প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তিন মাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চন্দলাই গ্রামের বাসিন্দা ষষ্টি চন্দ্র বর্মন (৬৫)। যখন পরিবারের সদস্যরা প্রায় আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, তখন আলোচিত একটি সীমান্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে তার সন্ধান পাওয়া যায়। জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কথিত পুশ-ইনের শিকার হিসেবে উদ্ধার হওয়া ওই বৃদ্ধই নিখোঁজ ষষ্টি চন্দ্র বর্মন, বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তার পরিবার ও স্থানীয়রা। প্রায় ২৪ ঘণ্টা নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানের পর তাকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানা হেফাজতে নেয় বিজিবি। পরে বিজিবি নিশ্চিত করে, ষষ্টি চন্দ্র বর্মন একজন বাংলাদেশি নাগরিক।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোদাগাড়ী উপজেলার চন্দলাই (ললিতনগর) গ্রামের হিন্দুপাড়ার বাসিন্দা ষষ্টি চন্দ্র বর্মন পেশায় মৎস্যজীবী এবং কৃষক ছিলেন। তিনি এক ছেলে এবং তিন মেয়ের জনক। সন্তানেরা সবার বিয়ে হয়ে গেছে এবং তিনি মাছ ধরা ও কৃষিকাজ করে জীবনযাপন করছিলেন।
তবে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। তার পরিবারের সদস্যরা তাকে সবসময় নজরদারিতে রাখার চেষ্টা করলেও প্রায় তিন মাস আগে তিনি বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। এরপর আত্মীয়স্বজনের বাড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে তার খোঁজ চলছিল। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান মেলেনি। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় তিনি সম্ভবত ট্রেনে চড়ে নিজ এলাকা ছেড়ে দূরে চলে গিয়েছিলেন। তিনি কিভাবে সীমান্ত এলাকায় পৌঁছালেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ষষ্টি চন্দ্র বর্মনের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় ব্যবসায়ী বাসার আলী জানান, "পরিবারটি অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছিল। সবাই মিলে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। অবশেষে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর দেখে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত হন, সীমান্তে উদ্ধার হওয়া ওই বৃদ্ধই ষষ্টি চন্দ্র বর্মন।" সন্ধান পাওয়ার পর তাকে ফিরিয়ে আনতে ছোট ভাই ভবানী চন্দ্র বর্মন বকশীগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার আশায় এখন পরিবারের সদস্যরা প্রহর গুনছেন। এ ঘটনা নতুনভাবে সামনে এনেছে মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা এবং পারিবারিক সুরক্ষার বিষয়টি। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, "ওকে ফিরে পেলেই আমাদের সবচেয়ে বড় স্বস্তি হবে।" তিন মাসের অনিশ্চয়তা, সীমান্তের শূন্যরেখায় কাটানো দীর্ঘ সময় এবং পরিবারের অশ্রুসিক্ত অপেক্ষা- সব কিছু শেষে ষষ্টি চন্দ্র বর্মনের ফিরে আসার এই ঘটনা এখন গোদাগাড়ী এবং সারা দেশের মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন