প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
১৪৩৩ বঙ্গাব্দের আজ ১৩ কার্তিক। হেমন্তকাল চলছে। শীতের আগমন সামনে। নদীকেন্দ্রিক প্রকৃতিতে এই সময় নির্মল আকাশের সাথে শান্ত জলরাশির মিলন ঘটে। তবে শীতলক্ষ্যা নদীতে কচুরিপানার সৌন্দর্য বেড়ে গেছে।
প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী ঋতুর পালাবদল ঘটে। শরতের পর হেমন্তের প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা আসে। নীল আকাশে সাদা মেঘ, নদীর শান্ত জলের প্রবাহ এবং তার বুকে ভেসে থাকা কচুরিপানার সবুজের সমারোহ এখন গাজীপুরের শীতলক্ষ্যা নদীকে ঘিরে রয়েছে। গ্রামবাংলার এই পরিচিত রূপে প্রকৃতিপ্রেমীরা মুগ্ধ হয়ে পড়ছেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে শীতলক্ষ্যা নদের কালীগঞ্জের খপয়াঘাট এলাকায় সেখানে ঘুরতে আসা বেশ কয়েকজনের সঙ্গে দেখা হয়। তাদের মতে, হেমন্তের বিকেলের এই দৃশ্য তাদের কাছে প্রকৃতির ক্যানভাসে আঁকা অপরূপ ছবি। কোথাও শান্ত জলে ভেসে থাকা কচুরিপানা, কোথাও দলবদ্ধ সবুজ জলজ উদ্ভিদের ভেলা। নদীর তীর ঘেঁষে বিস্তৃত জনপদ এবং দূরের গাছপালা মিলিয়ে সৃষ্টি করেছে মনোরম দৃশ্য। হেমন্তের এই প্রকৃতি জানিয়ে দিচ্ছে শীত আসতে বেশি দেরি নেই।
বাংলার ছয় ঋতুর মধ্যে হেমন্তের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। বর্ষার জলমগ্ন প্রকৃতি ধীরে ধীরে শুষ্কতার দিকে এগিয়ে যায় এ ঋতুতে। মাঠে মাঠে পাকা ধানের সোনালি আভা, ভোরের শিশিরভেজা ঘাস এবং হালকা শীতের পরশ গ্রামবাংলায় নিয়ে আসে নতুন আবহ। এর প্রভাব নদীকেন্দ্রিক জনপদে সবচেয়ে বেশি পড়ে।
আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে নদীর পাড়ের পরিবেশে ভিন্নমাত্রা যোগ হয়। তবে শীতলক্ষ্যার সৌন্দর্যের আড়ালে নদীটির পরিবেশ ও নাব্যতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কচুরিপানার সৌন্দর্য থাকলেও নদীর পানিতে এর বিস্তার জলপ্রবাহ ও নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। পাশাপাশি নদীদূষণ, দখল এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়।
নদীর প্রকৃত সৌন্দর্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য সুরক্ষায় নিয়মিত পরিচর্যা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং দখলমুক্ত রাখা প্রয়োজন বলে মত দর্শনার্থী ও নদীপারের মানুষের।
বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক ডা. বোরহান উদ্দিন অরণ্য কালের কণ্ঠকে বলেন, "প্রকৃতিকে রক্ষায় নদীরক্ষার বিকল্প নেই। শীতলক্ষ্যা নদীর কচুরিপানা স্থায়ীভাবে দূর করতে না পারলে নদীর প্রাণ স্থবির হয়ে পড়বে। তাই নদী রক্ষায় সবার সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।"
এদিকে, হেমন্তের শুরু থেকেই শীতলক্ষ্যার ঘাটে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। কালীগঞ্জ খেয়াঘাটের ফুসকা বিক্রেতা হাবিবা আক্তার কালের কণ্ঠকে জানান, "সকালে ক্রেতা তেমন হয় না। তাই দুপুরের পর দোকান খোলেন তিনি। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত অনেক দর্শনার্থী নদী দেখতে আসেন। তারা ফুচকা খেতে খেতে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করেন।"
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম কামরুল ইসলাম বলেন, "নদী ও নদীর সৌন্দর্য রক্ষায় বর্তমান সরকার সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে। খুব শিগগির বিষয়টি ভালোভাবে দৃশ্যমান হবে আশা করি। শীতলক্ষ্যার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নাব্যতা রক্ষায় আমরা কাজ করছি।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন