প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সড়কের পাশে মাইলের পর মাইল বিদ্যুতের খুঁটি দাঁড়িয়ে রয়েছে। ঝুলছে ভারী হাইভোল্টেজের তার। গ্রাম, বাজারের দোকান, স্কুল এবং মসজিদ-মাদরাসা; সব জায়গায় বিদ্যুতের ওয়ারিং করা হয়েছে। বিদ্যুতের মিটারও লাগানো হয়েছে। কিন্তু কোথাও আলো জ্বলে না। এই পরিস্থিতি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের দুটি ওয়ার্ডের।
স্থানীয়দের মতে, প্রায় আট বছর আগে বিদ্যুৎ সরবরাহের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ। মিটার ও ওয়ারিংসহ বিভিন্ন কাজে অর্থও প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত অন্তত আড়াই হাজার পরিবার বিদ্যুৎ সরবরাহের অপেক্ষায় রয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গেলে করিম মার্কেটের দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে ১৫টির মতো দোকান রয়েছে, যার মধ্যে খোলা আছে মাত্র চার-পাঁচটি। মার্কেটের মুদি দোকানি মো. হাসান জানান, ২০১৮ সালের দিকে দোকানে ওয়ারিং করেছেন, মিটার পেয়েছেন এবং মূল খুঁটি থেকে সার্ভিস তারও টানা হয়েছে। কিন্তু দোকানে বিদ্যুতের সরবরাহ নেই।
মো. হাসান বলেন, দোকান শুরু করার সময় সেখানে চারটি দোকান ছিল। কিছুদিন পর বিদ্যুতের সার্ভে আসলে দোকানগুলো বাড়তে শুরু করে। এরপর বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন ও লাইন টানার কাজ শুরু হয়। তিনি এবং অন্য দোকানিরা ওয়ারিং করিয়েছেন, সার্ভিস তার নিয়েছেন এবং মিটারও বসিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এক বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ থেকে ২০২৬ সাল—আট বছর পার হয়ে গেলেও তারা বিদ্যুৎ পাননি। ফলে দোকানে স্থাপন করা বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য নষ্ট হওয়ার পথে। বারবার বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানালেও কোনো সমাধান মিলছে না।
করিম মার্কেট থেকে বের হয়ে আশপাশের কয়েকটি বাড়ি, এক কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে ইসমাইল মার্কেট এবং উত্তরে নয়নের মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থানে একই চিত্র দেখা যায়। স্থানীয়রা জানান, সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চর নোমান, চর আক্রাম উদ্দিন, চরলক্ষ্মী ও চর উরিয়া গ্রামের সব জায়গায় একই অবস্থা বিরাজমান। চার গ্রামের সড়কে মাইলের পর মাইল বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে হাইভোল্টেজের তার ঝুলছে। গ্রামে বসতঘর, বাজারের দোকান, স্কুল-মসজিদ কিংবা মাদরাসা সবখানে ওয়ারিং করা হয়েছে। বিদ্যুতের মিটারও স্থাপন করা হয়েছে। খুঁটি থেকে মিটারে সার্ভিস তার টানা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ সরবরাহ নেই। ফলে অবহেলা ও অযত্নে খুঁটি ও তারে আগাছা জড়িয়ে পড়েছে। কোথাও খুঁটির সঙ্গে স্তূপ করে বেঁধে রাখা হয়েছে তার। কিছু ঘরের তারেও দীর্ঘদিনের মাকড়সার জাল জড়িয়ে আছে।
৯ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক আবদুল কাদের, যিনি স্থানীয়ভাবে কৃষক নেতাও, জানান, দীর্ঘ আট বছর ধরে এভাবেই পড়ে আছে সব। পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ সব আয়োজন করলেও বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পারেনি। এতে মিটারে মরিচা ধরেছে এবং ইলেকট্রনিক জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে। আধুনিক বিশ্বায়নের এই যুগে বিদ্যুতের অভাবে কৃষকসহ উপকারভোগীরা নানা সংকটে পড়ছেন।
আব্দুল কাদের অভিযোগ করেন, তিনি এবং আশপাশের অনেক কৃষক শুষ্ক মৌসুমে সেচের অভাবে অনেক সবজি উৎপাদন করতে পারছেন না। একই সঙ্গে অনেকেই গরুর খামার করে বিপাকে পড়েছেন। কিছু খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। আবার বছরের পর বছর খামার নির্মাণ করেও গরু তুলতে পারছেন না।
স্থানীয়রা জানান, জেলার এই অঞ্চলে বছরের পর বছর কৃষিপণ্য উৎপাদন হচ্ছে। এখানকার বিভিন্ন সবজি পুরো জেলার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। কিন্তু এ অঞ্চলের মানুষ বিদ্যুৎবঞ্চিত। ২০১৮ সালের দিকে যখন পল্লী বিদ্যুৎ খুঁটি ও লাইন টানছিল, তখন সবাই আশা করেছিলেন এক-দেড় বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ পাবেন। কিন্তু আট বছর অতিবাহিত হলেও তারা বিদ্যুৎ পাননি।
কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে এত আয়োজন করার পরও কেন এখনো বিদ্যুৎহীন হাজারো পরিবার, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেলা সদর দপ্তরে গেলে জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মকবুল আলম জানান, আট বছর আগের ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা কোথায় সেটি খুঁজে দেখা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন