প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে আফ্রিকান জায়ান্ট শামুকের উপদ্রবে স্থানীয় বাসিন্দারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। ঘরের দেয়াল, রান্নাঘর, উঠান ও শাকসবজির ক্ষেত সব জায়গায় ছোট-বড় অসংখ্য শামুক ছড়িয়ে পড়েছে। ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঝাড়ু দিয়ে সরিয়ে কিংবা কীটনাশক প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, বাড়ির দেয়াল, উঠান, গাছের গোড়া ও শাকসবজির বাগানে অসংখ্য শামুক ছড়িয়ে রয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, দিনের বেলায় দেয়ালে লেগে থাকা এসব শামুক রাতের বেলায় ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। সরিয়ে দেওয়ার কিছুক্ষণ পর আবারও ফিরে আসে। দেশি শামুকের তুলনায় আকারে কয়েক গুণ বড় এসব শামুকের বিস্তার ঠেকাতে বাসিন্দারা হিমশিম খাচ্ছেন।
স্থানীয় এক গৃহবধূ বলেন, "ঘরের দেয়াল শামুকে ভরে গেছে। ঝাড়ু দিয়ে সরিয়ে দিলেও আবার ফিরে আসে। রান্নাঘর ও বিছানার আশপাশেও উঠে যাচ্ছে। এতে বাচ্চারা ভয় পাচ্ছে, দুর্গন্ধও হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ঘরে বসবাস করাই কঠিন হয়ে পড়বে।"
শামুকের উপদ্রবে কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাচাইল গ্রামের কৃষক জানান, "লাউ, পুঁইশাক ও কচুর লতিসহ বিভিন্ন শাকসবজি খেয়ে নষ্ট করে দিচ্ছে শামুক। রাতে টর্চলাইট নিয়ে ক্ষেতে গেলে চারদিকে শামুক দেখা যায়। এভাবে চলতে থাকলে ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।"
এদিকে শামুকের বিস্তার জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অতীশ দাস রাজিব জানান, "কিছু প্রজাতির শামুকের মাধ্যমে বহন করা পরজীবী মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে মেনিনজাইটিসসহ গুরুতর রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।" তিনি এ কারণে শামুক খালি হাতে না ধরা এবং স্পর্শ করার পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার পরামর্শ দেন।
তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিকাশ রায় বলেন, "এটি আফ্রিকান জায়ান্ট শামুক হতে পারে। অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাতের কারণে এদের বংশবিস্তার বেড়ে থাকতে পারে।" তিনি এ পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতার সঙ্গে শামুক অপসারণের পরামর্শ দেন।
তিনি আরও বলেন, "গ্লাভস ব্যবহার করে শামুক সংগ্রহ করে নিরাপদ উপায়ে অপসারণ করতে হবে। আক্রান্ত এলাকায় কীটনাশক প্রয়োগের আগে কৃষি বিভাগের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। শামুক দমনে এমন রাসায়নিক ব্যবহার করা যাবে না, যাতে মাটি, ফসল ও পরিবেশের ক্ষতি হয়।"
আফ্রিকান জায়ান্ট শামুকের বৈজ্ঞানিক নাম Lissachatina fulica। পূর্ব আফ্রিকায় উদ্ভূত এই প্রজাতি দ্রুত বংশবিস্তার ও বিস্তৃত খাদ্যাভ্যাসের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রমণাত্মক প্রজাতি হিসেবে পরিচিত। শাকসবজি, ফল, চারা ও বিভিন্ন উদ্ভিদের পাতা খেয়ে এটি ফসলের ক্ষতি করতে পারে। কিছু পরজীবীর বাহক হিসেবেও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই শামুকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সতর্কতার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন