শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:২১ পি.এম
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পুকুর, জলাশয় ও বৃষ্টির পানি ব্যবহারের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার পানিহারা গ্রামে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এই আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, "ভূগর্ভস্থ পানি যত কম ব্যবহার করা যাবে, পরিবেশের জন্য ততই ভালো হবে।" তিনি আরও বলেন, পুকুর, জলাশয় ও বৃষ্টির পানি ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব। পরিবেশ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। তিনি যত্রতত্র প্লাস্টিক ফেলা বন্ধ করার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
ইটভাটার দূষণ নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, "ইটভাটার ধোঁয়া ও দূষিত বায়ু মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।" তবে তিনি উল্লেখ করেন, উন্নয়নের জন্য ইটের প্রয়োজন রয়েছে। তাই পরিবেশের ক্ষতি কমিয়ে ইট উৎপাদনের ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তিনি জানান, সরকার ব্লকসহ পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়েও পরিকল্পনা করছে।
বরেন্দ্র অঞ্চলের পানিসংকট নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "এ অঞ্চলের মানুষের সুপেয় পানির চাহিদা পূরণে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।" তিনি উল্লেখ করেন, গ্রীষ্মকাল ও খরার সময় পানির চাহিদা বৃদ্ধি পায়। মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সরবরাহ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা ও এনজিওগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পরে তিনি পানিহারা গ্রামের জাবঠাপাড়ায় টেকসই জ্বালানি ও জলবায়ু সহনশীল বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট উদ্বোধন করেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুরশিদা খাতুন, ইএসডিও ইনচার্জ কলি ইয়াসমিনসহ সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালীতে "মাদকে না বলি, খেলাধুলায় অংশ নিই"—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে স্থানীয় যুবসমাজকে ক্রীড়ামুখী করার লক্ষ্যে দিনব্যাপী এক মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) কাউখালী সদর ইউনিয়নের আয়রন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় যুব সমাজের উদ্যোগে এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। টুর্নামেন্টে সদর ইউনিয়নের ৪টি গ্রাম—জয়কুল, আয়রন, বড় বিড়ালজুরি ও মুক্তারকাঠী অংশ নেয়।
দিনভর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা শেষে বিকেলে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয় মুক্তারকাঠি একাদশ ও আয়রন একাদশ। জমজমাট লড়াইয়ে মুক্তারকাঠি একাদশ ১-০ গোলে আয়রন একাদশকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
খেলা শেষে বিজয়ী ও বিজিত দলের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কাউখালী সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আজম আলী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাহিদুর রহমান ফিরোজ, সদস্য সচিব রাকিব তালুকদার, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শারিফুল আজম সোহেল এবং সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুল আলম বাদল।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, যুবসমাজকে মাদক, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত এমন ক্রীড়া আয়োজন তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উবারের কর্মী সংখ্যা ৩,৩০০ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা জেন-জি কর্মীদের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক রাইড শেয়ারিং কোম্পানি উবার একটি বড় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিশ্বব্যাপী কর্মী সংখ্যা থেকে প্রায় ১০ শতাংশ ছাঁটাই করবে। ফলে প্রায় ৩,৩০০ কর্মী চাকরি হারানোর সম্ভাবনায় রয়েছে।উবারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির মোট কর্মী সংখ্যা প্রায় ৩৬,৬০০। এর মধ্যে ১৪,৬০০ কর্মী যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত রয়েছেন।তবে উবারের প্ল্যাটফর্মের চালক ও কুরিয়ারদের এই ছাঁটাইয়ের আওতায় ধরা হবে না বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। উবার জানিয়েছে, তাদের বৈশ্বিক কর্মীদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ায় কর্মরত। সেখানে সান ফ্রান্সিসকো ও সানিভেলে উবারের প্রধান কার্যালয় এবং অন্যান্য অফিস রয়েছে।প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে উবারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারা খসরোশাহি উল্লেখ করেন, ‘আমরা ব্যবস্থাপনার স্তর কমাচ্ছি, টিমের কাঠামো সহজ করছি, বৈশ্বিক অবস্থান কৌশল পুনর্বিন্যাস করছি এবং সামনে থাকা সবচেয়ে বড় সুযোগগুলোর দিকে আমাদের কর্মী ও বিনিয়োগকে কেন্দ্রীভূত করছি।’এছাড়া, এই পুনর্গঠনের প্রভাব চাকরি হারানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে উবার তাদের রিমোট ওয়ার্ক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। এর ফলে নমনীয় কর্মপরিবেশে অভ্যস্ত জেন-জি কর্মীদের ওপর চাপ বাড়তে পারে।খসরোশাহি জানান, বৈশ্বিক টিমগুলোকে নিউইয়র্ক ও সান ফ্রান্সিসকোর মতো বড় হাবগুলোতে, আঞ্চলিক টিমগুলোকে নির্ধারিত আঞ্চলিক হাবে, স্থানীয় টিমগুলোকে সংশ্লিষ্ট দেশের হাবে এবং প্রযুক্তি টিমগুলোকে নির্ধারিত টেক হাবে কেন্দ্রীভূত করা হবে।
ভবিষ্যতে উবারের মাত্র ১ শতাংশ কর্মী পুরোপুরি রিমোট পদ্ধতিতে কাজ করবেন। অর্থাৎ, বাড়ি থেকে কাজ করতে অভ্যস্ত হাজারো কর্মীকে নির্ধারিত অফিসের কোনো কেন্দ্রে গিয়ে কাজ করতে হতে পারে।
খসরোশাহি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের হাইব্রিড কর্মনীতি মেনে চলার বিষয়টিও আরও জোরদার করব। এই নীতি অনুযায়ী কর্মীদের সপ্তাহে তিন দিন অফিসে কাজ করতে হবে।’
এভাবে মহামারির সময় চালু হওয়া নমনীয় কর্মব্যবস্থা থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার তালিকায় উবারও যুক্ত হলো। বিশেষ করে তরুণ কর্মীরা এই পরিবর্তনের প্রভাব বেশি অনুভব করতে পারেন।
এদিকে, বিনিয়োগকারীরা উবারের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে। ঘোষণার পর বুধবার সকালে উবারের শেয়ারের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হিমালয়ের বরফ গলানোর পেছনে পর্বতারোহীদের মূত্রবিসর্জনের ভূমিকাএকটি গবেষণায় উঠে এসেছে যে, হিমালয়ের বেজ ক্যাম্পে পর্বতারোহীদের ব্যবহৃত জ্বালানির তাপ এবং সরাসরি হিমবাহে ত্যাগ করা মূত্রের কারণে প্রতিবছর প্রায় ২ হাজার ৫০০ টন বরফ ও তুষার গলে যাচ্ছে।আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি দল নেপালের এভারেস্ট অঞ্চলের খুম্বু হিমবাহ নিয়ে গবেষণা করে এই তথ্য সংগ্রহ করেছে। এভারেস্ট বেজ ক্যাম্প হিমবাহটির ওপর অবস্থিত। গবেষণার ফলাফল ‘রিজিওনাল এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।বসন্তের পর্বতারোহণ মৌসুমে বেজ ক্যাম্পে হাজার হাজার পর্বতারোহী, গাইড এবং সহায়ক কর্মী অবস্থান করেন। এই সময় এটি একটি ব্যস্ত পর্যটন গ্রামে পরিণত হয়, যেখানে এসপ্রেসো ক্যাফে, বড় পর্দার টেলিভিশন, উচ্চগতির ইন্টারনেট, গরম পানির গোসল এবং তাঁবু উষ্ণ রাখার ব্যবস্থা থাকে।
গবেষকেরা ২০২৩ সালের বসন্ত মৌসুমের ৫০ দিনের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। এই সময়ের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি তাঁবুতে রান্না, উষ্ণতা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ৮২৪টি এলপিজি ক্যানিস্টার, ১৮ হাজার ৯৩৫ লিটার কেরোসিন এবং ৫ হাজার ১৩০ লিটার পেট্রোল ব্যবহার করা হয়েছে।
গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, জ্বালানি পোড়ানো এবং মানুষের মূত্র থেকে উৎপন্ন তাপ মিলিয়ে ওই সময়ে মোট প্রায় ৮ লাখ ৪৯ হাজার ১৭৪ মেগাজুল তাপশক্তি তৈরি হয়েছে। এই পরিমাণ তাপ আনুমানিক ২ হাজার ৪৯২ টন বরফ ও তুষার গলানোর জন্য যথেষ্ট। হিসাবের ত্রুটি বা মার্জিন বিবেচনায়, বরফ গলার এই পরিমাণ ১ হাজার ৯৬৪ থেকে ৩ হাজার ২০ টনের মধ্যে হতে পারে।
গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, এতে যে পরিমাণ পানি তৈরি হয়, তা অলিম্পিক গেমসের আকারের একটি সুইমিং পুল, প্রায় ৮৩টি পানির ট্যাংকার অথবা ১৬ হাজার ৭০০টি সাধারণ বাথটাব পূর্ণ করার জন্য যথেষ্ট।
এই গবেষণায় মানুষের মূত্রকে তাপের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উচ্চতায় পানিশূন্যতা এড়াতে পর্বতারোহী ও গাইডরা প্রচুর পরিমাণে পানি পান করেন। ফলে সেখানে প্রতিদিন সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬ হাজার লিটার মূত্র ত্যাগ করা হয়।
যদিও কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ করে পাহাড়ের নিচে নিয়ে যাওয়া হয়, মূত্রের বড় অংশ সরাসরি হিমবাহের ওপর ফেলা হয়। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, একটি পর্বতারোহণ মৌসুমে শুধুমাত্র মূত্রের তাপেই প্রায় ১৫৪ টন বরফ গলে যেতে পারে।
স্যাটেলাইটের তথ্য বিশ্লেষণেও বেজ ক্যাম্প এলাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে। ১৯৯১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ল্যান্ডস্যাটের ছবি বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন, ক্যাম্পের আশপাশের ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বছরে গড়ে ০.২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গেছে। এই হার পার্শ্ববর্তী খুম্বু হিমবাহে রেকর্ড করা তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রায় দ্বিগুণ।
গবেষক দলের সদস্য হিসেবে নেপালের ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের সিনিয়র সার্ভেয়ার কিম লাল গৌতম কাজ করেছেন। গবেষকদের মতে, বেজ ক্যাম্পের মানবসৃষ্ট তাপের প্রকৃত প্রভাব তাদের হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে। কারণ গবেষণায় হেলিকপ্টার চলাচল, পর্বতারোহীদের শরীরের তাপ এবং রসদ পরিবহনে ব্যবহৃত চমরীগাইয়ের শরীর থেকে উৎপন্ন তাপ হিসাবের মধ্যে ধরা হয়নি।
তবে গবেষকেরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, এভারেস্টের হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ার প্রধান কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। একই সঙ্গে তারা মনে করেন, ইতিমধ্যে দ্রুত সংকুচিত হতে থাকা একটি হিমবাহের ওপর প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের এমন ব্যাপক সমাগম দীর্ঘমেয়াদে গ্রহণযোগ্য নয়।এ কারণে গবেষকেরা বেজ ক্যাম্পটি হিমবাহের ওপর থেকে সরিয়ে কাছাকাছি কোনো স্থিতিশীল স্থানে স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ উল্লেখ করেছেন যে, দেশের গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও হাঁস-মুরগির জন্য প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনের একটি বড় অংশ এখনও আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এই নির্ভরতা কমানোর উদ্দেশ্যে সরকার ভ্যাকসিন উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে। কুমিল্লা বায়োলজিক্স অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড রিসার্চ সেন্টারকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের ভ্যাকসিন চাহিদার একটি বড় অংশ এখান থেকেই পূরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কুমিল্লা জেলার প্রাণিসম্পদ প্রতিষ্ঠানসমূহে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কুমিল্লা বায়োলজিক্স অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড রিসার্চ সেন্টারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, ইতোমধ্যে গবাদিপশুর লাম্পি স্কিন ডিজিজের ভ্যাকসিন উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পূর্বে বছরে প্রায় পাঁচ লাখ ডোজ উৎপাদিত হলেও চলতি বছরে ২০ থেকে ৩০ লাখ ডোজ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে কুমিল্লার এই কেন্দ্র থেকে এক কোটিরও বেশি ডোজ ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে।
গবাদিপশুর রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদানের গুরুত্ব তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, খুরা ও বসন্ত রোগ দেশের গবাদিপশুর জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম। এসব রোগ প্রতিরোধে কৃষকদের আরও সচেতন হতে হবে। সরকার কম খরচে ভ্যাকসিন সরবরাহ করছে এবং ভবিষ্যতে ভ্যাকসিন আরও সহজলভ্য করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশীয় ফলজ ও পরিবেশবান্ধব বৃক্ষ সংরক্ষণে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। জাম, তেঁতুল, চাপালিশসহ বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় গাছ ব্যাপকভাবে রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে আগামী প্রজন্ম দেশের ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষসম্পদের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে।
কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কৃষিপণ্য সংরক্ষণের অভাবে অনেক সময় কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পান না। এ সমস্যা সমাধানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হলে কৃষিকে রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি বাড়ানো গেলে কৃষক লাভবান হবেন এবং দেশের অর্থনীতিও আরও সমৃদ্ধ হবে।
অনুষ্ঠানে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কুউক) চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আতিয়ার রহমান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামছুল আলমসহ প্রাণিসম্পদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, মন্ত্রী কুমিল্লা জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতাধীন সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামারে নবনির্মিত হ্যাচারি উদ্বোধন করেন। হ্যাচারি পরিদর্শনকালে মন্ত্রী ইনকিউবেটরে ডিম ফুটানোর প্রক্রিয়া (ছ্যাটার ও হ্যাচার) সম্পর্কে অবগত হন। এ সময় কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা ওয়াসার চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, কুমিল্লা সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামারের উপপরিচালক চন্দন কুমার পোদ্দার, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিউর রহমান রাজীব উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ