প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইয়েমেনের কৌশলগত তাইজপ্রদেশে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারপন্থী বাহিনী এবং হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ভয়াবহ লড়াইয়ের কারণে গত আগস্ট মাস থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।
সরকারি সামরিক সূত্র জানায়, হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে শত শত বিমান ও স্থল হামলা পরিচালিত হয়েছে। সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র মজিদ আল-নাজিলি দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক অভিযানে হুথির বহু সদস্য হতাহত হয়েছেন এবং তাদের বেশ কিছু যুদ্ধট্যাংক ও অস্ত্রাগার ধ্বংস করা হয়েছে। বিশেষ করে তাইজের পশ্চিমাঞ্চলীয় জাবাল হান পাহাড়ি এলাকা এবং ধুবাব ও আল-মাসরাখ জেলাগুলোতে তীব্র লড়াই চলছে।
এদিকে, জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (OCHA) জানিয়েছে, আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই নতুন সংঘাতের ফলে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই সংঘাতের কেন্দ্রস্থল তাইজে আশ্রয় নিয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর (OHCHR) নিশ্চিত করেছে যে, এই সংঘাতে ২৫১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৫৪ শতাংশই শিশু।
সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, নিহতদের প্রায় অর্ধেকই অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু। চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও গত আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৪ হাজারেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষের কাছে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো। তবে সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন হিসেবে মানুষ খাবার ও নগদ অর্থের পাশাপাশি বাসস্থানের (Shelter) সংকটের কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, যুদ্ধের তীব্রতার কারণে ইয়েমেনে বর্তমানে আড়াই মিলিয়নেরও বেশি শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক সামুদ্রিক অবরোধ এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে এই নতুন সংঘাত আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন