প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেপালের মাউন্ট এভারেস্ট অঞ্চলে অবতরণের সময় দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং নিউজিল্যান্ডের একজন নাগরিক আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এই দুর্ঘটনা ঘটে।
সোলুখুম্বু জেলার প্রধান জেলা কর্মকর্তা কামান সিং থাপা মাগার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মাউন্ট এভারেস্টের বেস ক্যাম্প এলাকায় সংঘর্ষটি ঘটে। আহত নিউজিল্যান্ডের নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, দুর্ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। ভিডিওতে দেখা যায়, অবতরণের ঠিক আগে হেলিকপ্টার দুটির পাখা বা রোটর একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায়।
দুর্ঘটনার ফলে হেলিকপ্টার দুটি বরফে ঢাকা মাটিতে আছড়ে পড়ে। এ দুটি হেলিকপ্টার ফিশটেইল এয়ার ও ডাইনেস্টি এয়ার নামের দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের। ফিশটেইল এয়ার এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের হেলিকপ্টারটি এভারেস্ট অঞ্চল থেকে উদ্ধার করা যাত্রীদের নিয়ে যাচ্ছিল এবং অবতরণের সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়।
ফিশটেইল এয়ারের এক কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনাকবলিত হেলিকপ্টারে থাকা ভারতীয় ও নিউজিল্যান্ডের নাগরিক দুজনই পর্যটক ছিলেন। অন্যদিকে, ডাইনেস্টি এয়ারের এক কর্মকর্তা জানান, তাদের হেলিকপ্টারটিতে শুধুমাত্র পণ্য পরিবহন করা হচ্ছিল। নেপালে ট্রেকিংয়ের ব্যস্ত মৌসুমে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ে হেলিকপ্টারে করে পর্যটক, হাইকার ও পর্বতারোহীদের বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়।
নেপালে পর্যটক ও পর্বতারোহীদের পরিবহনের পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতেও ছোট হেলিকপ্টার ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। তবে দেশটির দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে সেখানে হেলিকপ্টার চালানো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশ্বের ১৪টি সর্বোচ্চ পর্বতের মধ্যে আটটি নেপালে অবস্থিত। এ কারণে প্রতিবছর হাজার হাজার বিদেশি পর্বতারোহী ও ট্রেকার দেশটিতে ভিড় করেন। নেপাল ও প্রতিবেশী ভারতের পার্বত্য অঞ্চলে হেলিকপ্টার চালানো বেশ কঠিন। বিশেষ করে বেশি উচ্চতায় বাতাসের ঘনত্ব কম থাকায় হেলিকপ্টার উড্ডয়ন ও অবতরণে নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়।
বাতাসের ঘনত্ব কম হলে হেলিকপ্টারের পাখা বা রোটর পর্যাপ্ত বাতাস নিচের দিকে ঠেলে দিতে পারে না। ফলে হেলিকপ্টারের ওপরে ওঠার ক্ষমতা কমে যায়। একই সঙ্গে ইঞ্জিনে জ্বালানি পোড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের সরবরাহও কমে যায়। এতে ইঞ্জিনের শক্তি হ্রাস পায়।
এর মাত্র কয়েক দিন আগে ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের বদ্রিনাথ থেকে উড্ডয়নের পরপরই একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। এতে পাইলটসহ ছয়জন নিহত হন। বদ্রিনাথও একটি উঁচু পার্বত্য এলাকা। সেখানে বাতাসের ঘনত্ব কম থাকায় হেলিকপ্টার পরিচালনা করা বেশ কঠিন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন