প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরি হওয়া ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদের ৯০ শতাংশের ঘাটতি পূরণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বাকি ১০ শতাংশ সম্পদ পুনরায় সংগ্রহ করতে আরও সময় লাগতে পারে।
গত বৃহস্পতিবারের সাইবার হামলাটি ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ চুরির ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। বাইন্যান্স জানায়, চুরির ফলে ব্যবহারকারীদের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা প্রতিষ্ঠানটি নিজেই বহন করবে। ফলে ব্যবহারকারীদের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না।
শনিবার একটি বিবৃতিতে বাইন্যান্স জানায়, তারা চুরি হওয়া সম্পদের ৯০ শতাংশ পুনরায় সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। অবশিষ্ট ১০ শতাংশ সম্পদ তুলনামূলক কম তারল্যসম্পন্ন হওয়ায় প্রয়োজনীয় পরিমাণ সংগ্রহ করতে বেশি সময় লাগতে পারে।
বাইন্যান্সের সহপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড টেং বলেন, "চুরির কারণে সৃষ্ট ক্ষতি পূরণের প্রতিশ্রুতি তারা শুরু থেকেই দিয়ে আসছেন।" এ জন্য প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব তহবিল থেকে ৬৩৪ কোটি ডলারের বেশি অর্থ বরাদ্দ রেখেছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বিটকয়েন, ইথেরিয়াম ও টেথারসহ ১০ ধরনের বহুল লেনদেন হওয়া ক্রিপ্টোকারেন্সির সম্পদের ঘাটতি পূরণ করা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের ক্ষতি প্রতিষ্ঠানটি নিজেই বহন করবে এবং তাঁদের ওপর কোনো আর্থিক দায় চাপানো হবে না।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই শনিবার জানিয়েছে, এই সাইবার হামলার জন্য উত্তর কোরিয়া দায়ী। সংস্থাটির দাবি, গত ২৯ অক্টোবর বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ভার্চ্যুয়াল সম্পদ চুরির সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
এর আগে দুটি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান বিবিসিকে জানিয়েছিল, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠী ট্রেডারট্রেইটর এই হামলার পেছনে থাকতে পারে। এফবিআইও তাদের বিবৃতিতে গোষ্ঠীটির নাম উল্লেখ করেছে। ট্রেডারট্রেইটর লাজারাস গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা হয়। তবে উত্তর কোরিয়া এ ধরনের সাইবার হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
বাইন্যান্সের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হয়েছিল, প্রতিষ্ঠানের এক প্রকৌশলীর ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার মাধ্যমে অননুমোদিত অর্থ উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হয়। তবে পরবর্তী তদন্তে নিরাপত্তা ভাঙার আরও কয়েকটি পথের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
রিচার্ড টেং বলেন, "একাধিক ব্যক্তি এই হামলায় জড়িত ছিলেন। নিজেদের পরিচয় ও কর্মকাণ্ডের চিহ্ন মুছে ফেলতে তাঁরা ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা’সহ অত্যাধুনিক কৌশল ব্যবহার করেছেন।"
এর আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন অংশীদারের সহযোগিতায় চুরি হওয়া প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করার কথা জানিয়েছিল বাইন্যান্স। যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসও চুরি হওয়া অর্থ শনাক্ত, জব্দ ও উদ্ধারে কাজ করছে।
বর্তমানে ব্যবহারকারীদের জন্য অর্থ উত্তোলনসেবা পুনরায় চালু করাই বাইন্যান্সের প্রধান লক্ষ্য। ১ নভেম্বর থেকে এ সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এর আগে ২০২৫ সালে ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইবিট থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ চুরির ঘটনা ছিল এ ধরনের সবচেয়ে বড় হামলা। ওই ঘটনার জন্যও উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছিল এফবিআই। তথ্যসূত্র: বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন