বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:২৫ এম
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এল নিনোর আগমনে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে একটি নিরীক্ষায় দেখা গেছে, রাজ্যটির ৫৭টি বাঁধের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বিশেষ করে, যদি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৪০টি বাঁধ ভেঙে পড়ে, তাহলে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারে। পাশাপাশি, ২৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত নিরীক্ষা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ার ৫৭টি বাঁধ দুর্বল বা অসন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। আগের হিসাবের তুলনায় এই সংখ্যা বেড়েছে। পুরোনো বাঁধগুলোর অবস্থা নতুন করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে, ফলে ভবিষ্যতে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাজ্যজুড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো ছড়িয়ে থাকলেও ঘনবসতিপূর্ণ উপকূলীয় শহরগুলোর আশপাশে এগুলোর সংখ্যা বেশি। বিশেষ করে সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরীয় অঞ্চল, সান ডিয়েগো ও লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় বাঁধ ভেঙে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইন থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ২০১৭ সালে অরোভিল বাঁধের পানি নিষ্কাশন পথের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর প্রায় দুই লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছিল। ওই ঘটনার পর, আইনপ্রণেতারা বাঁধের নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনকারী মালিকদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রাজ্য কর্তৃপক্ষকে প্রদান করেন।
তবে, নিরীক্ষায় দেখা গেছে, নিরাপত্তার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে ৪৪টি বাঁধের মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হলেও, রাজ্যের পানি সম্পদ বিভাগ এখন পর্যন্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। নিরীক্ষকদের মতে, নিরাপত্তার ঘাটতি দূর করতে ব্যর্থ বাঁধমালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় জননিরাপত্তার ঝুঁকি রয়ে গেছে।
পানি সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২২ সালে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধিমালা চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকার কারণে আলাদা প্রয়োগকারী শাখা যথাযথভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া, শুনানিতে নিজেদের সিদ্ধান্তের পক্ষে লড়াই করার ব্যয় বহন করতে পারবেন কি না, তা নিয়েও কর্মকর্তাদের উদ্বেগ রয়েছে।
৩০ বছরেও মেরামত হয়নি বিশাল গর্ত
নিরীক্ষায় এমন একটি বাঁধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার পানি নিষ্কাশন পথে ৪৭ ফুট চওড়া একটি গর্ত রয়েছে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সেটি মেরামত করা হয়নি। নিরীক্ষকের হিসাব অনুযায়ী, ওই বাঁধের ত্রুটির কারণে বন্যা হলে প্রায় ৩০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন এবং ৮ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বেশি আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।
তবে নিরাপত্তার স্বার্থে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বাঁধটির নাম প্রকাশ করা হয়নি। রাজ্যের পানি সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করলে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। তবে বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রতিটি বাঁধের ঝুঁকির মাত্রা ও অবস্থা প্রকাশ করা হয়।
মেরামতে প্রয়োজন ২৮০০ কোটি ডলার
ক্যালিফোর্নিয়ার এক হাজার ২২০টির বেশি বাঁধের নিরাপত্তা তদারক করে রাজ্যের পানি সম্পদ বিভাগ। তবে এসব বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, পানি সংস্থা এবং বেসরকারি মালিকদের ওপর। নাজুক অবস্থায় থাকা কিছু বাঁধের মালিক সরকারি সংস্থাও।
অনেক বাঁধ কয়েক দশক আগে নির্মিত হয়েছে, যখন নিরাপত্তার মানদণ্ড তুলনামূলক দুর্বল ছিল। বাঁধের মালিকদের নিরাপত্তা মেরামতের জন্য আগাম অর্থ জমা রাখার বাধ্যবাধকতাও ছিল না। ফলে কংক্রিট ক্ষয়ে যাওয়া, পলি জমা এবং বন্যার পানিতে পানি নিষ্কাশন পথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলেও অনেক মালিকের মেরামতের সামর্থ্য নেই।
নিরীক্ষায় বলা হয়েছে, নাজুক অবস্থায় থাকা বাঁধগুলো মেরামত করতে প্রায় ২৮০০ কোটি ডলার প্রয়োজন হতে পারে। অথচ ২০২৪ সালে একটি গণভোটের মাধ্যমে মেরামত কর্মসূচির জন্য ৪৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার বরাদ্দ আসে। এছাড়া চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ক্যালিফোর্নিয়াকে ৬ লাখ ২৯ হাজার ১৯৮ ডলার অনুদান দিয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় এ অর্থ খুবই সামান্য।
জরুরি পরিকল্পনাও অসম্পূর্ণ
নিরীক্ষক আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, উচ্চ ও অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির বাঁধগুলোর মালিকদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের পরিকল্পনা জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে রাজ্য কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ বন্ধ করে দেওয়ার আইনি ক্ষমতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে, বন্যা মোকাবিলার জরুরি পরিকল্পনাও অসম্পূর্ণ রয়েছে। বাঁধ ভেঙে গেলে মানুষ ও সম্পদ রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা উল্লেখ করে ২৪৫টি বাঁধের জরুরি পরিকল্পনা এখনো অনুমোদন করেনি রাজ্যের জরুরি সেবা দপ্তর। বাঁধমালিকেরা প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষ না করায় এসব পরিকল্পনা আটকে আছে। এ ক্ষেত্রে আইনেও নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।
রাজ্যের পানি সম্পদ বিভাগের বন্যা ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা বিভাগের উপপরিচালক লরা হলেন্ডার বলেছেন, নিরীক্ষকের সঙ্গে তাদের বিভাগ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে। তবে প্রতিবেদনের কিছু পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশের সঙ্গে তারা একমত নন। তারপরও সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং এল নিনোর প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, জননিরাপত্তা রক্ষা তাদের বিভাগের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বন্যার ঝুঁকি কমাতে বাঁধের নিরাপত্তা ও বন্যা প্রতিরোধী বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটির (পিপিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি বাহিনী দুই হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি শিশুকে আটক করেছে। বর্তমানে তাদের মধ্যে ৩৫০ জনকে ‘কঠোর পরিস্থিতিতে’ আটক রাখা হয়েছে।
বুধবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে সংগঠনটি জানায়, ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও আটকের ঘটনা ঘটছে। এর ফলে শিশুদের ওপর নির্যাতন, অনাহারে রাখা এবং স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত করার মতো ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ কোনো অভিযোগ গঠন বা মুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ ছাড়াই শিশুদের আটক করে রেখেছে। সংগঠনটির মতে, এ ধরনের নীতি একটি গুরুতর লঙ্ঘন এবং অপরাধ। এর ফলে শিশুরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে এবং তাদের পরিবার ও শিক্ষাজীবনের স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হচ্ছে।
সংগঠনটি ইচ্ছামতো আটক শিশুদের মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য, নির্যাতনের ঘটনাগুলোর তদন্ত কার্যকরভাবে সম্পন্ন করার এবং নির্যাতন, অনাহারে রাখা ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করার মতো কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য ‘কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ’ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর লক্ষ্যে আগামী নভেম্বরের মধ্যে কাজ এগিয়ে চলছে। প্রকল্পটির প্রাথমিক ফিজিক্যাল ও ক্রিটিক্যালিটি টেস্ট সফলভাবে শুরু হয়েছে।
এছাড়া, দ্বিতীয় ইউনিটের ফুয়েল লোডিং বা রিঅ্যাক্টর চালুর প্রক্রিয়া আগামী বছরের জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে প্রকল্পটির অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্যে এসব অগ্রগতির কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জানানো হয়, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী।
প্রকল্পের নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত দিক তুলে ধরে বৈঠকে বলা হয়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৃতীয় প্রজন্মের আধুনিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং বিশেষজ্ঞদের কঠোর তত্ত্বাবধানে প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নেও প্রকল্পটি সঠিক পথে রয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্য খাতে নিউক্লিয়ার মেডিসিনের সুবিধা জেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ এবং দেশের প্রথম গবেষণা জাহাজ নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়।
বৈঠকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনচর্চা বাড়াতে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে জাঁকজমকপূর্ণ বিজ্ঞান মেলা আয়োজনের সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি দেশীয় উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগিয়ে বিদেশে রপ্তানি বাড়ানো এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামসহ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, মো. আনোয়ারুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, কে এম বাবর, সানসিলা জেবরিন, সালাহ উদ্দিন, মারদিয়া মমতাজ ও মো. আব্দুল গফুর।
এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। পরে সভাপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচিতি পর্ব ও পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে দাপ্তরিক কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস চিকিৎসা শেষে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন।
তিনি বুধবার রাতে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
মির্জা আব্বাসের সহকারী একান্ত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মির্জা আব্বাস দেশে ফিরেছেন চিকিৎসা শেষে এবং বর্তমানে তিনি অনেকটাই সুস্থ। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাস ও ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস।
মির্জা আব্বাস প্রায় পাঁচ মাস ধরে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ২ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফিরেছিলেন। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর ফলোআপ চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়া গমন করেন। সেখানে প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে তার চিকিৎসা চলছিল।
উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। এরপর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দেড় মাস চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়ায় প্রিন্স কোর্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক বন্ধের জন্য আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে ইরান। একই সঙ্গে, দেশটিতে বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবহারে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে।
তেহরান কর্তৃপক্ষের দাবি, স্টারলিংক শত্রুপক্ষের নির্দেশনা, গুপ্তচরবৃত্তি এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের স্টারলিংক ইরান সরকারের কঠোর ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণকে অতিক্রম করে অনলাইনে যুক্ত হওয়ার সুযোগ প্রদান করে। জাতীয় নিরাপত্তার কারণে দেশটিতে এই সেবা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্টারলিংক ব্যবহার এবং এর টার্মিনাল বিতরণের জন্য জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা বা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ যুক্ত হলে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিও রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে দেশটির কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেটের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে। ২০২৬ সালে ইরানের প্রায় ৯ কোটি মানুষ দুবার দীর্ঘ সময় ইন্টারনেট বন্ধ থাকার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। জানুয়ারিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের সময় টানা তিন সপ্তাহ এবং চলমান যুদ্ধের শুরুতে ৮৮ দিন বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখা হয়।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সাইবারস্পেস কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ আমিন আগামিরি স্টারলিংককে শত্রুদের ‘যুদ্ধের হাতিয়ার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, "শত্রুরা এটি নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ, গুপ্তচরবৃত্তি এবং তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করে। স্টারলিংকের স্যাটেলাইট টার্মিনাল বন্ধ করার জন্য আমাদের একাধিক ব্যবস্থা রয়েছে।"
তবে স্টারলিংকের সংযোগ বন্ধ করার জন্য কী ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি আগামিরি। জানুয়ারির বিক্ষোভের সময় এমন একটি প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইরানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ওই প্রযুক্তি ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।
তেহরানভিত্তিক এক ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ আল-জাজিরাকে জানান, স্টারলিংকের সংযোগ ব্যাহত করতে ইরানের কর্তৃপক্ষ একাধিক পদ্ধতি ব্যবহার করে। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের সংকেত-বাধাদানকারী যন্ত্রের মাধ্যমে সেবা ব্যাহত করা হয়। নতুন টার্মিনাল চালুর প্রক্রিয়া ধীর করতে জিপিএসের অবস্থানসংক্রান্ত ভুয়া সংকেতও ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া স্টারলিংক-সংশ্লিষ্ট ইন্টারনেট প্রটোকল স্থানীয় অ্যাপ ও সেবার সঙ্গে যুক্ত হলে সেগুলো শনাক্ত করা সম্ভব।
টার্মিনাল আটকাতে টহল ও ড্রোনের মাধ্যমে অনুসন্ধান চালানো হয়। যেসব স্থানে এসব যন্ত্র বিক্রি হয়, সেখানেও অভিযান চালায় কর্তৃপক্ষ।
গত জুনে ইসরাইলের রাজনীতিক নাফতালি বেনেট দাবি করেন, ২০২১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করতে ইরানে কয়েক হাজার স্টারলিংক যন্ত্র পাচার করেছিল ইসরাইল।
২০২৩ সাল থেকে স্টারলিংকের সম্প্রচার বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের রেডিও রেগুলেশনস বোর্ডেও তৎপরতা চালাচ্ছে ইরান। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও নরওয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে দেশটি। স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কটির নিয়ন্ত্রকসংক্রান্ত নথিপত্রের বিষয়ে নরওয়ের ভূমিকা রয়েছে। গত ৪ অক্টোবর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তেহরানে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে। অননুমোদিত স্টারলিংক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সাইবারস্পেস কাউন্সিলের এক বৈঠকে ইরানের উপপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোহাম্মদ হাফেজ হাকামি সতর্ক করে বলেন, স্টারলিংকের ব্যবহার ব্যাপক হলে তা দেশটির সাইবারস্পেস নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ‘কফিনে শেষ পেরেক’ হয়ে উঠতে পারে। কারণ, এ সেবা সরকারের নিজস্ব নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল নয়।
হাকামি বলেন, ২০১৭-১৮ সালের জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধিবিরোধী বিক্ষোভের পর সরকার টেলিগ্রাম বন্ধ করে দেয়। কিন্তু ২০১৯ সালের দেশব্যাপী বিক্ষোভের সময় প্রথমবারের মতো এক সপ্তাহের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ করতে হয়। ২০২২-২৩ সালের বিক্ষোভের পর হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম বন্ধ করা হয়। এরপর ২০২৬ সালের জানুয়ারির বিক্ষোভের সময় ইন্টারনেট প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, "এই প্রবণতা চলতে থাকলে পরবর্তী সংকটে আমাদের বিদ্যুৎও বন্ধ করতে হবে। কারণ, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে যাওয়ার নতুন মাধ্যম স্টারলিংক মৌলিকভাবেই আমাদের নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল নয়।"
২০২২ সাল থেকে ইরানে বিক্ষোভের ভিডিও বিদেশে পাঠাতে স্টারলিংক ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকারি বিধিনিষেধ সত্ত্বেও এ সেবার মাধ্যমে ভিডিও দেশের বাইরে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। এরপর থেকে কয়েক হাজার টার্মিনাল ইরানে পাচার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি।
দমন-পীড়নের ঝুঁকি, যন্ত্রের সীমিত প্রাপ্যতা ও ব্যয়ের কারণে ইরানের অধিকাংশ মানুষ এখনো স্টারলিংক ব্যবহারের সুযোগ পান না। তাদের নির্ভর করতে হয় দেশটির নিজস্ব ইন্টারনেট ব্যবস্থার ওপর। এতে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সেবা ও হাজার হাজার ওয়েবসাইট বন্ধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও ব্যাংকিং-সংক্রান্ত বিধিনিষেধও বৈশ্বিক ডিজিটাল সেবায় ইরানিদের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছে।
এসব বাধা এড়াতে অধিকাংশ ইরানি ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএনসহ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করেন। তবে এতে ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে, খরচ বাড়তে পারে এবং ব্যবহারকারীর তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সরকার ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে এসব পদ্ধতি ব্যবহার করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
যুদ্ধ তীব্র হলে ভবিষ্যতে ইন্টারনেটে আরো বিধিনিষেধ আসতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের পর সহিংসতা কিছুটা কমেছিল। তবে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ছাড়াই শেষ পর্যন্ত ওই সমঝোতার মেয়াদ শেষ হয়।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেন, সাইবার হামলা থেকে মানুষ ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার যুক্তিতে সরকারি সংস্থাগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে ইন্টারনেটের গতি কমাচ্ছে।
তিনি বলেন, "আমাদের তথ্যভান্ডার ও ইন্টারনেটভিত্তিক সেবার গুরুত্ব বিবেচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থাগুলোকে কখনো কখনো ইন্টারনেটের গতি কমাতে হয়। আমরা এ বিষয়টি অস্বীকার করছি না।"
কর্তৃপক্ষ কয়েকটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছে। তবে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে ইন্টারনেট নীতিমালা ও ব্যবস্থাপনা কাঠামোর একটি নথি প্রকাশ করা হয়। সাইবারস্পেস কাউন্সিলের সচিব আগামিরি জানান, প্রায় দুই বছর ধরে নথিটি বিবেচনায় ছিল। নিরাপত্তার উদ্বেগে এত দিন এটি গোপন রাখা হয়েছিল।
নথিতে কোনো প্ল্যাটফর্ম কবে চালু হতে পারে, সে সময়সীমা উল্লেখ নেই। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ ও বিক্ষোভের কারণে নীতিমালা বাস্তবায়ন স্থগিত রয়েছে।
নথি অনুযায়ী, গুগল প্লে ও হোয়াটসঅ্যাপের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ইউটিউব ও টেলিগ্রাম চালু করতে হলে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত শর্ত মেনে নিতে হবে। এই দুই প্ল্যাটফর্মের এমন শর্ত মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করা হচ্ছে।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ