প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাটির ঘরের দেয়ালজুড়ে রয়েছে বাহারি আলপনা। কোথাও ফুল ও লতার সূক্ষ্ম নকশা দেখা যাচ্ছে, আবার কোথাও রঙের আঁকিবুঁকি। লেপে-পুছে পরিপাটি করা উঠান ও ঘর যেন এক নতুন রূপ লাভ করেছে। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ঘরে ঘরে খইমুড়ি ভাজা এবং লাড়ু মুরগি তৈরির তোরজোরের সাথে বরেন্দ্রভূমির কোল সম্প্রদায়ের মধ্যে এক ভিন্ন ধরনের আনন্দধারা বইছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের ফিলটিপাড়ায় বর্তমানে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। কোল ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কিশোরী ও তরুণীদের নিপুণ হাতে মাটির দেয়ালে প্রাণ পাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এসব চিত্র।
এক কোল ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর গৃহবধূ মন্তব্য করেন, ‘আমাদেরকে ভালো লাগে। আমরা নিজেই ফুল লাগিয়েছি।’
এক শিশু জানায়, ‘এটা আমাদের মা-বাবার কাছ থেকে শিখেছি। এগুলো করতে আমাদের খুব ভালো লাগে।’
এক কিশোরী বলেন, ‘প্রতিবছর এই সাদা দুর্গা পূজার জন্য অপেক্ষা করে থাকি। এই শুভ দিনের ঘর-বাড়ি লেখা-মোছা করে থাকে এবং মনের মাধুরী মিশে দেওয়ালে আল্পনা অঙ্কন করি।’
এক তরুণী জানান, এই পূজো উপলক্ষে মুড়ি ভেজে ওটা দিয়ে নাড়ু বানায়। নারকেলের নাড়ু বানায়। এ পূজোতে অনেক অনেক রকমের নাড়ু বানানো হয়।
গ্রামের নারীদের মধ্যে আল্পনা আঁকা নিয়ে চলে এক ধরনের নীরব প্রতিযোগিতা। কার বাড়ি কত সুন্দর হলো তা নিয়ে আলাদা আগ্রহ রয়েছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় মাটির বাড়ির সংখ্যা দিন দিন কমলেও ঐতিহ্য রক্ষায় এ প্রয়াসে বিন্দুমাত্র কমতি নেই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফিল্টিপাড়া থেকে শুরু করে রাজশাহীর বাবুডাইংয়ের বিভিন্ন গ্রামে মাটির বাড়ির দেয়ালে ফুটে উঠেছে বৈচিত্র্যময় আল্পনার নকশা। কিশোরী ও তরুণীদের নিপুণ হাতে নতুন রূপ পাচ্ছে বাড়িগুলো। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই আয়োজনেই শারদীয় পূজার আনন্দ খুঁজে পান তারা। দেয়ালের রঙিন রূপ আর ঘরে ঘরে পিঠে-পুলির ঘ্রাণ—এসব নিয়েই বরেন্দ্রভূমির কোল জনগোষ্ঠীর শতবর্ষের সাংস্কৃতিক পরিচয়। যুগের পর যুগ ধরে এই যৌথ উদ্যাপনের মাঝে তারা খুঁজে পান পূজার আসল সার্থকতা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন