সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৩৫ পি.এম
দেওয়ানবাগকে ঘিরে অতীতে বিভিন্ন আলেম-উলামা ও পীর-মাশায়েখের পক্ষ থেকে প্রকাশিত কঠোর সমালোচনা ও ধর্মীয় আপত্তির প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি মাহফিলে কয়েকজন সুফিপন্থি হিসেবে পরিচিত পীর-মাশায়েখের উপস্থিতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাইজভান্ডার ও খান্দুরা দরবার শরীফের পীর সৈয়দ জুবায়ের কামালসহ কয়েকজন পীর-মাশায়েখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন। সেখানে তাদের আয়োজকদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, কোলাকুলি এবং একই স্থানে বসে খাবার গ্রহণ করতেও দেখা যায়।
জানা গেছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে পীর-মাশায়েখ ও সুফিদের নিয়ে আয়োজিত মীলাদুন্নবীর মাহফিলের ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে প্রশ্ন উঠছে, দেওয়ানবাগকে ঘিরে অতীতে বিভিন্ন আলেম-উলামা ও পীর-মাশায়েখের পক্ষ থেকে যখন নানা ধরনের ধর্মীয় আপত্তি ও সমালোচনা করা হয়েছে, তখন সুফিপন্থি হিসেবে পরিচিত এসব ব্যক্তিরা কী উদ্দেশ্যে সেখানে উপস্থিত হলেন?
কারও কারও প্রশ্ন, এটি কি শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও সামাজিক সম্পর্কের অংশ, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো মতাদর্শিক বা সাংগঠনিক যোগাযোগ?
আবার কেউ কেউ জানতে চাইছেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিতির মাধ্যমে তারা কি দেওয়ানবাগের কোনো কার্যক্রম বা মতাদর্শের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন?
সবচেয়ে বেশি আলোচনা দেখা যাচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার খান্দুরা দরবার শরীফের পীর সৈয়দ জুবায়ের কামালের উপস্থিতি নিয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যে তার ধর্মীয় ও মতাদর্শিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এমনকি কেউ কেউ তার সুন্নিপন্থি অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে এসব বক্তব্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো দাবি বা মন্তব্যকে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায় না। একইভাবে, কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া, কুশল বিনিময় কিংবা একই সঙ্গে খাবার গ্রহণের দৃশ্য থেকেই একজন ব্যক্তির আকিদা, মতাদর্শ বা ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও সমীচীন নয়।
সৈয়দ জুবায়ের কামালসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত পীর-মাশায়েখরা কোন উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলেন, অনুষ্ঠানের আয়োজকদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কী এবং দেওয়ানবাগের বিভিন্ন মতাদর্শিক অবস্থানের বিষয়ে তাদের নিজস্ব অবস্থান কী-এসব প্রশ্নের উত্তর মিললেই বিতর্কের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।
একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে ধর্মীয় অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল। এটি নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ, নাকি এর পেছনে রয়েছে বৃহত্তর কোনো মতাদর্শিক কিংবা সাংগঠনিক যোগাযোগ এখন সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছেন অনেকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার চাটমোহরে মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে, তাদের কাছে ১০ বোতল এস্কাফ সিরাপ ছিল। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের জগতলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন হলেন, জগতলা পূর্বপাড়ার মৃত কুরান সরকারের ছেলে মো. শাহ আলম সরকার (৬০) এবং অপরজন হলেন, জগতলা কাজীপাড়ার মৃত দিলবর আলীর ছেলে মো. ফজলুল হক (৩৯)।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, জগতলা গ্রামের মুছা মোল্লার বাড়ির সামনে দুই ব্যক্তি নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন। এরপর রাত সোয়া ১০টার দিকে ডিবির একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়। এ সময় শাহ আলমের কাছে থাকা একটি সাদা প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে ১০০ মিলিলিটার করে পাঁচ বোতল এস্কাফ সিরাপ এবং ফজলুল হকের শপিং ব্যাগ থেকে একই পরিমাণের আরও পাঁচ বোতল উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চাটমোহর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাবনা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হায়াতে তাইয়্যেবার দোয়া করলেন বিরোধীদলীয় নেতার জন্য
জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের জন্য দোয়া করেছেন।
সোমবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই দোয়া করেন।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা আমার জন্য এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে দুই হাত তুলে মোনাজাত করেছেন। তাই আমিও দোয়া করছি।’
এরপর তিনি ডা. শফিকুর রহমানের জন্য দোয়া করতে গিয়ে বলেন, ‘রব্বুল আলামিন আমাদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতাকে শ্বেত-শুভ্র বুজুর্গানে দ্বীন। তার হায়াতে তাইয়্যেবা দান করুন। সবরে জামিল দান করুন।’
এর আগে, ৩ সেপ্টেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ‘এসআরবি বিল ২০২৬’ নিয়ে আলোচনা চলাকালীন ডা. শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের জন্য দুই হাত তুলে দোয়া করেন।
সে সময় মোনাজাতের ভঙ্গিতে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘হে রাব্বুল আলামিন, তুমি উনার দিলটাকে অনেক বড় করে দাও। আল্লাহ তায়ালা, জাতির স্বার্থেই বড় করে দিন।’
এদিকে, বিরোধীদলীয় নেতার দোয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে নিজ আসনে বসে ‘আমিন’ বলতে এবং পরে মুখে হাত বুলাতে দেখা যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা-কুমিল্লা বিকল্প মহাসড়ক নির্মাণের প্রস্তাব নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকল্পের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন কুমিল্লা-৬ (সদর, সদর দক্ষিণ ও ক্যান্টনমেন্ট) আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।
আজ সোমবার বিকেলে এলজিইডি ভবনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় কুমিল্লার সুয়াগাজী থেকে গোলাবাড়ি ব্রিজ পার হয়ে দেবিদ্বার, মুরাদনগর, বাঞ্ছারামপুর ও আড়াইহাজার হয়ে ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোডে সংযুক্ত হওয়ার প্রস্তাবিত বিকল্প মহাসড়ক নির্মাণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রস্তাবিত এ মহাসড়কটি নির্মিত হলে কুমিল্লা ও ঢাকার মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হওয়ার পাশাপাশি দেশের পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সড়ক যোগাযোগে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর তৈরি হবে বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।
মতবিনিময় সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা প্রস্তাবিত বিকল্প মহাসড়ক নির্মাণের বিষয়ে ইতিবাচক মতামত ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় জানানো হয়, প্রস্তাবিত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ পর্যায়ক্রমে নির্মাণ করা হবে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নদী ও জলপথে সেতু নির্মাণের দায়িত্ব সেতু বিভাগের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে গোমতী ও মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ও প্রস্তাবনায় রয়েছে।
মতবিনিময়কালে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, কুমিল্লা-ঢাকা যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করতে বিকল্প এই মহাসড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ ও পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকল্পের প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার চাটমোহর উপজেলার নিমাইচড়া ইউনিয়নের বেলগাছি-বহরমপুর সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে জনদূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির কারণে গ্রামবাসীদের ভোগান্তি বেড়ে গেছে। বেলগাছি পালপাড়ার ২৫টি পরিবারসহ গ্রামে প্রায় ২০০ পরিবারের বসবাস রয়েছে। নদী বেষ্টিত এই গ্রামের পালপাড়ায় প্রতি বছর দূর্গাপূজার জন্য শতাধিক প্রতিমা নির্মাণ করা হয়। এবছরও প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন প্রতিমা তৈরি করতে আসেন। এই গ্রামের যাতায়াতের সড়কটি দেখে মনে হবে, এটি যেন চাষের জমি। কাদা পানিতে সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। স্কুলের শিশু শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে গ্রামের সকল মানুষকে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দেড় কিলোমিটার এই সড়কের উন্নয়ন হয়নি, এ নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। সরকার বারবার পরিবর্তন হলেও, বেলগাছি-বহরমপুর সড়কের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি।
বেলগাছি পালপাড়ার মৃৎশিল্পী অমল চন্দ্র পাল, অপূর্ব পাল, সনাতন পাল, গ্রামের আজাহার আলী এবং নুরুল ইসলাম জানান, এই সড়কটি পাকাকরণ অত্যন্ত জরুরি। সড়কটির কারণে গ্রামের মানুষের চরম কষ্ট হচ্ছে। চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে সড়কটি। এ বিষয়ে নিমাইচড়া ইউনিয়নের প্রশাসক এবং উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার খলিলুর রহমান জানান, সড়কটি পাকাকরণের পরিকল্পনা রয়েছে। শীঘ্রই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ