প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির জানিয়েছেন, দেশের চাঁদাবাজি নির্মূলে শিগগিরই নতুন আইন আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই আইন পাস হলে পুলিশ ভুক্তভোগীর অভিযোগ ছাড়াই চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) খুলনা পুলিশ লাইনে অনুষ্ঠিত এক সভায় আইজিপি এ তথ্য প্রদান করেন।
আইজিপি বলেন, সমাজে যারা চাঁদাবাজি করে, তাদের সাধারণত প্রভাবশালী হিসেবে দেখা যায়। রাজনৈতিক বা অন্য কোনো ক্ষমতার দাপটে তারা এসব অপরাধ করে থাকে। ফলে সাধারণ মানুষ বা ভুক্তভোগীরা ভয়ে থানায় অভিযোগ করতে চান না, এমনকি সাক্ষ্যও দিতে চান না। তবে, এই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি নতুন আইনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই আইন পাস হলে পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হবে। যেকোনো ধরনের ডিজিটাল এভিডেন্স (প্রমাণ) পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। আইজিপি আশা প্রকাশ করেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন আইন কার্যকর হবে এবং এসব অপরাধ নির্মূল হবে।
পুলিশের কাজ করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আইজিপি বলেন, অনেক সময় দেখা যায় আইন প্রয়োগ করতে গেলে পুলিশ বল প্রয়োগ করলে বলা হয় ‘পুলিশ ফ্যাসিস্ট’। আর বল প্রয়োগ না করলে বলা হয় ‘পুলিশ দুর্বল’। তিনি বলেন, আমরা এর কোনোটিই দেখতে চাই না। আমাদের উদ্দেশ্য হলো একটি কার্যকরী পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলা। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার জন্য নতুন প্রজন্ম কাজ করছে।
আইজিপি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরে মাদককে সমাজে একটি স্বীকৃত বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি এবং মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, সমাজে যেন কোনো মাদক, কিশোর গ্যাং বা চাঁদাবাজি না থাকে, তা আমরা সবাই মিলে কঠোরভাবে নির্মূল করবো।
এছাড়া, কমিউনিটি পুলিশিংকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আইজিপি বলেন, আগে কমিউনিটি পুলিশিং কেবল ‘বুক প্র্যাকটিস’ বা খাতা-কলমে সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমানে স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকার এই কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নিয়েছে। আইনের কাঠামোর ভেতরে পুলিশের একটি শাখা হিসেবে কমিউনিটি পুলিশিং এখন থেকে কার্যকরভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
সভায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান ও খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল করিমসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন