প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সুদানের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ এবং রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ড. তিজানি আবদুল কাদের হামিদ ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৭৫ বছর। তাঁর মৃত্যুতে বিশ্বের ইসলামী ব্যক্তিত্বরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কাতারের রাজধানী দোহায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরদিন শনিবার দোহার মুসাইমির কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
অধ্যাপক ড. তিজানি আবদুল কাদের তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে সুদান, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, আমিরাত ও কাতারের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। সর্বশেষ কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইবনে খালদুন সেন্টার ফর হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে ইবন খালদুন সেন্টার এক শোক বার্তায় জানিয়েছে,
ইবনে খালদুন সেন্টারের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ড. তিজানি আবদুল কাদের হামিদ ইন্তেকাল করেছেন। আমরা মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন ড. তিজানিকে তাঁর অশেষ রহমতে আবৃত করেন, তাঁকে জান্নাতের প্রশস্ত স্থান দান করেন এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের ধৈর্য ও সান্ত্বনা দান করেন। মরহুমের জানাজা আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দোহায় মাসাইমির কবরস্থানে মাগরিবের নামাজের পর অনুষ্ঠিত হবে। এশার নামাজের পর শায়খ আবদুল্লাহ আল-আনসারি কমপ্লেক্সের খাদিমুল ইলম হলে পুরুষদের জন্য শোকসভা ও সমবেদনা গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে ড. তিজানির ইন্তেকালে এক বিবৃতিতে ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলারস গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, গবেষণা, শিক্ষকতা ও লেখালেখির পাশাপাশি ইসলামী চিন্তাধারা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, কুরআনবিষয়ক গবেষণা ও সংস্কারমূলক চিন্তায় ড. তিজানি আবদুল কাদেরের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাঁর কর্মকাণ্ড সুদানসহ মুসলিম বিশ্বের একাডেমিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। প্রয়াত এই শিক্ষাবিদ ছিলেন ব্যাপক জ্ঞান ও বহুমাত্রিক আগ্রহের অধিকারী। তাঁর গবেষণাকর্মে দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইসলামী চিন্তাধারা, কুরআনবিষয়ক গবেষণা এবং রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানের সমন্বয় ঘটেছিল।
ড. তিজানির ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করে বিশ্বখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ আলী মুহাম্মদ আস-সালাবি লিখেছেন, অধ্যাপক তিজানি আবদুল কাদেরের কয়েক দশকের কর্মময় জীবনজুড়ে গবেষণা, শিক্ষকতা ও লেখালেখির পাশাপাশি ইসলামী চিন্তাধারা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সংস্কার, রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান এবং সুদান ও মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনশীল বিষয় নিয়ে তিনি কাজ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে সুদান, আরব বিশ্ব ও মুসলিম বিশ্ব একজন চিন্তাবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে হারাল বলে উল্লেখ করেন আস-সালাবি।
তিনি বলেন, অধ্যাপক তিজানি আবদুল কাদের ছিলেন বিস্তৃত আগ্রহের একজন চিন্তাবিদ। তাঁর চিন্তাচর্চায় ছিল বিষয়গুলোর গভীর ও শান্ত বিশ্লেষণ। তিনি মানুষের বাস্তব জীবনের সঙ্গে চিন্তার সংযোগ এবং কুরআনের বাণীর সঙ্গে সমাজ ও রাজনীতির সমকালীন প্রশ্নগুলোর সম্পর্ক তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
ড. তিজানি আবদুল কাদের ১৯৫১ সালে উত্তর কর্ডোফানের উম্মু দাম এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি খার্তুম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ১৯৮৪ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৯ সালে লন্ডনের হিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি লাভ করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘উসুল আল-ফিকর আল-সিয়াসি ফি আল-কুরআন আল-মাক্কি’ (মক্কি কোরআনে রাজনৈতিক চিন্তার মূলনীতি), ‘আল-ইসলাহ ফি আল-কুরআন’ (কোরআনে সংস্কার ভাবনা), ‘মুকাদ্দিমা ফি ফালসাফাহ আল-সিয়াসাহ’ (রাজনৈতিক দর্শনের ভূমিকা), ‘মুশকিলাতুল ফাকর: মুকাদ্দিমাতুন ফি উসূলিল ইকতিসাদিস সিয়াসি ফিল ইসলাম’ (দারিদ্র্যের সমস্যা: ইসলামী রাজনৈতিক অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তির ভূমিকা), ‘আল-ইসলাহ ফিল কুরআন: ইস্তিকশাফুল মাফহুম ওয়া বিনাউন্নাজরিয়্যাহ’ (কোরআনে সংস্কার: ধারণার অনুসন্ধান ও তত্ত্ব নির্মাণ), ‘ইশকালিয়্যাতুল কুরআনিল মাক্কি ফি দিরাসাতিল মুশতাশরিকীন’ (প্রাচ্যবিদদের গবেষণায় মক্কি কুরআনের জটিলতা), ‘আল-মাফহুমুল কুরআনি ওয়াত-তানযীমুল মাদানি: দিরাসাতুন ফি উসূলিন্নিযামিল ইজতিমাইয়্যিল ইসলামী’ (কোরআনিক ধারণা ও নাগরিক সংগঠন: ইসলামী সামাজিক ব্যবস্থার মৌলিক ভিত্তির একটি অধ্যয়ন) এবং ‘নিজাউল ইসলামিয়্যিন ফি আস-সুদান’ (সুদানে ইসলামপন্থীদের দ্বন্দ্ব)। এ ছাড়া সুদানের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন