প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হবিগঞ্জের মাধবপুরে ঋণ নিয়ে আগাম জাতের টমেটো চাষ করেছিলেন গিরিধন সরকার, যিনি একজন প্রান্তিক কৃষক। তাঁর স্বপ্ন ছিল, কিছু সপ্তাহ পরেই ক্ষেতভরা টমেটো বিক্রি করে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবেন। গাছে ফুলও আসতে শুরু করেছিল। প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ জন শ্রমিক তাঁর জমিতে কাজ করতেন। কিন্তু কীটনাশকের পরিবর্তে আগাছানাশক প্রয়োগের ফলে মুহূর্তেই সব স্বপ্ন ভেঙে যায়। ২৫০ শতক জমির টমেটো ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে প্রায় ১৬ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়ে কৃষক গিরিধন দিশেহারা হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের দীঘিরপাড় গ্রামে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক গিরিধন সরকারের পরিবারের দাবি, ভুল ওষুধ দেওয়ার কারণে তাঁদের এই ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনার পর ক্ষতিপূরণ ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কৃষি কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তাঁর ভাই, সুলতানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রায়ধন সরকার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টমেটো গাছে পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলে গত ৭ অক্টোবর গিরিধন সরকার মাধবপুর বাজারের বিসমিল্লাহ বীজ ভান্ডারে যান। সেখানে অটোকেমিক্যাল কোম্পানির প্রতিনিধি মো. মনিরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে তিনি কীটনাশক ক্রয় করেন। পরে তাঁদের দেওয়া ওষুধ জমিতে স্প্রে করেন। এর পরপরই টমেটো গাছগুলো সাদা হয়ে যায় এবং পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়। অনেক গাছের গুড়ায় পচন ধরেছে।
গিরিধন আগাম টমেটো চাষ করে ভালো দামে ফসল বিক্রির স্বপ্ন দেখেছিলেন। এ জন্য তিনি এনজিও ও বিভিন্ন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে জমিতে বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু ফসল নষ্ট হওয়ার কারণে এখন ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় আছেন। মানসিক চাপের কারণে অসুস্থ হয়ে বর্তমানে তিনি মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, "ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে সরজমিন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে কিভাবে প্রনোদনায় সহযোগিতা করা যায়, তা দেখা হচ্ছে।"
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার জানান, বৃহস্পতিবার সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে জানা গেছে, কৃষক কীটনাশকের পরিবর্তে আগাছানাশক জমিতে প্রয়োগ করায় টমেটো গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকও ওষুধের বোতল যাচাই না করেই প্রয়োগের কথা স্বীকার করেছেন। বিষয়টি আরও যাচাই করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে বিক্রেতাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জমিতে প্রয়োগের আগে ওষুধের লেবেল ভালোভাবে পড়ে নিতে হবে।
কৃষি কর্মকর্তা বলেন, কৃষকদের যে কোন বিষয়ে পরামর্শের জন্য তারা সব সময় প্রস্তুত। প্রয়োজনে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিতে হবে। ফলন ধরার আগ মুহূর্তে টমেটো ক্ষেতের এ বিপর্যয়ে কৃষক পরিবারটি কিভাবে এনজিও ও মানুষের কাছ থেকে আনা ঋণ, ধার পরিশোধ করবেন, এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন