প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোমোর অভিষেকটি স্বপ্নের মতো ছিল। ইতালিয়ান ক্লাবটি ঘরের মাঠে আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলে পরাজিত করেছে। তবে একই রাতে বাজে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছে আরেক নতুন দল সাবাহ। তারা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাঠে ৪-০ গোলে পরাজিত হয়েছে।
ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ তাদের গ্রুপ পর্বের অভিযান শুরু করেছে দারুণভাবে। নরওয়ের বোদো/গ্লিমটকে তারা ৫-০ গোলে হারিয়েছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেরা ফেনারবাচে ঘরের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করেছে এএস রোমার সঙ্গে।
কোমো এই প্রথমবার ইউরোপের সর্বোচ্চ ক্লাব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে। উয়েফার নিয়ম মেনে নিজেদের হ্রদ পাড়ের স্টেডিয়াম সিনিগাগ্লিয়া প্রস্তুত করতে তাদের সময়ের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। যদি তারা তা করতে না পারতো, তবে তাদের ঘরের ম্যাচ ২০০ কিলোমিটার দূরে সাসুওলোর মাঠে খেলতে হতো। তবে সেই ঝামেলা এড়িয়ে কোমো নিজেদের মাঠে নেমেছিল এবং তারা দারুণ এক জয়ের মাধ্যমে অভিষেকটি রাঙিয়েছে।
১৫ মিনিটে গোল করে উৎসবের সূচনা করেন মার্তি বাতুরিনা। এরপর তাসো দুভিকাস ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আসানে দিয়াও ৩-০ করেন। প্রতিপক্ষের আন্দ্রিয়া মাক্সিমোভিচ একটি গোল শোধ করেন। তবে যোগ করা সময়ে চতুর্থ গোলটি করেন মাক্সিমো পেরোনে, যা ব্যবধান নিশ্চিত করে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচটি কোমোর মতো দুর্দান্ত হয়নি আজারবাইজানের চ্যাম্পিয়ন সাবাহ ক্লাবের। এই ক্লাবটির অস্তিত্ব এক দশক আগে ছিল না। তারা ঘরোয়া লিগ জিতে বাছাইপর্বে উঠেছিল। এরপর ইসরাইলের হাপোয়েল বিয়ার-শেভাকে পরাজিত করে ইউরোপের বড় দলের সঙ্গে গ্রুপ পর্বে স্থান করে নেয়।
তবে দুই মৌসুম পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফিরে ইউনাইটেডের মাঠ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সাবাহ বড় ধাক্কা খায়। মাইকেল ক্যারিকের দলের কাছে তারা একরকম উড়ে যায়। ২৭ মিনিটে মাথেউস কুনিয়া গোল করে শুরু করেন। এরপর বিরতির ঠিক আগে ব্রুনো ফার্নান্দেজ এবং বেনিয়ামিন সেস্কো গোল করেন। চতুর্থ গোলটি করেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ।
অন্যদিকে, বায়ার্নও গোল উৎসব করেছে। বিরতির আগে বোদো/গ্লিমটের বিপক্ষে কিছুটা হতাশ ছিল বায়ার্ন। তবে বিরতির দুই মিনিট পর জামাল মুসিয়ালা গোল করেন। এরপর একের পর এক গোল আসতে থাকে।
এক ঘণ্টায় দ্বিতীয় গোলটি করেন হ্যারি কেইন। বায়ার্নের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি তার ৩৯ ম্যাচে ৩৪তম গোল। এরপর জোরালো হাফ-ভলিতে ৩-০ করেন আলফোনসো ডেভিস। ভিনসেন্ট কোম্পানির দল তখন পুরোপুরি ছন্দে ছিল। শেষ দিকে দুর্দান্ত দুই গোল করে স্কোরলাইন সম্পূর্ণ করেন মাইকেল ওলিসে।
ইস্তাম্বুলে ৩৯ মিনিটে রোমা এগিয়ে যায়। দোনিয়েল মালেনের পাস থেকে বল পেয়ে বাউন্স করে ব্রায়ান ক্রিস্তান্তে জালে পাঠান। এটি ছিল প্রতিযোগিতায় তার প্রথম গোল। ১৫ বছর আগে এসি মিলানের হয়ে মাত্র ১৬ বছর বয়সে এই প্রতিযোগিতায় অভিষেক হয়েছিল তার।
১৮ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেরা ফেনারবাচে দমে যায়নি। বিরতির তিন মিনিট পর তারা সমতা ফেরায়। মেসন গ্রিনউডের পাস থেকে আর্চি ব্রাউন গোলরক্ষক মিলে স্ভিলারের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান।
শেষ দিকে জয়ও পেয়ে যেতে পারত ফেনারবাচে। নাথান আকের একটি হেড রোমার ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
এদিকে, টানা পাঁচবার প্রথম ম্যাচ হারার পর এবার আর হারেনি পিএসভি আইন্দহোভেন। ঘরের মাঠে শাখতার দোনেৎস্কের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে তারা।
প্রথমার্ধে পিছিয়ে ছিল ডাচ ক্লাবটি। ভেতর থেকে কেটে ঢুকে জোরালো শটে গোল করেন গ্লাইকার মেন্দোজা। গোলরক্ষক মাতেই কোভার সেই শট ঠেকাতে পারেননি। তবে বিরতির পরপরই দারুণ এক ফিনিশিংয়ে সমতা ফেরান সের্হিনিও দেস্ত।
অন্যদিকে, দশজনের স্লাভিয়া প্রাগ ঘরের মাঠে বড় হতাশায় পড়ে লঁসের বিপক্ষে। যোগ করা সময়ে দুটি গোল হজম করে ৩-২ গোলে হারে তারা।
বিরতির পরপরই ভিএআরের সিদ্ধান্তে লাল কার্ড দেখেন স্লাভিয়ার মিকুলাস কোনেচনি। এরপরও কিছুক্ষণ পর এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। গোল করেন দানিয়েল স্তুর্ম।
এরপর সমতা ফেরান আবদাল্লাহ সিমা। তবে ৮৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দর্শকদের উল্লাসে ভাসান স্তুর্ম। ৯১ মিনিটে গোল করেন ফ্লোরিয়ান তুভাঁ। শেষ মুহূর্তে দারুণ এক শটে জয়সূচক গোল করেন রুবেন আগিলার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন