ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জন্য ভাড়া, কক্ষে প্রেসক্লাবের নামে, কয়েক জনে ষড়যন্ত্র করে সাইনবোর্ড —শাল্লায় উত্তেজনা


ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জন্য ভাড়া, কক্ষে প্রেসক্লাবের নামে, কয়েক জনে ষড়যন্ত্র করে সাইনবোর্ড —শাল্লায় উত্তেজনা

শাল্লা উপজেলায় সুনামগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের বাণিজ্যিক স্থান ভাড়া নেওয়ার প্রেক্ষাপটে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এক পক্ষের দাবি, ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলা একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার জন্য চুক্তির মাধ্যমে ভাড়া নেওয়া হয়েছে। অপরদিকে, গত ২৯ আগস্ট ভবনের দুটি কক্ষে ‘শাল্লা উপজেলা প্রেসক্লাব’ লেখা সাইনবোর্ড লাগানোর অভিযোগ উঠেছে।

চুক্তিপত্র অনুযায়ী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলা ‘প্রস্তাবিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ স্থাপনের জন্য রনি সূত্রধরের সঙ্গে ২০২৬ সালের ৮ জুলাই চুক্তি সম্পাদন করা হয়। চুক্তিতে মাসিক ভাড়া ২২ হাজার টাকা এবং দুই লাখ টাকা জামানতের উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট শর্তে পাঁচ বছরের জন্য চুক্তির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া, চুক্তিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভাড়া নেওয়া স্থান শুধুমাত্র ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন ও পরিচালনার কাজে ব্যবহার করা যাবে এবং প্রথম পক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ভবনের অন্য কোনো তলা, ছাদ, বারান্দা বা খালি জায়গা ব্যবহার বা দখল করা যাবে না। অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে স্থান হস্তান্তর বা উপ-ভাড়া দেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কোনো সেক্টর থেকেই চাঁদাবাজির সুযোগ দেওয়া হবে না: এমপি জসিম উদ্দিন

ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, চুক্তির পর থেকে তারা ক্লিনিকের জন্য ফার্নিচারসহ বিভিন্ন কাজ করে আসছেন এবং উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করেছেন। এর মধ্যে গত ২৯ আগস্ট ‘শাল্লা উপজেলা প্রেসক্লাব’-এর নামে দুটি কক্ষে সাইনবোর্ড লাগানোর পর উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

ক্লিনিকপক্ষের অভিযোগ, বাদল চন্দ্র দাস ও সন্দীপন দাস সুজন নামে দুই ব্যক্তি প্রেসক্লাবের সাইনবোর্ড লাগানোর সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, বিপ্লব রায় নামের একজনও এ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত এবং তার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এদিকে, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যে প্রেসক্লাবের পক্ষের লোকজনের উপস্থিতি ও যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা প্রশ্ন তুলেছেন যে, দলের নেতাদের একটি অংশের এমন অবস্থান নিয়ে দলের ভেতরেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে বিএনপির অপর একটি পক্ষ বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বিশ্বপতি চক্রবর্তী জানিয়েছেন, "আমরা রনি সূত্রধর নামের একজনকে ক্লিনিকের জন্য প্রথম ও দ্বিতীয় তলা ভাড়া দিয়েছি। প্রেসক্লাবের নামে যারা সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন, তারা অনেক আগে থেকেই নিয়েছিলেন। তবে তারা এখন পর্যন্ত কোনো সিকিউরিটি দেননি এবং এক টাকাও ভাড়া পরিশোধ করেননি। বিষয়টি নিয়ে ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা বলে কী করা যায়, তা দেখব।"

আরও পড়ুন: জোরারগঞ্জে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৪, কারাদণ্ড ৫ মাদকসেবীর

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াসচন্দ্র দাসের সঙ্গে সাংবাদিকরা রাতে যোগাযোগ করলে তিনি অসুস্থতার কারণে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। পরদিন সকালে ক্লিনিকপক্ষের লোকজন তাঁর সঙ্গে কথা বললে তিনি দুই পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।

মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনার একটি ভবনে একই স্থানের দখল ও ব্যবহার নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। চুক্তিপত্রের শর্ত, ভাড়া ও জামানত প্রদান এবং প্রেসক্লাবের নামে কক্ষ ব্যবহারের বৈধতা—এসব বিষয় প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রনি সূত্রধরের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, "এখানে আরও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক রয়েছেন। তাঁর ষড়যন্ত্রেই আমার ভাড়া নেওয়া স্থানে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। চুক্তি অনুযায়ী আমি জায়গাটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার জন্য ভাড়া নিয়েছি এবং ইতোমধ্যে সেখানে বিভিন্ন কাজে অর্থ ব্যয় করেছি।"

আরও পড়ুন: বোয়ালখালীতে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ নুর মোহাম্মদ গ্রেপ্তার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘বাড়ি ছাড়ুন, না হলে মেরে গুম করে দেব’—বৃদ্ধা ও প্রতিবন্ধী ছেলের আতঙ্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫১ পি.এম


‘বাড়ি ছাড়ুন, না হলে মেরে গুম করে দেব’—বৃদ্ধা ও প্রতিবন্ধী ছেলের আতঙ্ক

আগুনের লেলিহান শিখা ঘরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। বৃদ্ধা জরিনা বেগম প্রাণ বাঁচাতে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছেলে ঠান্ডু মিয়া। একদিকে আগুনের তীব্রতা, অন্যদিকে ছেলেকে নিরাপদে বের করে আনার উৎকণ্ঠা। শেষ পর্যন্ত চিৎকার করে ছেলেকে ঘর থেকে বের করে আনতে সক্ষম হন তিনি। প্রাণে বেঁচে গেলেও সেই রাতের আতঙ্ক এখনো মা-ছেলেকে তাড়া করে ফিরছে।

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মানিকপুর এলাকায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের কারণে বৃদ্ধা জরিনা বেগম ও তাঁর বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছেলে ঠান্ডু মিয়াকে মারধর, বসতঘর ভাঙচুর এবং পরে ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমি দখলের উদ্দেশ্যে তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এমনকি বাড়ি না ছাড়লে মেরে গুম করে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার প্রতিকার ও নিরাপত্তা চেয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্তের জন্য থানায় পাঠানো হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে গণমাধ্যমকর্মী ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরেন জরিনা বেগম। তিনি জানান, তাঁর স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় জমি কিনে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর কবরও ওই জমির উঠানে দেওয়া হয়েছে।

জরিনা বেগম বলেন, “এই বাড়ি আমার স্বামীর। আমরা বহু বছর ধরে এখানে থাকি। যে জমি নিয়ে তারা দাবি করছে, সেই জায়গাতেই আমার স্বামীর কবর রয়েছে। আমাকে এক সপ্তাহের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে। না গেলে মেরে গুম করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি একজন বৃদ্ধ মানুষ। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে একা থাকি। অন্য ছেলেরা ঢাকায় চাকরি করে। এই সুযোগে আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

জরিনা বেগমের মেয়ে হোসনে-আরা বেগম আদালতে দেওয়া অভিযোগে আটজনের নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময় তাঁদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন।

অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—সেকান্দার ব্যাপারী (৫০), এসকান্দার ব্যাপারী (৪৫), বেলায়েত তালী (২০), নাদিম তালী (২০), ইদ্রিস তালী (৫৫), নূর ইসলাম তালী (৩০), আনোয়ারা বেগম (৫৫) ও ফাতেমা বেগম (৪৫)।

আদালতে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, গত ২১ আগস্ট রাতে কয়েকজন ব্যক্তি রামদা, ছেনদা ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় জরিনা বেগমকে গালিগালাজ করা হয়। প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারধর এবং হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ করা হয়েছে।

মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে ঠান্ডু মিয়াকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। তাঁর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা এবং পরে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করার অভিযোগও রয়েছে।

পরিবারের দাবি, ওই ঘটনায় জরিনা বেগম ও ঠান্ডু মিয়া আহত হন। তাঁদের শরীরে এখনো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, হামলার পরও ঘটনার অবসান হয়নি। হামলাকারীরা তাঁদের বসতঘরের টিনের বেড়া ও চাল ভাঙচুর করেন। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরদিন ২২ আগস্ট রাত আনুমানিক একটার দিকে বসতঘরের চারপাশে পেট্রল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে জরিনা বেগম চিৎকার শুরু করেন। একপর্যায়ে নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে ছেলেকে ঘর থেকে বের করে আনেন তিনি।

জরিনা বেগম বলেন, “আগুন লাগার পর আমি শুধু ছেলেকে কীভাবে বের করব, সেটাই ভাবছিলাম। আল্লাহর রহমতে দুজনই বের হতে পেরেছি। এখন রাত হলেই ভয় লাগে।”

স্থানীয় সালিশ লিটন মাতুব্বর বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি মীমাংসার জন্য তাঁরা একাধিকবার চেষ্টা করেছেন।

তিনি বলেন, “আমরা কয়েক দফা সালিশ করেছি। বৃদ্ধ মহিলা প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে থাকেন। তাঁর অন্য ছেলেরা ঢাকায় চাকরি করেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা মানা হয়নি। এরপর তাঁদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও সালিশি শহিদুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমরা স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছি। একজন বৃদ্ধ নারী ও তাঁর প্রতিবন্ধী ছেলের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে সেটি আইনগতভাবে সমাধান করা উচিত। হামলা, ভয়ভীতি বা আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা এলাকায় আরও উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।

তবে ভুক্তভোগী পরিবারের করা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত এসকান্দার ব্যাপারী। তিনি বলেন, “তাঁদের সঙ্গে আমাদের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা তাঁদের মারধরও করিনি। এসব অভিযোগ মিথ্যা।”

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, “আদালত থেকে অভিযোগটি তদন্তের জন্য আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসিকে ‘বিশ্বসেরা’ বললেন কাসেমিরো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫২ পি.এম


মেসিকে ‘বিশ্বসেরা’ বললেন কাসেমিরো

ব্রাজিলিয়ান তারকা কাসেমিরো লিওনেল মেসিকে ফুটবলের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন, অতীত দ্বৈরথ এবং দীর্ঘদিনের ক্লাব সতীর্থ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বন্ধুত্বকে একপাশে সরিয়ে রেখে। এই মন্তব্যটি এসেছে ইন্টার মায়ামির ৭-১ গোলের বিশাল জয়ের পর, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল সিএফ মন্ট্রিয়াল।এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি এই ম্যাচে একাই ৪ গোল (সুপার হ্যাটট্রিক) এবং ১ অ্যাসিস্ট করেন, যেখানে কাসেমিরোও ইন্টার মায়ামির হয়ে প্রথম গোলটি করেন।

 

ম্যাচ শেষে ফ্ল্যাশ সাক্ষাৎকারে কাসেমিরো বলেন, “দলে মেসি থাকার মানে এটাই। বিশ্বকাপে সে তা দেখিয়েছে। আমাদের এই মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে হবে, কারণ সে এমন একজন খেলোয়াড় ও ব্যক্তি যে প্রতিনিয়ত ইতিহাস তৈরি করে চলেছে।

 

মন্ট্রিলের বিপক্ষে তার সর্বশেষ চার গোলের কীর্তি দেখার পর তিনি মন্তব্য করেন, “আজ আমরা যা দেখলাম, তা আমাদের উপভোগ করতেই হবে। আমাদের তাকে সমর্থন করে যেতে হবে এবং তার পাশে থেকে প্রতিযোগিতা করতে হবে, কারণ সে এখনও সেরা। মেসি বিশ্বকে এটাই দেখিয়ে চলেছে। তাকে নিয়ে আমরা সত্যিই অনেক বেশি শক্তিশালী।

কাসেমিরোর মুখ থেকে মেসির এমন প্রশংসা বিশ্বে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, কারণ তিনি রিয়াল মাদ্রিদ এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে দীর্ঘ সময় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে খেলেছেন। স্পেনে খেলার সময় রিয়াল মাদ্রিদের রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে বার্সেলোনার মেসির বিরুদ্ধে মাঠে বহু কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাকে।

চলতি বছরের জুলাই মাসে ইউরোপের অধ্যায় শেষ করে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। মন্ট্রিয়ালের বিপক্ষে মায়ামির জার্সি গায়ে তার প্রথম গোলটি আসে।

 

ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে মেসির সঙ্গে একই দলে খেলার স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে কাসেমিরো এবং স্বীকার করেন, “মেসির বিরুদ্ধে খেলার চেয়ে তার পাশে খেলা অনেক বেশি আনন্দের।”

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘মালয়েশিয়া মডেলে দেশে রাস্তা হবে, নষ্ট হবে না বর্ষায়’  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫২ পি.এম


‘মালয়েশিয়া মডেলে দেশে রাস্তা হবে, নষ্ট হবে না বর্ষায়’  

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, মালয়েশিয়ার রাস্তায় এক ধরনের রাবারাইজ বিটুমিন ব্যবহার করা হয়। তাতে করে বৃষ্টিতে রাস্তা নষ্ট হয় না। সরকার এ কারণে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পর্যায়ক্রমে। এতে মালয়েশিয়া কারিগরি সহায়তা দেবে।

রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পলিমার মডিফাইড বিটুমিন যেটি মানে রাবারাইজ বিটুমিন, এটার বিষয়ে কারিগরি সহযোগিতা তারা (মালয়েশিয়া) আমাদের দেবে। এটা সাধারণত রোড কার্পেটিংয়ের কাজে ব্যবহার হয়। আপনারা জানেন, মালয়েশিয়ার রাস্তাগুলো, ওখানে কিন্তু প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। কিন্তু তাদের কার্পেটিংয়ের রাস্তা কিন্তু সহজে নষ্ট হয় না। কারণ তারা কার্পেটিংয়ের সঙ্গে রাবারটা ইউজ করে। এই প্রযুক্তি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০০৫ সালে যখন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন তখন বগুড়া সদরে তার নির্বাচনি এলাকায় আমাদের বর্তমান সচিব শহিদুল হাসান তখন এলজিডি চিফ ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন, সেই সময় এটা কিন্তু আমরা মালয়েশিয়া থেকে এই যে পলিমার মডিফাইড বিটুমিন আমরা ওই সময় নিয়ে এসে কিন্তু দুই কিলোমিটার রাস্তা পাইলটিং করেছিলাম।

তিনি বলেন, সেই রাস্তা কিন্তু এখনও ঠিক আছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে পর্যাক্রমে বৃষ্টির মৌসুমে যাতে রাস্তাগুলি নষ্ট হয়ে না যায় আমরা পর্যাক্রমে শুরু করবো। যেহেতু প্রযুক্তিটা আমাদের কাছে এভেলেবল না ২০ শতাংশ রাস্তা এখন থেকে আমরা যেন আমরা রাবারইজ বিটুমিন দিয়ে করতে পারি। তাহলে হবে কি বিটুমিনের সঙ্গে রাবারটা থাকলে মালয়েশিয়ার মডেলে বর্ষাকালে আমাদের রাস্তাগুলো সহজে নষ্ট হবে না। এই কারণে এ বিষয়ে মালয়েশিয়া আমাদের কারিগরি সহায়তা দেবে এবং এই সহযোগিতা নিয়ে আমরা ভবিষ্যতের যে গ্রামীণ রাস্তাগুলি যেটা রিপেয়ার করবো মেন্টেনেন্স করবো বা নতুন রাস্তা হবে এটা আমরা রাবার বেইজ কার্পেটিং বিটুমিন দ্বারা কার্পেন্টিংয়ের জন্য আমরা এগিয়ে যাবো।

তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয়ত মালয়েশিয়া আমাদের জানিয়েছে, আমাদের এখানে তারা ইভি ইলেকট্রিক ভেহিকেলে তারা এখানে ইনভেস্ট করবে। এরপরে আমাদের সোলার প্যানেলে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ যেটা রেননিয়েবল এনার্জি বলছি সেখানে তারা ইনভেস্ট করবে। হালাল ফুডে তারা এখানে ইনভেস্ট করবে এবং সব মিলিয়ে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের মতো ইনভেস্টমেন্ট করার বিষয়ে একটা প্রস্তুতি চলছে এবং আমরা তার বক্তব্যে আমরা যেটুকু বুঝেছি যে খুব দ্রুতই এ সমস্ত প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং বাংলাদেশ থেকে যে জনশক্তি রফতানি হবে সেটি সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ শুরু হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে তৈরি গাড়ির সিট কভার যাচ্ছে জাপানে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৩ পি.এম


বাংলাদেশে তৈরি গাড়ির সিট কভার যাচ্ছে জাপানে

দুই দশকের যাত্রায় ঈর্ষণীয় অগ্রগতি অর্জন করে চলেছে আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড)। এই ইপিজেডেই অবস্থিত টিএস টেক বাংলাদেশ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটিতে তৈরি আন্তর্জাতিক মানসম্মত গাড়ির সিটের কভার রপ্তানি হচ্ছে জাপানে। সেখানে এসব কভার দিয়ে সম্পূর্ণ আসন বা সিট তৈরি করে সংযোজন করা হচ্ছে হোন্ডা ও সুজুকিসহ বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির গাড়িতে।

টিএস টেক বাংলাদেশ লিমিটেড বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করেছে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে দেশে ৪৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং সেখানে ৩৭৫ জন কর্মী কাজ করছেন। 

গত অর্থবছরে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। মূলত জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আসনের ট্রিম কভার সরবরাহ করে থাকে তারা।

বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া ছয়তলা স্ট্যান্ডার্ড ফ্যাক্টরি বিল্ডিংয়ে (এসএফবি) কার্যক্রম চলছে প্রতিষ্ঠানটির। কারখানাটিতে শ্রমিকেরা চামড়া ও অন্যান্য উপকরণ নির্দিষ্ট নকশা অনুযায়ী কেটে বিভিন্ন অংশ সেলাই করে সিটের ট্রিম কভার তৈরি করেন। কাঁচামালের বেশির ভাগই আসে জাপান ও চীন থেকে।

তৈরি কভারগুলো পরে জাপানে টিএস টেকের বিভিন্ন কারখানায় পাঠানো হয়। সেখানে এগুলো দিয়ে সম্পূর্ণ আসন তৈরি করে সরবরাহ করা হয় সংশ্লিষ্ট গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে।

টিএস টেক বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাতোরু ওনিশি বলেন, জাপানে আমাদের বড় ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে হোন্ডা, ইয়ামাহা, সুজুকি ও কাওয়াসাকি। বাংলাদেশে আমরা মূলত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের আসনের ট্রিম কভার এবং দরজা ও ছাদের ট্রিমের মতো প্লাস্টিকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি করি। কাঁচামাল কাটা ও সেলাইয়ের কাজ মূলত বাংলাদেশের কারখানায় করা হয়। এরপর জাপানে সম্পূর্ণ আসন তৈরি করা হয় এবং পরে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সেগুলো গাড়িতে সংযোজন করে।

বাংলাদেশের কারখানাটিতে বর্তমানে বছরে প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার সিটের ট্রিম কভার তৈরি হচ্ছে। আগামী বছরও উৎপাদন প্রায় একই পর্যায়ে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

উৎপাদন কার্যক্রমের পাশাপাশি কর্মীদের সহায়তায় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা চালু করেছে টিএস টেক বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের প্রায় ৬০ শতাংশই নারী।

২০২৫ সালে কারখানার ভেতরেই একটি ডে-কেয়ার সেন্টার চালু করে প্রতিষ্ঠানটি। গর্ভবতী কর্মীদের জন্যও বিশেষ সুবিধা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। তাদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে সবুজ রিবন পরানো হয়, যাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া যায়।

টিএস টেক একটি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের অধীনে তাদের ৭৩টি কারখানা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করেন প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার কর্মী। এর মধ্যে জাপানেই রয়েছেন প্রায় ১৬ হাজার কর্মী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%