প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট তৈরির কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের সময় ৬ কার্টন সিগারেট এবং একটি মেশিন জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন নাঙ্গলকোট থানার উপ-পরিদর্শক গণেষ চন্দ্র দাস।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট নাঙ্গলকোট উপজেলার পেরিয়া ইউনিয়নের আশারকোটা গ্রাম থেকে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ অভিযানে একটি সিগারেট তৈরির মেশিন জব্দ করা হয়। ওই সময় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি, ফলে পেরিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেনের জিম্মায় রাখা হয়। ৫ আগস্ট সিগারেট তৈরির মেশিনটি চুরি হয়ে যায়। এ ঘটনায় ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নাঙ্গলকোট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান উপ-পরিদর্শক গণেষ চন্দ্র দাস।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের গোবিন্দ মানিক্য দিঘিসংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবৈধ ডিপুতে অভিযান চালায়। এ সময় বিদেশি মেসি ব্র্যান্ডের ৬ কার্টুন সিগারেট জব্দ করা হয় এবং চোরাই হওয়া সিগারেট তৈরির মেশিনসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, "প্রশাসন অভিযানে পাওয়া সিগারেট তৈরির মেশিন আমার জিম্মায় রাখেন। চোরের দল ৫ আগস্ট মেশিনটি চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আমি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ৬ আগস্ট নাঙ্গলকোট থানায় একটি মামলা দায়ের করি। মঙ্গলবার পুলিশ সূত্রে জানতে পারলাম চোরাই মেশিনটি চৌদ্দগ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।"
নাঙ্গলকোট সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিল্টন চাকমা রাতে জানান, "গত ৪ আগস্ট সেনাবাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে উপজেলার পেরিয়া ইউনিয়নের আশারকোটা গ্রাম থেকে নকল বিদেশি সিগারেট তৈরির একটি মেশিন জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে কাউকে না পাওয়ায় আমরা জব্দ মেশিনটি স্থানীয় ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেনের কাছে জিম্মায় রাখি। পরে মেশিনটি চুরি হয়ে যায়। এ ঘটনায় ইউপি সদস্য থানায় মামলা করেন।"
চৌদ্দগ্রামের বাতিসায় অভিযান চালানো ডিপুর মালিক সাদ্দাম হোসেন বলেন, "মেশিনটি চোরাই নয়। মেশিনটি চট্টগ্রাম থেকে কিনে নিয়ে এসেছি আমি।" এ প্রতিবেদক ডিপু মালিককে প্রশ্ন করেন, কেনা হলে পুলিশ মেশিনটি কেন নিয়ে যাবে? ডিপু মালিক এ প্রশ্নের কোনোরকম উত্তর দিতে পারেননি।
নাঙ্গলকোট থানার উপ-পরিদর্শক গণেষ চন্দ্র দাস রাতে জানান, "নাঙ্গলকোট থানায় দায়ের হওয়া সিগারেট তৈরির মেশিন চুরির মামলায় তদন্ত করতে গিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আমরা চৌদ্দগ্রামের বাতিসা নামের স্থানে একটি ডিপুতে অভিযান চালাই। অভিযানের মেশিন দিয়ে বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট তৈরির সময় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করি। এসময় মেশিনটি এবং ৬ কার্টুন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট জব্দ করি। মামলার তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তারদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন