প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ওজন কমানোর বিষয়টি ভাবলেই অনেকেই প্রথমে ভাজাপোড়া, কোমল পানীয়, মিষ্টি এবং ফাস্টফুডগুলো বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর পরিবর্তে তারা বাদাম, গ্রানোলা, ফল, ড্রাই ফ্রুট এবং ঘরে তৈরি লাড্ডুর মতো খাবার গ্রহণ করতে শুরু করেন। নিঃসন্দেহে, এই খাবারগুলোর মধ্যে অনেকগুলো পুষ্টিকর। তবে একটি বিষয় মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি যে, পুষ্টিকর খাবার এবং কম ক্যালরির খাবার সবসময় একই রকম নয়।
যে কোনো খাবারে ভালো ফ্যাট, ফাইবার, ভিটামিন বা মিনারেল থাকলেই সেটি ইচ্ছেমতো খাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে যখন ওজন কমানোর কথা আসে, তখন খাবারের গুণমানের পাশাপাশি পরিমাণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর খাবারগুলো কীভাবে অজান্তেই আপনার দৈনিক ক্যালরি বাড়িয়ে দিতে পারে, তা দেখা যাক—
১. গ্রানোলা: স্বাস্থ্যকর ব্রেকফাস্ট, কিন্তু কতটা?
গ্রানোলায় ওটস, বাদাম, বীজ ইত্যাদি উপাদান থাকায় অনেকেই এটিকে সকালের জন্য আদর্শ খাবার মনে করেন। কিন্তু গ্রানোলার বিভিন্ন ধরনের কারণে ক্যালরির পরিমাণে বড় পার্থক্য দেখা যেতে পারে। কিছু প্যাকেটজাত গ্রানোলায় মধু, চিনি, সিরাপ, তেল বা মিষ্টি শুকনো ফল যোগ করা হয়। তার সাথে, বাটিতে কতটা ঢালছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অল্প মনে করে একাধিক সার্ভিং খেয়ে ফেললে ক্যালরি দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।
সুতরাং, গ্রানোলা কেনার সময় শুধুমাত্র সামনের প্যাকেটের ‘হেলদি’ বা ‘ন্যাচারাল’ লেখা দেখার পরিবর্তে, পেছনের নিউট্রিশন ফ্যাক্ট ও ইনগ্রেডিয়েন্টস লিস্ট দেখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
২. বাদাম: উপকারী হলেও ক্যালরি বেশি
বাদামে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, কিছু প্রোটিন, ফাইবার এবং বিভিন্ন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট থাকে। তাই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় পরিমিত বাদাম রাখা উপকারী হতে পারে। তবে বাদামের একটি সমস্যা হলো—এর আকার ছোট হলেও এতে ক্যালরি বেশি। ফলে টিভি দেখার সময়, কাজের ফাঁকে বা ক্ষুধা লাগলে বারবার কয়েকটি করে খেতে থাকলে মোট পরিমাণ সহজেই বেড়ে যেতে পারে। পিনাট বাটারের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। এক চামচের বদলে কয়েক চামচ ব্যবহার করলে ক্যালরি দ্রুত যোগ হয়। তাই বাদাম বা বাদামের মাখন খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমাণ আগে ঠিক করে নেওয়া ভালো অভ্যাস।
৩. ফলের স্মুদি: স্বাস্থ্যকর পানীয় নাকি লুকানো অতিরিক্ত ক্যালরি?
ফল দিয়ে তৈরি স্মুদি নিঃসন্দেহে পুষ্টিকর হতে পারে। তবে স্মুদিকে ওজন কমানোর ম্যাজিক ড্রিংক ভাবার কারণ নেই। একটি গ্লাসে কলা, আম, খেজুর, দুধ, দই, মধু এবং পিনাট বাটার সব একসঙ্গে ঢেলে দিলে প্রতিটি উপাদান আলাদাভাবে স্বাস্থ্যকর হলেও পুরো পানীয়র মোট ক্যালরি অনেক বেড়ে যেতে পারে।
আরেকটি বিষয় হলো, পানীয় আকারে অনেক উপাদান খেয়ে ফেলা সহজ। তাই স্মুদি বানানোর সময় উপাদান কম ও পরিমিত রাখা এবং অতিরিক্ত মিষ্টি উপাদান না যোগ করাই ভালো।
৪. শুকনো ফল: ছোট আকারের বড় ক্যালরি
খেজুর, কিশমিশ, শুকনো এপ্রিকট বা অন্যান্য ড্রাই ফ্রুটে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকে। কিন্তু তাজা ফলের তুলনায় এগুলো অনেক বেশি ঘন। কারণ শুকানোর সময় ফলের বেশিরভাগ পানি চলে যায়। ফলে একই পরিমাণ জায়গায় তুলনামূলক বেশি ফলের শর্করা ও ক্যালরি জমা হয়। ছোট আকারের কারণে কয়েকটি খেতে খেতে কখন অনেকটা খেয়ে ফেলেছেন, তা বোঝাও কঠিন।
সুতরাং, ড্রাই ফ্রুটকে সাধারণ ফলের মতো করে এক বাটি ভরে খাওয়ার বদলে ছোট পরিমাণে খাওয়া বেশি যুক্তিযুক্ত, বিশেষ করে যদি আপনার লক্ষ্য ওজন নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
৫. খেজুর-গুড়ের লাড্ডু: চিনি কম হলেই কি ক্যালরি কম?
ঘরে তৈরি লাড্ডুতে খেজুর, গুড়, বাদাম, বীজ বা ঘি ব্যবহার করা হলে সেটিকে অনেকেই সাধারণ মিষ্টির তুলনায় ‘নিরাপদ’ মনে করেন। কিন্তু উপাদানগুলো প্রাকৃতিক বা পুষ্টিকর হলেই লাড্ডুর ক্যালরি কমে যায় না।
খেজুর ও গুড় থেকে আসে শর্করা, আর বাদাম, বীজ ও ঘি যোগ করে ফ্যাট ও ক্যালরির পরিমাণ। ফলে রিফাইন্ড চিনি ব্যবহার না করলেও একটি লাড্ডি যথেষ্ট ক্যালরি বহন করতে পারে। অর্থাৎ, চিনি নেই বা গুড় দিয়ে তৈরি এই তথ্য একাই কোনো খাবারকে কম ক্যালরির খাবার বানায় না।
তাহলে কী করবেন?
ওজন কমানোর জন্য এসব খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং এগুলোকে খাদ্যতালিকায় রেখে প্রোটিন কন্ট্রোলের দিকে নজর দেওয়া উচিত।
খাবার বাছাইয়ের সময় তিনটি বিষয় মাথায় রাখতে পারেন, কী উপাদান দিয়ে তৈরি, কতটা পরিমাণ খাচ্ছেন এবং দিনে কতবার খাচ্ছেন। পাশাপাশি প্যাকেটজাত খাবারের ক্ষেত্রে পুষ্টিগুণের লেবেল পড়া নেওয়া কার্যকর হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন