প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চুল পড়ার সমস্যা বর্তমানে ৩০ বা ৪০ বছর বয়সি পুরুষদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সম্প্রতি কিশোর বয়সের শেষ দিকে এবং ২০-এর কোঠায় থাকা অনেক তরুণ চুল পড়া, কপালের চুল পেছনে সরে যাওয়া কিংবা মাথার মাঝখানে চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন। তবে এর পেছনে আসল কারণ কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বংশগত, মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস অথবা শরীরচর্চায় ব্যবহৃত ক্রিয়েটিনের ফল হতে পারে। সাধারণত একাধিক কারণে চুল পড়ার ঘটনা ঘটে।
বংশগত কারণ
তরুণদের মধ্যে চুল পড়ার একটি প্রধান কারণ বংশগত। বিশেষ করে কপালের চুল পেছনে সরে যাওয়া বা মাথার মাঝখানে ধীরে ধীরে চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেশিয়া বা পুরুষদের সাধারণ টাক পড়ার প্রবণতা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চিকিৎসকরা জানান, বংশগত কারণে চুলের গোড়া অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন (ডিএইচটি) হরমোনের প্রভাবে এসব চুলের গোড়া ধীরে ধীরে ছোট হয়ে যায়। ফলে সময়ের সঙ্গে চুল পাতলা ও ছোট হতে থাকে।
এ ধরনের বংশগত প্রবণতা শুধুমাত্র মায়ের দিক থেকে আসে—এ ধারণা ভুল। পরিবারের বাবা বা মা উভয় দিক থেকেই এর প্রভাব আসতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চুল পড়ার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। কপালের দুই পাশের চুল ধীরে ধীরে পেছনে সরে যাওয়া, মাথার মাঝখানে চুল পাতলা হওয়া এবং চুল ক্রমে সরু হয়ে যাওয়ার ধরন হঠাৎ করে সারা মাথায় চুল পড়ার চেয়ে আলাদা।
মানসিক চাপ
বর্তমান জীবনযাত্রার বিভিন্ন বিষয় চুলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। পরীক্ষা, কর্মক্ষেত্রের চাপ, মানসিক উদ্বেগ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, দ্রুত ওজন কমানো এবং বিভিন্ন অসুস্থতা চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির চক্রকে প্রভাবিত করতে পারে। এ ক্ষেত্রে টেলোজেন এফ্লুভিয়াম নামে একটি সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেখানে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সংখ্যক চুল অকালেই ঝরে পড়ার পর্যায়ে চলে যায়। তবে কোনো মানসিক চাপ বা অসুস্থতার কয়েক মাস পর চুল পড়া শুরু হতে পারে। এ কারণে অনেকেই চুল পড়ার সঙ্গে আগের কোনো চাপ বা অসুস্থতার সম্পর্ক বুঝতে পারেন না।
ক্রিয়েটিন কি চুল পড়ার কারণ?
শরীরচর্চা করা তরুণদের মধ্যে ক্রিয়েটিন ব্যবহারের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ক্রিয়েটিন সরাসরি চুল পড়ার কারণ—এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। ক্রিয়েটিন নিয়ে উদ্বেগের মূল কারণ কিছু গবেষণায় ডিএইচটি হরমোনের মাত্রার পরিবর্তনের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে কোনো হরমোনের মাত্রা বাড়লেই ক্রিয়েটিনের কারণে ক্লিনিক্যালি সিগনিফিক্যান্ট বা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় চুল পড়বে—এমনটা বলা যায় না।
যাদের বংশগতভাবে অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেশিয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তারা ক্রিয়েটিন ব্যবহারের সময় চুলের ঘনত্ব ও চুল পড়ার ধরনে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। বর্তমানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সব তরুণকে ক্রিয়েটিন চুল পড়ার কারণ হবে—এমন সতর্কতা দেওয়ার যথেষ্ট প্রমাণ নেই।
খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের বেঁচে থাকার জন্য চুল অপরিহার্য অঙ্গ নয়। তাই শরীরে পুষ্টির ঘাটতি বা শারীরিক চাপ তৈরি হলে শরীর চুলের বৃদ্ধির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে পারে। পর্যাপ্ত প্রোটিন না খাওয়া, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং আয়রনসহ বিভিন্ন পুষ্টির ঘাটতি কিছু মানুষের চুল পড়ার কারণ হতে পারে। তবে চুল পড়লেই যে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি রয়েছে, তা নয়। তাই কারণ না জেনে নিজের ইচ্ছায় বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি-পরিপূরক গ্রহণ করাও সমাধান নয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন