প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস উইং নিয়ে সম্প্রতি নানা আলোচনা কানে আসছে। এই বিষয়ে তাকে বিকল্প হিসেবে ভাবা এবং কোনো পদে দেখার প্রচারণা চালানোর ফলে তিনি বিব্রত ও বিরক্ত হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি, তাকে বিকল্প হিসেবে ভাবতে চাওয়ার জন্য প্রচারণা না চালানোর অনুরোধও করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। মুশফিকুল ফজল আনসারী লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং নিয়ে সম্প্রতি নানা কথাবার্তা কানে আসছে। কেউ কেউ আমাকে বিকল্প ভেবে অতিরিক্ত আগ্রহ প্রকাশ করছে। বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আমি এই লেখাটি দিতে মন সায় দিলাম কারণ আমি আমার অবস্থান পরিষ্কার করতে চাই।’
তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘বর্তমান প্রেস সচিব, অতিরিক্ত প্রেস সচিব, ডেপুটি ও সহকারী প্রেস সচিবরা সমন্বিতভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড, নেতৃত্ব ও ভাবমূর্তি জনগণের সামনে তুলে ধরতে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছেন— অন্তত আমার কাছে তা প্রতীয়মান।’
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের পরিচয়ের উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাজের ধরন, একাগ্রতা, রাজনৈতিক দর্শন এবং পেশাদারিত্বের সাথে, তাদের দুজন অন্তত দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। এই অভিজ্ঞতা তাদের কাজের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।’
এছাড়াও, মুশফিকুল ফজল আনসারী আরও বলেন, ‘ভালোর নির্দিষ্ট সীমা-পরিসীমা নেই। আরো ভালো করার সুযোগ সবসময়ই থাকে। বর্তমান টিম হয়তো কোথাও আরও ভালো করতে পারত; আবার অন্য কোনো টিম এলে সবকিছু আরো ভালো হবে- এমন নিশ্চয়তাও কেউ দিতে পারবেন না।’
তাকে কোনো পদে দেখতে চেয়ে প্রচারণা চালানোর বিষয়ে তিনি জানান, ‘আমাকে অমুক কিংবা তমুক পদে ‘দেখতে চাই’— এমন প্রচার, স্লোগান ও অতিরিক্ত আগ্রহে আমি বিব্রত ও বিরক্ত।’ তিনি শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন, ‘শুভাকাঙ্ক্ষীদের আন্তরিকতার প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে; কিন্তু অনুগ্রহ করে আমাকে কেন্দ্র করে এমন কোনো প্রচারণা চালাবেন না, যা কর্মরত ব্যক্তিদের অস্বস্তিতে ফেলে, ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করে কিংবা আমাকে কোনো পদপ্রত্যাশী হিসেবে উপস্থাপন করে।’
মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেছেন, ‘পদ-পদবি দেশসেবার একমাত্র পথ নয়। সত্যিকার অর্থে কাজ করার সদিচ্ছা, সাহস ও দায়বদ্ধতা থাকলে পদ-পদবির বাইরেও দেশ ও জনগণের জন্য অনেক কিছু করা সম্ভব।’ নিজের অতীত ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘নিকট অতীতে যখন আমার কোনো রাষ্ট্রীয় পদ-পদবি ছিল না, তখনো বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, জনগণের ভোটাধিকার এবং ফ্যাসিবাদমুক্ত ভবিষ্যতের পক্ষে আমি দেশ-বিদেশে কাজ করেছি নিজস্ব সর্বোচ্চ সামর্থ্য নিয়ে।’
প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর আস্থার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তার প্রয়োজন, বিবেচনা ও আস্থার ভিত্তিতে যাকে যেখানে উপযুক্ত মনে করবেন, তাকেই দায়িত্ব দেবেন। এ নিয়ে দাবি সংবলিত প্রচারণা অপ্রয়োজনীয় এবং অস্বস্তিকর।’ পোস্টের শেষে মুশফিকুল ফজল আনসারী লিখেছেন, ‘পদ সাময়িক- দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা চিরস্থায়ী।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন