প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিলেট টিটিসিতে কর্মরত ২০ বছরের দুর্নীতিবাজ কোটি টাকার ড্রাইভার কাজি বিল্লাল হোসেন বদলীর দাবিতে প্রবাসী মন্ত্রীর কাছে স্বারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
সামাজিক সংগঠন সিলেট নাগরিক অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে ৮ জুন, ২০২৬ইং সোমবার সকাল ১১ টায় সংগঠনের সদস্যরা শ্রীমতী সিলেট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বারকলিপি প্রেরণ করেন।
স্বারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা সিলেট জেলা, প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকায় বেকারত্ব দূরীকরণে সিলেট সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু, এখানে কিছু সংখ্যা সিলেট বিদ্বেষী, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিড়ম্বনা করে রেখেছে, যারা আওয়ামী স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে কাজ করে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সরকারের সময় থেকেই সিলেট টিটিসিতে ড্রাইভার কাজি বিল্লাল হোসেন নিজ দলের মাধ্যমে আদিপত্য বিস্তার করেছেন এবং তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানে রয়েছেন। ২০০৬ সালের নভেম্বর থেকে এই পর্যন্ত তিনি একই ভাবে বহাল আছেন। তিনি স্থানীয় এমপি ও মন্ত্রীদের সুপারিশ কাজে লাগিয়ে কাজ করছেন।
দীর্ঘ সময় একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকার কারণে, তিনি নানভাবে দুর্নীতি করছেন এবং সিলেটের স্থানীয় জনসাধারণের সাথে দুর্ব্যবহার করছেন, সিলেটের আঞ্চলিক ভাষার উপর বিরূপ হাস্য-টাট্টা করছেন, দেশী ও বিদেশী তরুণীদের চরিত্র নিয়ে কটাক্ষ করছেন।
সিলেটের টিটিসির আশপাশ এলাকা ও অফিসে কর্মকর্তা, কর্মচারীদের মধ্যে বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে তার কারণে। কাজি বিল্লালের রয়েছে ১ কোটি টাকার বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকায়, ১০ টি সিএনজি অটো রিক্সা এবং বেনামে নানা ব্যবসা-বাণিজ্য। সিলেট টিটিসিতে ভর্তি বাণিজ্যসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে তাকে ভাগ দেয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়, সিলেট টিটিসিতে আসা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সচিব ও মন্ত্রীদের অনুসারীদের নিয়ে তার গাড়ির মাধ্যমে সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে নিয়ে যেতেন কাজি বিল্লাল। এইভাবে তিনি এসব বড় কর্তাদের সাথে ঘনিষ্ঠ হয়ে ২০ বছরে নিজের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছেন। তিনি ধীরে ধীরে বড়ো টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছেন। তার স্ত্রীও একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, ডিজেল/অটো ওয়ার্কশপ এটেনডেন্ট ফাতেমা আক্তার।
সিলেট নাগরিক অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ, গত ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ইং তারিখে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ে কাজি বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। তারপর চলতি বছরের এপ্রিল ২০২৬ইং এক তদন্ত কমিটি প্রতিনিধি সিলেট টিটিসিতে আসে।
দুর্নীতিবাজ কাজি বিল্লাল হোসেন পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী টিটিসি থেকে ৪ জনকে সাক্ষী করে তার পক্ষে সাফাই দেন এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী বি.এম. শরিফুল ইসলামকে ১ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে তার পক্ষে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, কাজী বিল্লাল হোসেন উপ পরিচালক প্রকৌশলী বি.এম. শরিফুল ইসলামকে সিলেটে ঘুরিয়ে দেখার সব খরচ বহন করেন।
সিলেট থেকে কাজি বিল্লাল হোসেনকে বদলীর দাবিতে সিলেটবাসীর পক্ষ থেকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে স্বারকলিপির মাধ্যমে সব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন