প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
খুলনায় ‘গ্রেনেড বাবু’ পরিচয়ে চাঁদা দাবি : চট্টগ্রাম থেকে যুবক গ্রেপ্তার
খুলনায়, চাঁদা দাবি করার অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কর্তৃক গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক যুবককে, যিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘গ্রেনেড বাবু’ ও আলোচিত ‘বি কম্পানি’র পরিচয়ে চিকিৎসক, শিক্ষক ও ব্যবসায়ীদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করছিলেন।
তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে চট্টগ্রামের হালিশহরের নীলাচল আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোন ও ৬টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া যুবকের নাম হাসিবুর রহমান ফরাজী, যিনি হাসিব খান নামেও পরিচিত (২৩)।
আজ বুধবার সকাল ১১টায় কেএমপি ডিবি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা, সদর ও খালিশপুর থানায় গত কয়েক মাসে সন্ত্রাসী গ্রুপের নাম ব্যবহার করে চাঁদা দাবির অভিযোগে একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়।
এছাড়া, অভিযোগে উল্লেখ করা হয় যে, ফোনে চাঁদা না দিলে ভুক্তভোগী এবং তাদের সন্তানদের হত্যার হুমকি দেওয়া হতো। ভুক্তভোগীরা জানান, তাদের সন্তানরা বাইরে বের হলে জীবিত ফিরবে না—এমন ভীতি সৃষ্টি করে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হতো।
ভুক্তভোগীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন—আদ্-দ্বীন হাসপাতালের চিকিৎসক, হোমিও চিকিৎসক, কলেজ শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও ম্যানেজারসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি। আতঙ্কের কারণে কয়েকজন টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হাসিব চট্টগ্রামে নিজেকে মুরগি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে একটি দোকান পরিচালনা করতেন। দিনের বেলায় দোকান বন্ধ রেখে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে ফোন নম্বর সংগ্রহ করে চাঁদা দাবি করতেন।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, হাসিব একসময় খুলনার কথিত সন্ত্রাসী আশিকের সহযোগী ও ব্যক্তিগত দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করতেন। পরবর্তীতে আশিকের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে তিনি খুলনা ছেড়ে চট্টগ্রামে গিয়ে আত্মগোপন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান জানান, প্রাথমিক তদন্তে হাসিবের সঙ্গে ‘বি কম্পানি’র কোনো প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।
মূলত, সন্ত্রাসী চক্রের ভয় দেখিয়ে এককভাবে এই চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন তিনি।
উদ্ধারকৃত সিম ও মোবাইল ফোনের ডিজিটাল উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে, ফোনে চাঁদাবাজির শিকার হলে আতঙ্কিত না হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় অভিযোগ করার জন্য সাধারণ মানুষকে পুলিশ অনুরোধ জানিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন