প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিয়েভ, ইউক্রেনের রাজধানীতে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান কার্যালয়ে সরাসরি সম্প্রচার চলাকালীন রাশিয়া একটি বিধ্বংসী ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় ঘটনাস্থলে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। রাতভর এবং দিনভর চলা এই হামলার ফলে কিয়েভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত পাঁচজনে পৌঁছেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই ঘটনার পর হামলাকে রাশিয়ার নৈতিক অধঃপতনের একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং পশ্চিমা ও বিশ্ব মিত্রদের একযোগে এগিয়ে আসার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। অপরদিকে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে রুশ বিমান হামলার ফলে এক নারী কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।
সংবাদ সংস্থা ও প্রশাসনিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধিদল মস্কো ও কিয়েভ সফরের সময় উভয় দেশই তিন দিনের জন্য একে অপরের রাজধানীতে হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার কিয়েভজুড়ে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজতে শুরু করে এবং রুশ বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা বিভাগ ডিএসএনএস জানিয়েছে, কিয়েভে রাতভর হামলায় আবাসিক ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে সলোমিয়ানস্কি জেলার একটি পাঁচতলা ভবনও রয়েছে। এছাড়া পোদিলস্কি জেলায় বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়। আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ জীবন বাঁচাতে রাতভর মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন। দিন গড়ালে নিহতের সংখ্যা ৫-এ দাঁড়ায় এবং ২৫ জন মারাত্মক আহত হন।
বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে কিয়েভে প্রতিদিন যে পরিমাণ বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজছে, তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
ইউক্রেনের টেলিভিশন চ্যানেল ‘উই আর ইউক্রেন’-এ দিনের বেলার হামলা প্রসঙ্গে জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, "আজ রাশিয়া সরাসরি সংবাদমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এটি রাশিয়ার নৈতিক পতন ও অবনমনের এক নতুন পাতা। যৌথ প্রচেষ্টা ছাড়া রাশিয়াকে থামানো সম্ভব নয়।" অন্যদিকে, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার সারাতোভ শহরের একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় আঞ্চলিক গভর্নর রোমান বুসারগিন।
ট্রাম্পের শীর্ষ দুই দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে মস্কো ও কিয়েভে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কোনো বড় ধরনের চুক্তি বা অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধিদের ২০২২ সালের পর প্রথম ইউক্রেন সফর শেষে জেলেনস্কি জানান, চলমান এই যুদ্ধ সামনের পুরো শীতকালজুড়ে স্থায়ী হতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। অন্যদিকে, ট্রাম্পের প্রতিনিধি উইটকফ কোনো বিস্তারিত বিবরণ না দিয়েই দাবি করেছেন যে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ইউক্রেন, ইউরোপ এবং আমেরিকার কর্মকর্তারা যেন শিগগিরই আলোচনায় বসতে পারেন, সে ব্যাপারে তিনি সম্মত হয়েছেন বলে জেলেনস্কি জানান। একই সঙ্গে তিনি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতিতে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকেরও আহ্বান জানান।
তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার ভূখণ্ডগত দাবি বা সর্বোচ্চ শর্তগুলো থেকে পিছু হটার কোনো ইঙ্গিত দেননি। মস্কোয় পুতিনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ইউরি উশাকোভ জানান, মার্কিন প্রতিনিধিদের ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে ‘রুশ সশস্ত্র বাহিনীর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির’ কথা স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্রেমলিন তার নির্ধারিত সব লক্ষ্য অর্জন করবে বলেও প্রতিনিধিদলকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন