প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সরকার প্রধান তারেক রহমান প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা উন্নত ও সহজ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার পর যেকোনো ভোগান্তি ছাড়াই যেন সবাই চিকিৎসা সেবা পেতে পারে। গ্রামীণ এলাকার মানুষদের চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও যেতে না হয়। তিনি জানান, সরকারি হাসপাতালই যেন তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল হয়।
প্রধানমন্ত্রী একইসঙ্গে চিকিৎসকদের রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে আরো আন্তরিক হতেও নির্দেশনা দেন।
আজ বিকেলে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এটি ছিল প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অডিটোরিয়ামে যাওয়ার পরের প্রথম বৈঠক।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) বিষয়টি জানান। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে একাধিক নির্দেশনা দেন। বৈঠকের শুরুতে তিনি বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ৫ মাসের অভিজ্ঞতা মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবসহ উপস্থিত সকলের কাছে জানতে চান। তারা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
তারা জানায়, বিগত সরকারের সময় স্বাস্থ্য খাত একেবারেই দুর্বল অবস্থানে ছিল। প্রান্তিক জনগণের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার বিষয়টি খুবই কঠিন হয়ে পড়েছিল। এই অবস্থান থেকে উত্তরণের জন্য তারা নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন।
বৈঠকে আলোচনা হয় যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে অভিযোগ দেখা যায় যে, উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও অনেক রোগী সন্তোষজনক চিকিৎসা পাচ্ছেন না। চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার ব্যাপারটি উঠে আসে। এ জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেভাবেই হোক গ্রামের জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজ করে দিতে হবে। তাদের জন্য সহজলভ্য ও সন্তোষজনক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারি হাসপাতালে গিয়ে তাদের যেন কোনো ভোগান্তি না হয়। সরকারি হাসপাতালই যেন তাদের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়।
উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা জানান, কিডনি রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক। তিনি কিডনি রোগীদের কষ্ট কমাতে জেলা পর্যায়ে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের ব্যাপারে কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টারগুলোকে ৫০ শয্যায় সম্প্রসারণ করা হবে এবং আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।
আজ বিকেলে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
এ সময় প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল সৃষ্টি এবং লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করার জন্যও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ৫১ থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করতে উদ্যোগ নিয়েছে। ১০১ শয্যায় উন্নীত করার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো স্থাপন নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলেও জানানো হয় উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা।
বৈঠকে গণপূর্তের প্রকৌশলীরা অবকাঠামোর নকশা ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন।
বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং নানা হাসপাতালের শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন