প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভোলার লালমোহন উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু তৈয়ব। তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তার কোনও হদিস পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও তিনি নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা তুলতেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হওয়ার সুবাধে তিনি জড়িয়ে পড়েছিলেন নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে বেশ কিছু লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ বিষয়ক প্রতিক্রিয়া পেয়ে তিনি চরম বিতর্কের মুখে পড়েন।
এই অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বিদ্যালয়ের ২১৫টি দোকান রয়েছে। এই দোকানগুলো ২০১২ সালে বরাদ্দ দেন সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু তৈয়ব, তখন তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন। বরাদ্দের নামে প্রতিটি দোকান থেকে ৩ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। দোকানগুলোর বরাদ্দের চুক্তিতে তার স্বাক্ষরও রয়েছে। কেবল এই দোকান বরাদ্দ দিয়েই ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন এবং বিদ্যালয়ের জমি অবৈধভাবে বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল তার। গঠিত তদন্ত কমিটি ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত বিদ্যালয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে। তদন্ত শেষে ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ওই প্রতিবেদনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হেলাল উদ্দিন ও সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু তৈয়বের একাধিক অনিয়মের তথ্য নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু এরই মধ্যে প্রধান শিক্ষক এলপিআর-এ চলে যান। তদন্ত কমিটি সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু তৈয়বকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক না করতে এবং তার বেতন-ভাতা স্থগিত করার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন।
তবে তদন্ত কমিটির সুপারিশ আমলে নিয়ে গত ১৭ জুন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক-১) এসএম জিয়াউল হায়দার হেনরী স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু তৈয়বকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন ও আর্থিক লেনদেনের ক্ষমতা প্রদান করা হয়। এই আদেশ পাওয়ার পর দীর্ঘ দুই বছর পর প্রকাশ্যে আসেন তিনি এবং এরপর থেকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন শুরু করেন আবু তৈয়ব।
এদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আবু তৈয়বের অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিক্ষোভ, মানববন্ধন এবং ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। তবে আবু তৈয়ব এখনও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন লালমোহন সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় সচেতন মহল। তারা বলছেন, যার বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে তাকে কিভাবে আবারো পদোন্নতি দিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়? এখন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, তিনি দুর্নীতি করেও যেহেতু পদোন্নতি পেয়েছেন, তাহলে তিনি এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবেন। তার এই দায়িত্বে থাকা অবস্থায় লালমোহনের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টি নিজেদের গৌরব হারাবে এবং শিক্ষার পরিবেশ ও মান ক্ষুণ্ণ হবে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে আবু তৈয়ব জানান, তদন্ত কমিটি আমার কাছে কোনো বিষয় জানতে ডাকেননি। তিনি আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তখন আমি কোনও আয়ণ-ব্যয়ণ কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলাম না। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর উল্লেখিত তদন্ত প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে আমাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়েছে। এছাড়া তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই তিনি বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক-১) এসএম জিয়াউল হায়দার হেনরী মন্তব্য করেন, সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয়। শাস্তি আরোপও করতে পারে মন্ত্রণালয়। এর কারণে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনটি আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তার কার্যক্রম চলমান থাকবে। অফিসিয়ালভাবে অপরাধের ফাইনাল সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি সঠিক। তবে ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগনামা গঠিত হবে। এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমপর্ণ করার সুযোগ দেওয়া হবে। যদি তখন তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া যদি তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকে বেতন-ভাতা ভোগ করেন, তাহলে তাকে তা ফেরত দিতে বাধ্য হতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন