প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানালেন, সন্তানকে সম্পত্তি দেওয়ার পরেও তা বাবা-মায়ের ভোগদখল রক্ষার বিধান যুক্ত করে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইন’ সংশোধনের পরিকল্পনা করছে সরকার।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বললেন, প্রস্তাবিত এই আইন পরিবর্তনের ফলে আদালতে দেওয়ানি বা সিভিল মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে, যা মূলত সম্পত্তির বণ্টন এবং হিসাব-নিকাশ নিয়ে হয়ে থাকে।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও জানান, আমাদের মুসলিম আইনে হেবা হয়, হিন্দু আইনে উইল রয়েছে, এবং আবার মুসলিম আইনে অসিয়তনামা রয়েছে।
বিদ্যমান হেবা ব্যবস্থার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বাবা-মা যদি হেবা করে দেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তাদের হাত থেকে সম্পত্তি চলে যায়। ফলে তারা নিজেদের সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ হারান এবং পরবর্তী সময়ে সন্তানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। যদি ছেলে-মেয়ে তাদের দিকে না তাকায়, তবে বাবা-মায়ের কিছু করার থাকে না, তারা অসহায় হয়ে যান।
আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, হেবার পাশাপাশি ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট’-এ (সম্পত্তি হস্তান্তর আইন) গিফটের একটি ধারা রয়েছে, যেখানে সাধারণভাবে হেবার বাইরে গিয়ে কেউ গিফট করতে পারেন। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ১৯৬৩ সালের পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের আলোকে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে ‘ইউসুফ্রাক্ট রাইট’ বা জীবনস্বত্বের বিধান যুক্ত করার চিন্তা করছে সরকার।
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, সন্তানের জন্য সম্পত্তি গিফট করার পরেও বাবা-মা তাদের জীবদ্দশায় সেটি ভোগদখল করার অধিকার নিজের কাছে রাখতে পারবেন।
আইনমন্ত্রী আরো জানান, বাবা-মায়ের জীবদ্দশায় দুই পক্ষের সম্মতি ছাড়া কেউই ওই সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবেন না। সন্তানেরা যেমন বিক্রি করতে পারবে না, তেমনি বাবা-মা চাইলেও এককভাবে সেটি বিক্রি করার অধিকার পাবেন না।
তবে বিশেষ প্রয়োজনে ছাড় দেওয়ার বিধান থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, যদি এমন কোনও পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যে বাবার চিকিৎসার জন্য এই সম্পত্তি বিক্রি করা প্রয়োজন, কিন্তু সন্তান বিক্রিতে সম্মতি না দেয়, তাহলে জেলা জজকে একটি ক্ষমতা দেওয়ার চিন্তা করা হয়েছে। জেলা জজের কাছে আবেদন করলে তিনি বিষয়টি বিবেচনা করতে পারবেন।
এই সংশোধনের ফলে ভবিষ্যতে সিভিল মামলা ফাইলিং কমে আসবে এবং অনেক পরিবারের সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, আমরা কাজ করতে চাই, আমরা পরিবর্তন করতে চাই জনগণের কল্যাণে। জনগণের কল্যাণে পরিবর্তন আনতে আমাদের যেখানে যেভাবে সম্ভব আমরা করব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন