প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পুলিশের এক কনস্টেবল স্বামীর মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে পারভীন আক্তার (১৯) নামের এক নববধূর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসী অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনে ফুঁসে উঠেছেন।
শনিবার দুপুরে উপজেলার লতিফপুর ছলিমনগর খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ওই গ্রামের নানা বয়সী শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য নাঈমুর রহমানের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মির্জাপুর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের ছলিমনগর গ্রামের শাহীন সিকদারের মেয়ে পারভীন আক্তারের সঙ্গে প্রায় দুই মাস আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার পূর্ব চান্দরা গ্রামের নাঈমুর রহমানের। উল্লেখ্য, নাঈমুর পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই নাঈমুর পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পারভীনকে ঘরে না তুলে নানাভাবে মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন এবং তালাকের জন্য চাপ দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন। স্বামীর এমন নির্যাতনের ফলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে গত বুধবার (৭ অক্টোবর) পারভীন বিষপান করেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু ঘটে।
মৃত্যুর আগে পারভীন একটি চার পৃষ্ঠার আবেগঘন সুইসাইড নোট রেখে গেছেন। ওই নোটে তিনি লিখেছেন, "আমার পরিবারের কোনো ভুল নাই, আমার পরিবার আমাকে অনেক সুখ দিছে। বড়লোকের মেয়ে আমি, কিন্তু অনেক সাধারণ-সুন্দরভাবে দিন কাটাইছি। আমার ফুলের মতো জীবন শেষ করল নাঈমুর।"
মানববন্ধনে বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মানসিক নির্যাতন ও আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়ে এক নববধূর জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁরা অভিযোগ করেন, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং প্রভাব খাটিয়ে তা আপস-মীমাংসার অপচেষ্টা চলছে। অবিলম্বে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এলাকাবাসী।
এ ঘটনায় নিহত নববধূর মা মালেকা বেগম বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মির্জাপুর থানায় অভিযুক্ত নাঈমুরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে, রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন