প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশাল, ২ নভেম্বর ২০২৬ : বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের জন্য প্রকৃত উপকারভোগী পরিবার চিহ্নিতকরণ এবং তথ্য সংগ্রহে স্বচ্ছতা ও নির্ভুল তথ্য নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
আজ সকালে বরিশাল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা দেন। বরিশাল জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয় যৌথভাবে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
খলিল আহমেদ উল্লেখ করেন, মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা, পক্ষপাতিত্ব কিংবা অনিয়মের সুযোগ রাখা যাবে না। প্রতিটি পরিবারের প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য সংগ্রহ করা আবশ্যক।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ফ্যামিলি কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ। এই কর্মসূচির সুফল যেন প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত ও উপযুক্ত পরিবারের কাছে পৌঁছায়, তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে। তথ্য সংগ্রহকারীদের সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই উপকারভোগী নির্বাচনসহ পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তাই দায়িত্ব পালনে সততা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, সরকারি নির্দেশনা ও নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করার পাশাপাশি তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে মাঠপর্যায়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ। একটি ভুল তথ্যের কারণে প্রকৃত উপকারভোগী তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন, আবার অযোগ্য কেউ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তাই প্রতিটি পরিবারের তথ্য সরেজমিনে যাচাই করে সতর্কতার সঙ্গে সংগ্রহ করা আবশ্যক।
তিনি বলেন, তাড়াহুড়া, অনুমান নির্ভর তথ্য কিংবা ব্যক্তিগত পরিচিতির ভিত্তিতে কোনো তালিকা প্রস্তুত করা যাবে না। কোনো প্রকৃত উপকারভোগী যাতে বাদ না পড়েন এবং অনুপযুক্ত কেউ যাতে সুবিধা গ্রহণের সুযোগ না পান, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এই কার্যক্রমকে শুধুমাত্র দাপ্তরিক দায়িত্ব হিসেবে না দেখে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
অনুষ্ঠানে বরিশাল বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ইকবাল কবির, সহকারী পরিচালক জাবির আহমেদসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে নিয়োজিত ৩৬ জন তথ্য সংগ্রহকারীর মধ্যে ট্যাব বিতরণ করা হয়। এসব ট্যাবের মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবারের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও যাচাই-বাছাই করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন