প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহীর রিপন আলী পেশায় একজন কশাই হলেও, পশুর হাড় ও শিং দিয়ে নান্দনিক শিল্পকর্ম তৈরি করা তার নেশা। গত এক দশক ধরে তিনি গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার পরিত্যক্ত মাথা সংগ্রহ করে সেগুলোকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় নান্দনিক শোপিসে রূপ দিচ্ছেন। মাটি বা কাঠের প্রথাগত শোপিসের বাইরে তার এই ব্যতিক্রমী উদ্ভাবন এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। রাজশাহী ব্যুরো জানায়, গত কয়েক বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম ও নিজস্ব গবেষণার মাধ্যমে এই বিশেষ পদ্ধতিটি আয়ত্ত করেছেন ৪০ বছর বয়সি রিপন আলী। বর্তমানে তার সংগ্রহে ১০০টিরও বেশি শৈল্পিক শোপিস রয়েছে। একটি কক্ষে তিনি পশুর এসব শিং ও মাথা থরে থরে সাজিয়ে রেখেছেন, যা দেখতে আসকো দর্শনার্থীরা প্রতিদিন ভিড় করছেন। রিপন আলীর এই ব্যতিক্রমী যাত্রার শুরু মোটেও সহজ ছিল না। রাজশাহীর শালবাগান কশাইপট্টিতে কাজ করার সময় একদিন তিনি একটি মহিষের বিশাল শিং দেখে তার মাথায় এটি সংরক্ষণের চিন্তা করেন। বন্ধুদের পরামর্শে এবং নিজের দীর্ঘ ১০ বছরের মেধা ও একাগ্রতা দিয়ে ২০১৭ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কাজ শুরু করেন। রিপন জানান, তিনি সব ধরনের মাথা নেন না; কেবল যেসব পশুর শিং দেখতে আকর্ষণীয়, সেগুলোই সংগ্রহের জন্য বেছে নেন। এই শিল্পকর্ম তৈরির সঠিক পদ্ধতি জানার জন্য রিপন আলী অনেক বিশেষজ্ঞ এবং চিকিৎসকের দ্বরস্থ হয়েছিলেন। তবে কেউ তাকে সঠিক পরামর্শ দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত দমে না গিয়ে, দীর্ঘ কয়েক বছর নিজের প্রচেষ্টায় তিনি পশুর মাথা ও শিং পচনমুক্ত করে শোপিসে রূপান্তরের কৌশল উদ্ভাবন করেন। শুরুর দিকে পশুর হাড়ের দুর্গন্ধ ও অর্থ ব্যয়ের কারণে পরিবার ও প্রতিবেশীদের উপহাস সহ্য করতে হলেও এখন দৃশ্যপট বদলেছে। এখন তার পরিবার এবং দর্শনার্থীরা এই নান্দনিক কাজের প্রশংসা করছেন। রিপন আলী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি কেবল বাজার থেকে কেনা গৃহপালিত পশুর (গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া) মাথা ব্যবহার করেন। বাঘ বা হরিণের মতো কোনো সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর অঙ্গ তিনি স্পর্শ করেন না। তার মূল লক্ষ্য হলো এই শিল্পকে বাণিজ্যিক রূপ দেয়া। তিনি মনে করেন, গৃহপালিত পশুর হাড় দিয়ে তৈরি এসব শোপিস যদি সহজলভ্য হয়, তবে মানুষ বন্যপ্রাণী নিধনের বদলে ঘর সাজানোর প্রবণতা থেকে সরে আসবে। এতে বন্যপ্রাণী হত্যা রোধ হওয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে একে একটি নতুন শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখছেন এই শিল্পী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন