইলে, বিআইডব্লিউটিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পুর) মো. সাইদুর রহমান বলেন, কর্মজীবনে তিনি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং অসৎ বা অনৈতিক চাপের কাছে মাথা নত করেননি।

তাঁর প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, কোনো কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সাংবাদিকদের তা অনুসন্ধান করা উচিত। তবে সংবাদ প্রকাশের পূর্বে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়ো সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব।

তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ব্যক্তি বা স্বার্থান্বেষী মহল কর্তৃক প্রদত্ত তথ্যের ওপর এককভাবে নির্ভর না করে সরকারি নথি, প্রকল্পের কাগজপত্র, সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত এবং প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত।

সাইদুর রহমান আরও জানান, সত্য উদঘাটনের উদ্দেশ্যে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানকে তিনি স্বাগত জানান। তবে যদি মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা হয়, তাহলে একজন কর্মকর্তার পাশাপাশি তাঁর পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জরাজীর্ণ টিনশেডে চরম ঝুঁকি: কাউখালীর উত্তর নীলতি সমতট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ব্যাহত পাঠদান, আকুতি পাকা ভবনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাউখালী প্রতিনিধি

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫৬ পি.এম


জরাজীর্ণ টিনশেডে চরম ঝুঁকি: কাউখালীর উত্তর নীলতি সমতট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ব্যাহত পাঠদান, আকুতি পাকা ভবনের

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার চিরাপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর নীলতি সমতট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনে ঝুঁকি নিয়েই পাঠদান চলছে। টিনের চালের অসংখ্য ছিদ্র, কাদায় ভরা মাটির মেঝে, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং ব্যবহার অনুপযোগী খেলার মাঠের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে ১৬৫ জন শিক্ষার্থী। এ নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৯৯৫ সালে এমপিওভুক্ত হওয়া এই বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ টিনের চালে মরিচা ধরে অসংখ্য ছিদ্রের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে চাল চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ভিজে নষ্ট হচ্ছে। মাটির মেঝে ভিজে কাদা হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রচণ্ড গরমে টিনশেড ঘরের তীব্র উত্তাপে শিক্ষার্থীরা ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে নিচু খেলার মাঠে পানি জমে থাকার কারণে খেলাধুলার সুযোগও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী ইভা, আলভি রহমান ও নিলয় মিস্ত্রি আকুতি জানিয়ে বলেছে, "বৃষ্টির সময় টিনের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে বই-খাতা সব ভিজে যায়। আর গরমের দিনে টিনের চালে ঘরের ভেতরে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অন্যান্য স্কুলের মতো আমরাও একটি আধুনিক পাকা ভবনে নিরাপদে বসে পড়াশোনা করতে চাই।"

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটির ১৬৫ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজ বর্তমানে মাত্র সাতটি জরাজীর্ণ কক্ষে সম্পন্ন হচ্ছে। এত সব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীরা পাবলিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে এবং মেধা তালিকায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে।

অভিভাবকরা হতাশা প্রকাশ করে জানান, সরকার শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিলেও দীর্ঘ পাঁচ দশকেও এই বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত কোনো পরিবর্তন হয়নি। কোমলমতি সন্তানদের নিরাপদ শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহানারা আক্তার বলেন, "আমরা প্রতিনিয়ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জীবন ঝুঁকিতে রেখে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছি। ঝড়-বৃষ্টির দিনে চরম আতঙ্কে থাকতে হয়। নতুন বহুতল ভবনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার লিখিত আবেদন জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।"

বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত বেহাল দশা নিয়ে কাউখালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল হান্নান বলেন, "উত্তর নীলতি সমতট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবস্থা ও শিক্ষার্থীদের কষ্টের বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। ইতিমধ্যে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন ভবনের প্রাক্কলন পাঠাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে পাকা ভবন নির্মাণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, "শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভৌত অবকাঠামো উন্নত রাখা এবং শিক্ষার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। বিদ্যালয়টির জরাজীর্ণ অবস্থার সার্বিক তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করে খুব শিগগিরই পাকা ভবন বরাদ্দের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে বেরোবির আওয়ামীপন্থী দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা কে কোথায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বেরোবি প্রতিনিধি

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ পি.এম


২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে বেরোবির আওয়ামীপন্থী দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা কে কোথায়

২৪-এর জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান এবং বীর শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের পুণ্যভূমি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) রাজনীতি ও প্রশাসনের অবস্থান এক নতুন ও রহস্যময় মোড় নিয়েছে। পতিত স্বৈরাচারের দোসর এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে প্রকাশ্য ও গোপনে বিরোধিতা করা চরম আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা শুধু আত্মগোপনে রয়েছেন তা নয়; বরং তাদের একটি বড় অংশ খোলস পাল্টে বর্তমান প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ গ্রহণ করে ক্যাম্পাসে পুনর্বাসিত হচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কিছু শিক্ষক দায়িত্বে রয়েছেন, আবার কেউ খুলসে আড়ালে বাস করছেন।

ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভ, জাতীয় গণমাধ্যম এবং নির্ভরযোগ্য গোপন তথ্যানুযায়ী বেরোবির বিতর্কিত ও তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বর্তমান অবস্থানের সর্বশেষ চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো।

শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভ ও রক্তক্ষয়ী জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বেরোবির চরম আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সংগঠন ‘নীল দল’-এর দুই বারের সাবেক সভাপতি ড. নিতাই কুমার ঘোষকে কলা অনুষদের ডিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এছাড়াও ঐ সময়ের পরিবহন পরিচালক এখন ক্যাম্পাসের হল প্রভোস্টের দায়িত্বেও রয়েছেন।

২৪ এর চরম উত্তালের সময় প্রশাসনের সাথে সরাসরি যুক্ত থেকে শিক্ষার্থীদের বিরোধিতা করেছিলেন ঐ সময়ের পুরো প্রক্টরিয়াল বডি। যেখানে প্রক্টর শরিফুল ইসলাম কে ব্যর্থতার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে, তবে তিনি এখন কারাগারে রয়েছেন। বাকি সহকারী প্রক্টরগণ ৫ আগস্টের পরপরই আবার প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত হয়েছেন। এর মধ্যে জুলাই আন্দোলনের সময় তৎকালীন প্রশাসনের সহযোগী হিসেবে কাজ করা সহকারী প্রক্টর মো. ইসমাইল হোসেন, যিনি গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, পরিবর্তনের পরও সম্পূর্ণ নিরাপদ ও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। শোনা যাচ্ছে, বর্তমান উপাচার্যের (ভিসি) সাবেক ছাত্র হওয়ার সুবাদে তিনি এই সুবিধা পেয়েছেন বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।

এছাড়াও, জুলাই বিপ্লবের সময় ছাত্রদের বিপদে পাশে না দাঁড়িয়ে স্বৈরাচারের পক্ষে দালালি করার জন্য তৎকালীন ছাত্র উপদেষ্টা, নীল দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ারুল আজিম ৫ আগস্টের পর পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেও বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ 'ধরাছোঁয়ার বাইরে' চলে গেছেন।

এদিকে একাধিক গোপন সূত্রে জানা গেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে টেলিগ্রাম সিক্রেট গ্রুপের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর গোপন লিয়াজোঁ রক্ষাকারী বেরোবির ৭ জন শিক্ষকের তালিকায় তৎকালীন বহিরাঙ্গন পরিচালক এবং শিক্ষামন্ত্রী নওফেলের ঘনিষ্ঠ সাব্বীর আহমেদ চৌধুরীর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যিনি জুলাই বিপ্লবের পর শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে পড়ে নিজেদের বাঁচাতে এক অভিনব কৌশল নিয়ে দ্রুত ক্যাম্পাস থেকে চলে যান। এমফিল করার অজুহাতে ঢাকায় অবস্থান করেন ১ বছর। এর পর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলে শাখা ছাত্রদল তাকে মাঠে দৌড়ানি দেয় বলেও শোনা গেছে।

হাসিনাকে ফেরানোর ওই গোপন তৎপরতার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় চরম আওয়ামীপন্থী শিক্ষক আসাদ মন্ডল ও ড. মশিউর রহমান শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তারা দুজনেই পলাতক রয়েছেন। এছাড়াও ঐ সময়ের বিভিন্ন দায়িত্ব প্রাপ্ত নীল ও হলুদ দলের বিভিন্ন শিক্ষকগণ এখনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন, "আমরা এই বিষয়ে অবগত রয়েছি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলেছি, ফ্যাসিস্ট শিক্ষামন্ত্রী এর শিক্ষক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমরা ছাত্রদল সবসময় ফ্যাসিস্টের দোসরদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি করেছি।"

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের নেতা শিবলী সাদিক বলেন, "জুলাই বিপ্লবের আজ দীর্ঘ দুই বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয়, শহীদ আবু সাইদের ক্যাম্পাসে এখনো ফ্যাসিস্টের দোসর শিক্ষকরা খোলস পাল্টে নানা পদে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আবু সাইদ বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে জীবন দিলেও তার বিশ্ববিদ্যালয় এখনো ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়নি।"

উল্লেখ্য, আমরা বিশ্বস্ত গণমাধ্যমের সূত্রে জানতে পেরেছি, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতজন শিক্ষক স্বৈরাচার হাসিনাকে পুনর্বাসনের জন্য কাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নামমাত্র তদন্ত কমিটি গঠন করলেও এখনও এর কোনো দৃশ্যমান ফলাফল পাওয়া যায়নি।

এমতাবস্থায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি—দ্রুত ফ্যাসিস্টের দোসর শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি, তারা যদি কোনো প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করেন, সেসব পদ থেকে তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া উচিত এবং প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে ৫৫ টা পদ আছে। আমাদের তো ৫৫ জন শিক্ষক দরকার, যেটা প্রাসঙ্গিক। অনেকেই জাতীয়তাবাদী ফোরামের শর্ত পূরণ করেছেন। এটা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার। সারাজীবন কেউ আওয়ামী লীগ এর রাজনীতি করবে এমন তো নয়। অনেক বড় নেতারা তাঁদের রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করে বর্তমানে বিএনপিতে রয়েছেন। আমাদের সবাইকে নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করতে হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের রায় ঘোষণা হতে পারে যেকোনো দিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫৯ পি.এম


ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের রায় ঘোষণা হতে পারে যেকোনো দিন

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির পক্ষে বিপক্ষে শুনানি শেষ হয়েছে।

সোমবার শুনানি শেষে রায় অপেক্ষমাণ রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ফলে যেকোনো দিন এ মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে।

এ মামলায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন এম হাসান ইমাম ও ইশরাত জাহান। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম। এর আগে, গত woensdag রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এতে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে প্রসিকিউশন।

একই সঙ্গে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশও চাওয়া হয়েছে।

ওবায়দুল কাদেরসহ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%