প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা এবং অন্যান্য বেসামরিক জনসংখ্যার ওপর চলমান সহিংসতা ও নিধনযজ্ঞ থামার কোন লক্ষণ নেই। ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে বাড়িঘর, স্কুল, চিকিৎসাকেন্দ্র, ধর্মীয় স্থাপনা এবং অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের শিবিরকে লক্ষ্য করে পরিচালিত বিমান হামলা সংঘটিত হয়েছে, যার ফলে মৃত্যুর, আহতের সংখ্যা এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের প্রমাণ পাওয়া গেছে আন্তর্জাতিক তদন্ত ব্যবস্থা (আইআইএমএম) দ্বারা।
আইআইএমএমের দ্বারা পরিচালিত তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্যারামোটর এবং ড্রোনের সাফল্যজনক ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার কারণে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা করার জন্য আগাম সংকেত চিহ্নিত করা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে হামলার প্রেক্ষিতে পালিয়ে যাওয়ার বা নিরাপদ আশ্রয়ে আশ্রয় নেয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ছে। আইআইএমএম এ হামলার জন্য দায়ী কিছু সামরিক ইউনিটকেও চিহ্নিত করেছে।
অন্যদিকে, সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালিত আটককেন্দ্রগুলোতে নির্বিচারে আটক, নির্যাতন এবং যৌন সহিংসতার উল্লেখযোগ্য প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করেছে আইআইএমএম। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের নির্বাচনের সমালোচনাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে আইনে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ঘটনার চিত্র।
ওই আইনের অধীনে অনেক মানুষকে আটক করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনামূলক মন্তব্য পোস্ট করার জন্য তাদের সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
তবে আইআইএমএম-এর তদন্ত শুধু মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী এবং তাদের সহযোগী মিলিশিয়াদের কর্মকান্ড সংক্রান্ত নয়। সামরিক বাহিনীর বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কথিত নৃশংসতার অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
আইআইএমএম জানিয়েছে, তাদের তদন্ত ১ হাজার ৬০০টি অধিক উৎস থেকে প্রাপ্ত প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে পরিচালনা করা হচ্ছে। এই প্রমাণগুলোতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ৭৫০টিরও বেশি সাক্ষীর বক্তব্য, ছবি, ভিডিও, অডিও, নথি, মানচিত্র, ভূ-স্থানিক চিত্র, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টগুলি এবং ফরেনসিক প্রমাণ।
রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রমাণ ও বিশ্লেষণ শেয়ার করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে আইআইএমএম, যার মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং আর্জেন্টিনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সংঘটিত অপরাধের জন্য তদন্তকারী অন্যান্য কর্তৃপক্ষের অনুরোধের সাড়া দিচ্ছে এই তদন্ত ব্যবস্থা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন