০৯:৫১ পি.এম
যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে উন্নীত হলে ১০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ী নেতারা। তারা জানান, এর জন্য রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, সনদায়ন প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন, কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতকরণ এবং শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করা অপরিহার্য।
বুধবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং ঢাকায় অবস্থিত ব্রিটিশ হাইকমিশনের যৌথ উদ্যোগে ‘যুক্তরাজ্যের বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধি: তৈরি পোশাক ছাড়া অন্যান্য খাতের সম্ভাবনা’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এসব বিষয় তুলে ধরেন। রাজধানীর ঢাকা চেম্বার অডিটোরিয়ামে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় বক্তারা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের রপ্তানি দীর্ঘদিন ধরে তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরশীল। এই নির্ভরশীলতা কমিয়ে ওষুধ, খাদ্য ও হিমায়িত খাদ্য, চিংড়ি, কৃষিপণ্য, বাইসাইকেল, হালকা প্রকৌশল ও প্লাস্টিকসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতের রপ্তানি বাড়াতে হবে। বক্তারা যুক্তরাজ্য সরকারের প্রবর্তিত ডেভেলপিং কান্ট্রিজিজ ট্রেডিং স্কিমের (ডিসিটিএস) সুবিধা কাজে লাগাতে রপ্তানিকারকদের প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: ১২৫তম প্রাইজবন্ডের ড্র রোববার, প্রথম পুরস্কার ৬ লাখ টাকা
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, ডিসিটিএসের আওতায় যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রবেশাধিকারের সুযোগ কাজে লাগাতে উদ্যোক্তাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। এছাড়া, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বিদ্যমান শুল্ক ও অশুল্ক প্রতিবন্ধকতা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান বলেন, বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রবেশাধিকারের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগের বিষয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা বিদ্যমান সুযোগগুলো কাজে লাগাতে এগিয়ে আসবেন।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল ৪.৬৭ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে তৈরি পোশাক খাতের অবদান প্রায় ৯৪ শতাংশ। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের মোট আমদানির পরিমাণ ৯৪৮ বিলিয়ন ডলার হলেও দেশটির আমদানিতে বাংলাদেশের অংশ মাত্র ০.৪৯ শতাংশ। যদি এটি ১ শতাংশে উন্নীত করা যায়, তবে দেশের রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
ইপিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, রপ্তানি খাতে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে শুধুমাত্র একটি পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। এজন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সুবিধা বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বিএফআইইউ
কর্মশালায় যুক্তরাজ্যের ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিমের ওপর একটি কারিগরি অধিবেশন পরিচালনা করেন বাংলাদেশস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের বাণিজ্য উন্নয়নবিষয়ক আঞ্চলিক উপদেষ্টা এলি পার্কার। অধিবেশনে ডিসিটিএসের আওতায় বর্তমান ও এলডিসি থেকে উত্তরণের পর যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রবেশের সুযোগ, অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা গ্রহণের পদ্ধতি এবং বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে রপ্তানিকারকদের করণীয় তুলে ধরা হয়।
আলোচনা পর্বে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক অমৃতা মাকিন ইসলাম, হরটেক্স ফাউন্ডেশনের পরিচালক খুরশিদ আহমদ ফারহাদ, মেঘনা গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাক আহমেদ তানভীর, কাপকেক এক্সপোর্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াসির ওবায়েদ, এম. ইউ. সি ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্যামল দাস এবং বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাফিউস সামি আলমগীরসহ সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় বক্তারা বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ, পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতকরণের জন্য সরকারি সংস্থা, বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান। তারা বলেন, বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা ও নতুন বাজারের সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য এসব উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মশালায় বাংলাদেশের অপ্রচলিত বা নন-আরএমজি রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষের অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
আরও পড়ুন: রেমিট্যান্স ও ডিজিটাল সেবা বৃদ্ধিতে ওয়ান ব্যাংক ও নগদের চুক্তি
অনুষ্ঠানে ডিসিসিআইয়ের সহসভাপতি মো. সালিম সোলায়মানসহ পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন