প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বিশ্ব আদিবাসী দিবস পালিত হয়েছে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, পৃথক ও কার্যকর ভূমি কমিশন গঠন, ভূমির অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয় বাজেটে আদিবাসীদের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিতে।
রোববার (৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার কাকনহাটে রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে সিসিবিভিওর শাখা কার্যালয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, পথসভা ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে।
দিবসের কর্মসূচির শুরুতে আদিবাসী সামাজিক নেতৃবৃন্দ ও রক্ষাগোলা গ্রাম সমাজ সংগঠনের শতাধিক সদস্যের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক শোভাযাত্রা বের করা হয়। ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে শোভাযাত্রাটি কাকনহাট বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে শেষ হয়ে। পরে সেখানে একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এরপর সিসিবিভিওর প্রশিক্ষণ কক্ষে বিশ্ব আদিবাসী দিবসের তাৎপর্য এবং আদিবাসীদের অধিকার নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেছেন রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির সভাপতি সুধীর সরেন এবং সঞ্চালনা করেছেন সিসিবিভিওর ঊর্ধ্বতন কর্মসূচি কর্মকর্তা সৌমিক ডুমরী।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দিয়েছেন রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির নেতা বিউটি তির্কী, সিষ্টি টুডু, ইথার আরিফ এবং গ্লোবাল টেলিভিশনের রাজশাহী প্রতিনিধি মোঃ আব্দুল বাতেন।
বক্তারা বলেছেন, দেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে তাদের স্বতন্ত্র জাতিসত্তা, ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে এলেও সে দাবি বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও ভূমিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।
তারা আরও বলেছেন, আদিবাসীদের জীবন-জীবিকা ও সংস্কৃতির সঙ্গে ভূমির সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। কিন্তু ভূমি দখল, বিরোধ ও মালিকানা-সংক্রান্ত জটিলতায় অনেক পরিবার বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়েছে। এসব সমস্যা সমাধান করার জন্য দ্রুত পৃথক ও কার্যকর আদিবাসী ভূমি কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বক্তারা জাতীয় বাজেটে আদিবাসীদের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। বরাদ্দের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে আদিবাসীদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে রাষ্ট্রের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে।
সভায় আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমির অধিকার নিশ্চিতকরণ, পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ সুবিধা প্রদানের দাবি পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেছেন, আদিবাসীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে সিসিবিভিওর সহকারী প্রকল্প সমন্বয়কারী মোঃ শাহাবুদ্দিন, ঊর্ধ্বতন কর্মসূচি কর্মকর্তা নিরাবুল ইসলাম, কর্মসূচি কর্মকর্তা রুমা লাভলি মুর্মু, পৌল টুডু, যোশেফ হাঁসদা সহ বিভিন্ন এলাকার সমাজ সংগঠক, আদিবাসী সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং রক্ষাগোলা গ্রাম সমাজ সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন