প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট এবং নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস—উভয় সভার নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি হারিয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের এই বিশাল জয়ের পর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি তার মেয়াদের শেষ দুই বছরের জন্য এখন শুধুই এক ক্ষমতারসমর্পণকারী বা ‘লেইম ডাক’ নেতা হয়ে পড়েছেন?
নির্বাচনের ফলাফলের পর ট্রাম্প মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। একদিকে তিনি ফলাফলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নীতি ও ক্ষমতা রক্ষার হুঙ্কারও দিয়েছেন। ট্রাম্পের মতে, ব্যালেটে তার নাম সরাসরি না থাকায় এই পরাজয় ঘটেছে; অন্যথায় রিপাবলিকানরা বিপুল ভোটে জয়ী হতো। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ফলে আইন প্রণয়ন ও নিজস্ব নীতি বাস্তবায়নে ট্রাম্পকে চরম প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হবে।
মার্কিন রাজনীতিতে সাধারণত বিদায়ী প্রেসিডেন্ট যখন নতুন আইন পাসের প্রভাব হারান, তখন তাকে ‘লেইম ডাক’ বলা হয়। তবে ইতিহাস বলে, কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েও মার্কিন প্রেসিডেন্টরা সম্পূর্ণভাবে ক্ষমতাচ্যুত বা নিষ্ক্রিয় হয়ে যান না। আইন প্রণয়নের সুযোগ কমে গেলেও রাষ্ট্রপতির হাতে যে শক্তিশালী ‘নির্বাহী ক্ষমতা’ থাকে, ট্রাম্প তা পুরোদমে ব্যবহার করতে পারেন।
পূর্ব অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, ট্রাম্প ইতোমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ডেমোক্র্যাটদের পাস করা যেকোনো ‘অযৌক্তিক’ বিলে তিনি সরাসরি ‘ভিটো’ ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। রাষ্ট্রপতির দেওয়া এই ভিটো বাতিল করতে কংগ্রেসে দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটির প্রয়োজন হয়, যা ডেমোক্র্যাটদের একার পক্ষে অর্জন করা প্রায় অসম্ভব। এছাড়া জরুরি অবস্থা জারি বা বিশেষ নির্বাহী আদেশ জারি করে পার্লামেন্টকে পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিজ্ঞতা ট্রাম্পের আগেও রয়েছে।
বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, অভ্যন্তরীণ নীতিতে কংগ্রেসে বাধা পেলেও ট্রাম্প এখন তার দৃষ্টি দিতে পারেন বৈদেশিক নীতির দিকে। মার্কিন সংবিধানে পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়েছে। এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং বিল ক্লিনটনও তাদের মেয়াদের শেষ সময়ে কংগ্রেসে বিরোধী শক্তির মুখোমুখি হয়ে পররাষ্ট্রনীতি ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে বেশি মনোযোগী হয়েছিলেন।
এভাবে, উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের জয় ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে কিছুটা কোণঠাসা করলেও তাকে পুরোপুরি প্রভাবহীন বা নিষ্ক্রিয় প্রেসিডেন্ট বলা ভুল হবে। বরং ভিটো প্রয়োগের তীব্র প্রতিযোগিতা এবং নির্বাহী ক্ষমতার কৌশলী ব্যবহার নিয়ে ওয়াশিংটন এখন আগামী দুই বছরের জন্য এক নতুন রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও লড়াইয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন