প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শেরপুরের নকলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্য বকসহ বিভিন্ন বন্য পশু-পাখি শিকার বন্ধে মাঠে নেমেছে প্রশাসন ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। বিশেষ অভিযানে এক পাখি শিকারিকে তিনটি বক ও শিকারের সরঞ্জামসহ আটক করে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আদাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠে জমে থাকা পানিতে মাছ ও জলজ ছোট প্রাণী খেতে প্রতিবছরের মতো এবারও বক নামতে শুরু করেছে। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যক্তি বিভিন্ন কৌশলে বন্য বক শিকার করছে। খাদ্যের সন্ধানে আসা বকগুলোই শেষ পর্যন্ত মানুষের শিকারে পরিণত হচ্ছে, যা পরিবেশের ভারসাম্য ও প্রাণিবৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খাল-বিল ও নদীর তীরবর্তী ফসলি জমিতে কলাগাছ ও কলাপাতা দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি ছোট ঘরের ভেতরে বসে পালিত বক উড়িয়ে বন্য বককে আকৃষ্ট করা হয়। বন্য বক ঘরের ওপর বসামাত্র ভেতর থেকে তাদের পা টেনে ধরে শিকার করা হয়। এছাড়া বিষটোপ, চিকন প্লাস্টিকের সুতার ফাঁদ এবং বড়শিতে ছোট মাছ বা ব্যাঙ গেঁথেও অবাধে বক শিকার করা হচ্ছে।
এ ধরনের বন্য পাখি শিকারের খবর পেয়ে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, শেরপুর বার্ড ক্লাব এবং প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন শাইন যৌথভাবে বন্য পাখি রক্ষায় মাঠে কাজ শুরু করে। তাদের উদ্যোগে বুধবার শেরপুর সদর ও নকলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে নকলা উপজেলার গণপদ্দী ইউনিয়নের আদমপুর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন এ্যানি। এ সময় ওই গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে আব্দুর রাজ্জাককে তিনটি বক ও বক শিকারের সরঞ্জামসহ আটক করা হয়। পরে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
এদিন প্রায় ছয় ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাখি শিকারের সরঞ্জাম জব্দ এবং মোট ১২টি জীবিত বক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা বকগুলো উপস্থিত স্থানীয়দের সামনে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে বন্য পাখি সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয়দের মধ্যে লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা জানান, এলাকায় এভাবে অবাধে বক শিকার করা হচ্ছে; এই তথ্য আগে তাদের জানা ছিল না। এখন থেকে প্রশাসন, পুলিশ ও পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্যরা নিয়মিত নজরদারি করবেন।
তারা বলেন ‘বন্য পশু-পাখি শিকার পরিবেশ ও প্রাণিবৈচিত্র্য ধ্বংসের একটি বড় হুমকি এবং এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। শুধু বক নয়, কোনো বন্য পশু-পাখিই শিকার করতে দেওয়া হবে না। বন্য পশু-পাখির শিকারি সে যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, শেরপুরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার, ওয়াইল্ডলাইফ রেঞ্জার আব্দুল্লাহ আল আমিন, শেরপুর বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন শাইন-এর নির্বাহী পরিচালক সাংবাদিক মুগনিউর রহমান মনি, পুলিশ সদস্য, বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন এ্যানিসহ আদালত সংশ্লিষ্টরা জানান, বন্য পশু-পাখি শিকার বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন